নিজের জীবন দিয়ে নাতিকে বাঁচালেন কাশ্মীরের বশির

প্রতিদিন সকালের মতো গতকালও নাতিকে সঙ্গে নিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন কাশ্মীরেরর বাসিন্দা বশির। কিন্তু বিপদ যে মাঝরাস্তায় ছিল, সেটা তিনি জানতেন না। ভারতের সিআরপিএ জওয়ানদের কনভয়ে এলোপাথারি গুলি ছুড়তে শুরু করে স্বাধীনতাকামীরা। পাল্টা গুলি চালায় ভারতীয় সেনারাও। সেই গুলির মাঝে পড়ে যান সেই প্রবীণ মানুষটি। গুলি এসে লাগে তার শরীরে। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। গণমাধ্যমের খবর, নাতিকে বাঁচাতে নিজের শরীরই গুলির দিকে পেতে দিয়েছিলেন বশির।

জম্মু কাশ্মীরের সোপোর এলাকায় গতকাল সিআরপিএফের কনভয়ে হামলা চালায় সেখানকার স্বাধীনতাকামীরা। ভারতের একজন জওয়ান নিহত হন এতে, তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ন্বাধীনতাকামীদের গুলিতেই মারা গেছেন- ভারতীয় মিডিয়ায় এমন দাবি তোলা হলেও আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিষয়টি স্পষ্ট নয় কোন পক্ষের গুলিতে ওই প্রবণ মারা গেছেন। তবে গুলাগুলি থেমে যাওয়ার পর ভারতীয় সেনারা গিয়ে শিশুটিকে কোলে নেয়, সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করে। দাদুর মরদেহের সামনেই ঘোরাঘুরি করছিল শিশুটি। নাম আয়াদ। আনন্দবাজার বলছে, শিশুর মায়ের বাবা বশির। তার মানে আয়াদের নানা  তিনি।

ঘটনাস্থলে সবার আগে পৌঁছান সোপোর এলাকার এসএইচও আজিম খান। তিনি বলেন, সকাল ৮টা নাগাদ আমরা খবর পাই ওই এলাকায় তখন ব্যাপক ভিড় ছিল। প্রচুর গাড়ি চলে ওই রাস্তা দিয়ে। স্বাধীনতাকামীরা উঁচুতে থাকা একটি মসজিদের ওপরের দিকে থেকে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।

তিনি আরো জানান, আমাদের তিনজন জওয়ান আহত হয়। সেই সময় ওই বৃদ্ধ গুলিবিদ্ধ হন। তারপরই আমরা দেখতে পাই এক শিশু ওই বৃদ্ধের মৃতদেহের পাশে ঘুরছে। আমরা তখনই ওকে বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ি। স্বাধীনতাকামীরা তখনো গুলি ছুড়ে যাচ্ছিল। শিশুটিকে ওখান থেকে বের করে আনা আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু আমরা যে করেই হোক ওকে বাঁচাবো বলে ঠিক করি।

তিনি আরো বলেন, সবার আগে আমরা ওই জায়গাটা ব্লক করার চেষ্টা করি। যাতে ওদের গুলি আটকানো যায়! সেই সময় সিআরপিএফ ও জম্মু পুলিশের কয়েকটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি এনে জায়গাটা ব্লক করা হয়। তারপর আমরা বাচ্চাটিকে উদ্ধার করি। ওকে তার বাড়ির লোকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে তার দাদুকে বাঁচাতে না পারার আফসোস রয়েছে আমাদের।

-কালেরকন্ঠ সংবাদ

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply