দীর্ঘ ১৬ বছর পর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ওপরে পদ্মার পানি

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা:

কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীর পানি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ২টি ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রাম সম্পুর্ণ পানিতে তলিয়ে মানুষজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রতি ঘণ্টায় পানি বাড়ছে এক সেন্টিমিটার করে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পানি পরিমাপ করার পর দেখা যায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

কুষ্টিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, কুষ্টিয়ার পদ্মানদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি প্রবাহের বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় পানি প্রবাহের মাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ১৬ সেন্টিমিটার। ১৬ বছর পর এই রেকর্ড অতিক্রম করলো বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যার চরম অবনতি হচ্ছে। রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হওয়ার পর এবার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও সুইচ গেট ভেঙ্গে হু হুর করে পানি ঢুকে নতুন নতুন বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ উপচে পানি প্রবাহিত হতে থাকলে এলাকাবাসী বালির বস্তা দিয়ে তা কোনরকম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। তবে যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে বালির বস্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এছাড়াও উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে পদ্মার পানি প্রবেশ করে বিভিন্ন এলকা প্লাবিত হয়েছে। ভুরকা এলাকায় সুইচ গেট ভেঙ্গে বন্যার পানি ঢুকে ভুরকা, বালিরদিয়াড়, মাজদিয়াড়, বৈরাগীরচর উত্তরপাড়া ও বৈরাগীরচরের বিভিন্ন এলাকা প্লবিত হয়েছে। ডুবে গেছে কৃষকের ফসল ও বাড়ি-ঘর।

মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর জানান, তার ইউনিয়নের ভুরকা এলাকায় সুইচ গেট ভেঙ্গে পদ্মার পানি প্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে কৃষকের বিভিন্ন ধরণের ফসল ও বাড়ি-ঘর। ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন জানান, ফিলিপনগর বড় মসজিদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা দিয়ে বাঁধ উপচে বন্যার পানি প্রবেশ করতে থাকলে বালির বস্তা দিয়ে এলাকাবাসী তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

এদিকে পদ্মা নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে চিলমারী ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম এবং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ১৭টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে সব মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বাঁকী দু’টি গ্রামও আংশিক পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বন্যাকবলিত পানিবন্দী মানুষের দূর্ভোগ দূর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে পদ্মার শাখা গড়াই নদীতেও পানি বেড়েছে। তবে, এখনো গড়াই নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গড়াই নদীর পানি প্রবাহের বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। দুপুর ১২টায় পানি প্রবাহের মাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৩৭ সেন্টিমিটার। পানি বাড়ার কারণে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারির পর ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

এদিকে গড়াই নদীতে পানি বাড়ার কারণে রেনইউক বাঁধ, থানাপাড়া জিকে ঘাট ছাড়াও বড় বাজার এলাকার বেড়িবাঁধের পাশে বেশ কিছু ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, এই মুহুর্তে পানি বিপদসীমার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় কখনো ১ সেন্টিমিটার আবার কখনো ২/৩ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। আমরা প্রতিনিয়িত মনিটরিং করছি।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে টানা ২ঘন্টার মূষলধারার বৃষ্টিতে জেলার নিম্মাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে শহরের বিভিন্ন সড়কে হাটু সমান পানি জমে থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply