নিন্দার ঝড়, জরুরি ছাড়াসব ধরনের চিকিৎসা বন্ধ

সকালের কণ্ঠ:

রোগীর স্বজনদের হাতে মারধরের শিকার হয়ে খুলনার চিকিৎসক মো. আব্দুর রকিব খানের (৫৯) মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মারধরের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সিজারে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মারা যাওয়া গৃহবধূর ক্ষুব্ধ স্বজনরা তাঁকে চোখে-মুখে ব্যাপক আঘাত করছেন। একপর্যায়ে দেয়ালে তাঁর মাথা ঠুকে দেওয়া হয়। পরদিন ১৬ জুন মঙ্গলবার তিনি মারা যান। ডা. রকিবকে মারধরের এই ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত কোভিডসহ জরুরি চিকিৎসা ছাড়া অন্য সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), খুলনা জেলা শাখা।

খুলনা সদর থানার ওসি আসলাম বাহার বুলবুল গতকাল বুধবার জানান, এরই মধ্যে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডা. রকিব খুলনা মহানগরীর গল্লামারী এলাকার রাইসা ক্লিনিকের পরিচালক ছিলেন।

এই করোনাকালে যেখানে চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন, সেখানে এমন ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। এ ঘটনায় সব মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। অবশ্য কেউ কেউ সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে অহেতুক অপারেশন করার প্রবণতারও সমালোচনা করেছেন। তাই বলে চিকিৎসককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারছেন না।  

ডা. রকিবকে মারধরের ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর নানাজন নানা মন্তব্য করেছেন। বেশির ভাগ মন্তব্যে নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রকাশ।

গতকাল বুধবার জরুরি সভা করে এ ঘটনার নিন্দাজানিয়েছে বিএমএ খুলনা জেলা শাখা। পরে কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে তারা। এ সময় জানানো হয়, অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত কভিডসহ জরুরি চিকিৎসা কেবল দেওয়া হবে। এর বাইরে সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আজ বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে।

বিএমএ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কর্তব্যরত অবস্থায় চিকিৎসকদের ওপর হামলা নতুন নয়। কিন্তু সরকার-প্রশাসন চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘রোগীর স্বজনদের বুঝতে হবে, কোনো চিকিৎসক ইচ্ছা করে রোগী মেরে ফেলেন না। চিকিৎসায় ভুলও হতে পারে। এসব মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তাহলেই চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন।’ এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

নগরীর মোহাম্মদনগরের বাসিন্দা আবুল আলীর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী শিউলী বেগমকে গত ১৪ জুন ডা. রবিকের রাইসা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেলে সিজারে সন্তান জন্ম দেন তিনি। রাতে তাঁর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরদিন ১৫ জুন সকালে তাঁকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে শিউলী মারা যান। ওই দিন রাত ৯টার কিছু আগে তাঁর ক্ষুব্ধ স্বজনরা ডা. রবিকের ওপর চড়াও হন। পরদিন ১৬ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply