নতুন টানাপোড়েনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

নতুন টানাপোড়েনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

এই সার্কিন অঞ্চলে ভারত আবার একঘরে হয়ে গেল। এই একঘরে হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েনের কথা শোনা যাচ্ছে। গতকাল বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের টিকা উদ্যোগে সামিল হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ভারতকে বাদ দিয়ে সার্কভুক্ত সবগুলো দেশ এই টিকা উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। চীন দক্ষিন এশিয়ার জন্য টিকার মজুদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে এবং এই উদ্যোগে বাংলাদেশ ছাড়াও আছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা।

শুধুমাত্র ভুটান এবং মালদ্বীপ ছাড়া সার্কভুক্ত সব দেশই এই উদ্যোগের সঙ্গে সামিল হওয়াটা ভারতের কূটনীতির একটা বড় বিপর্যয়। বাংলাদেশের এই চীনা উদ্যোগে সামিল হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন টানাপোড়েনের মধ্যে পড়লো বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

কারণ এর আগে এই সার্ক অঞ্চলে সব ব্যাপারেই বাংলাদেশ ভারতের পক্ষে ছিলো এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে সার্কে পাকিস্তান একঘরে হয়ে গিয়েছিলো। তবে এবার চীনা উদ্যোগে সে ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটলো বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তবে বাংলাদেশের এই চীনা উদ্যোগে সামিল হওয়ার মূল কারণ ভারতকে একটা শিক্ষা দেওয়া। শুধু বাংলাদেশের চীনা উদ্যোগে সামিল হয়েছে তাই নয় টিকার বিকল্প উৎসের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে এবং বাংলাদেশ আরো বিকল্প উৎসগুলো থেকে সংগ্রহ করার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, শুধু টিকা নয় ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সম্পর্কের বেশ কিছু টানাপোড়েন চলছে এবং এই টানাপোড়েনগুলো সামনের দিনগুলোতে আরো প্রকট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যে সমস্ত বিষয় নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটার শঙ্কা রয়েছেতার মধ্যে অন্যতম হলো টিকা। তবে টিকা ছাড়াও যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে তা হলো, ১. সীমান্ত হ’ত্যা: বাংলাদেশ ভারতের কাছে বারবার সীমান্ত হ’ত্যা বন্ধের জন্য অনুরোধ করার পরও এখন পর্যন্ত সীমান্তে হ’ত্যা বন্ধ হয়নি। এটি বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর এবং বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে এখন একটু কঠিন অবস্থান নিচ্ছে।২. বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য: ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিজেপির সাবেক সভাপতি অমিত শাহ বাংলাদেশ সম্পর্কে আপত্তিকর, কুৎসিত এবং নেতিবাচক মন্তব্য বাংলাদেশ ভালোভাবে নেয়নি। বাংলাদেশের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বলছে যে, সরকার মনে করছে একদিকে ভারত বন্ধুত্বের কথা বলছেন অন্যদিকে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক আপত্তিকর কথা বলছে,এ দুটো একসাথে চলতে পারে না। এই বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার নেতিবাচকভাবে নিয়েছে এবং শুধু অমিত শাহ যে এখন এ ধরনের কথা বলেছেন তা নয় বিভিন্ন সময় ভারতের বিভিন্ন নেতা এই ধরনের কুৎসিত নোংরা মন্তব্য করেন যা আপত্তিকর এবং দুর্ভাগ্যজনক। আর এ কারণেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে।৩. তিস্তার দু`পাশে জলাধার নির্মাণ: ভারত বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছিল যে, তিস্তার দুই পাশে যেনো জলাধার নির্মাণ করা না হয়। চীনা অর্থায়নে বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তিস্তার দু`পাশের জলাধার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এই উদ্যোগের মধ্যে দিয়েবাংলাদেশ তিস্তার পানি সংকটের সমস্যার সমাধান করতে পারবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। শুকনো মৌসুমে জলাধারগুলোতে পানি থাকবে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply