দ্বিতীয় ধাপে ছড়াচ্ছে করোনা: গদি নিয়ে টানাটানি সার্বিয়ান সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

সার্বিয়ায় দ্বিতীয় ধাপে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে। সরকার নতুন করে লকডাউন আরোপ করেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ করছে দেশটির মানুষ। তারা সংসদ ভবনেও হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে।করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগ এনে তারা সরকারের পদত্যাগ চেয়েছে। শুক্রবার রাতেও দেশটির পার্লামেন্টে দ্বিতীয় ধাপে ছড়াচ্ছে করোনা: গদি নিয়ে টানাটানি সার্বিয়ান সরকারেরহামলা চালানোর চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। সার্বিয়ার জনগণ করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচকে দায়ী করছে।

করোনায় সামাজিক দূরত্ব বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে শুক্রবার রাতে মধ্য বেলগ্রেডে দেশটির পার্লামেন্টের সামনে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ করে মানুষ।এসময় তারা পার্লামেন্টের দিকে পাথর ও বোতল ছুড়ে মারে। পুলিশি বাধা ও ধাতব বেড়া অপসারণ করতে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টাও করে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ শুরুতে পার্লামেন্টের সামনে থেকে ঠেলে সরিয়ে দেয় তাদের। পার্লামেন্টে ঢুকতে না পেরে বিক্ষোভকারীরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠে।

এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করেছে। বিক্ষোভকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন অনেক সাংবাদিক। একইদিন প্রেসিডেন্ট ভুচিচ জানান যে, করোনা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের ফলে রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ে হারানো নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। বিক্ষোভের কারণে সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘন হওয়ায় প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিন ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় সফরকালে ভুচিচ সাংবাদিকদের বলেন, যখন আমরা করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের মুখোমুখি, সে মুহূর্তে মানুষজনের এভাবে একত্রিত হওয়া ও বিক্ষোভ করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। তিনি বলেন, আমি জনগণের প্রতি অনুরোধ করব, দয়া করে আসুন আমরা আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে নজর দিই। জোরপূর্বকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ নয়। নির্বাচনের মাধ্যমে সেটি হবে। মহামারীর পর আপনারা যত ইচ্ছা চান বিক্ষোভ করতে পারেন।  

২০০০ সালে সার্বিয়ার শক্তিশালী নেতা স্লোবোদান মিলোসেভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।   
ফের সংক্রমণ শুরু হওয়ায় মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ভুচিচ বেলগ্রেডে নতুন করে তিনদিনের লকডাউনের ঘোষণা দিলে এদিন থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে প্রবল লকডাউন বিরোধিতার মুখে পড়ে পরবর্তীতে এই পরিকল্পনা তিনি স্থগিত করেন। শুধু দশজনের বেশি একত্রিত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার।  

এর আগে মে মাসে লকডাউন তুলে নিয়ে ফুটবল ম্যাচ চালু, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ও রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় দেশটিতে। এতে ভুচিচ সরকার সমালোচনার মুখে পড়ে। শুক্রবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনা ব্রানাবিচ ঘোষণা করেন যে, করোনায় সার্বিয়ায় এ দিন রেকর্ড ১৮ জনের মৃত্যু ঘটেছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮৬ জন। এখন পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন বলকান অঞ্চলের দেশটিতে। এর মধ্যে মারা গেহেন ৩৫২ জন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply