তেলের ড্রামে লাশ ঢুকিয়ে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই, ৩ মাস পর উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অপহরণের ৩ মাস পর হেকমত আলী নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ ড্রামের ভেতর সিমেন্ট দিয়ে জমাটবাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কাঞ্চনের কুশাবো এলাকার দোকান কর্মচারী রফিকুল ইসলামের স্বীকারোক্তি ও তথ্য অনুযায়ী পুলিশ এই লাশ উদ্ধার করে।

জানা যায়, প্রায় তিনমাস আগে অপহৃত হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ব্যবসায়ী হেকমত আলী। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ড্রামের ভেতরে সিমেন্ট দিয়ে জমাটবাধা অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে তিনি যে কর্মচারীর বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যাচ্ছিলেন, সেই কর্মচারীই তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে। দোকান কর্মচারী রফিকুল ইসলামের স্বীকারোক্তি ও দেখানো তথ্য মোতাবেক মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিকেশন (পিবিআই)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কাঞ্চনের কুশাবো এলাকা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত হেকমত আলী পশ্চিম কালাদী গ্রামের মৃত. কদম আলীর ছেলে। তিনি গাউসিয়া মার্কেটে মোটর পার্সের ব্যবসা করতেন। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিদর্শক আবু সায়েম গণমাধ্যমকে জানান, চলতি বছরের ৪ এপ্রিল সকালে কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকার মৃত কদম আলীর ছেলে স্থানীয় ভুলতা এলাকার নুর ম্যানশন মার্কেটের মোটর সাইকেল ও গাড়ির পার্টস ব্যবসায়ী হেকমত আলী তার দোকানের ম্যানেজার ও তার আত্মীয় কেরাবো এলাকার ইয়াকুবে ছেলে রফিকুল ইসলাম সবুজের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে নিজ বাড়ি থেকে বের হন।

এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরপর গত ১৪ এপ্রিল নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী রোকসানা বেগম বাদী হয়ে ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম সবুজসহ চারজনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পিবিআই জানিয়েছে, রফিকুলের সহযোগীদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিকতর অগ্রগতির জন্য আদালত গত ১৮ জুন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জের ওপর দায়িত্বভার অর্পণ করে। গত ২৬ জুন মামলাটির তদন্তের জন্য পিআইবি এর এসআই আবু সায়েমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ৩০ মে আদালতের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ডে আনেন রফিকুল ইসলাম সবুজকে।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা। প্রায় ৮৮ দিন আগে ব্যবসায়ী হেকমতকে অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় হত্যার পর একটি তেলের ড্রামে ঢুকিয়ে ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে ঢাকা-বাইপাস সড়কের কুশাবো এলাকার একটি পুকুরে ফেলে রাখে হত্যাকারী রফিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রফিকুলের দেখানো সেই পুকুর থেকে ঢালাই করা ড্রামভর্তি লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পরনে পাঞ্জাবি ও শরীরের বিভিন্ন অংশ দেখে মামলার বাদী ব্যবসায়ীর স্ত্রী রোকসানা ও পরিবারের অন্যরা নিশ্চিত করেন এটা নিখোঁজ ব্যবসায়ী হেকমত আলীর লাশ

। নিহত ব্যবসায়ী হেকমতের স্ত্রী ও মামলার বাদী রোকসানা আক্তার জানান, দোকানের ম্যানেজার ও তার বোনের ছেলে রফিকুলের সঙ্গে ব্যবসার টাকা পয়সা নিয়ে প্রায় সময়ই ঝামেলা হতো হেকমত আলীর। টাকা পয়সা আত্মসাতের জন্যই তার স্বামীকে রফিকুল অন্যান্য সহযোগীর সহায়তায় হত্যা করেছে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply