পরকীয়ায় জড়িয়ে প্রাণ গেল স্কুল শিক্ষিকার

নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা:

স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে পরকীয়ায় জড়িয়ে ফরিদা ইয়াসমিন (৩৫) নামের এক স্কুল শিক্ষিকা আত্মহ ত্যা করেছেন। গত বুধবার ঢাকার ইসলামিয়া প্রাইভেট হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি নাঙ্গলকোট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ও হরিপুর গ্রামের ইতালি প্রবাসী সাফায়েত হোসেন ওরফে বড় সাফার স্ত্রী।

জানা যায়, ১৬ বছর পূর্বে সাফায়েত হোসেন ওরফে বড় সাফার সঙ্গে রায়কোট দক্ষিণ ইউপির বাসন্ডা গ্রামের এয়ার আহম্মদের মেয়ে ফরিদা ইয়াসমিনের প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সাফায়েত হোসেন প্রবাসে থাকার সুযোগে ফরিদা ইয়াসমিন পাশ্ববর্তী প্রতিষ্ঠান নাঙ্গলকোট এআর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক ইসমাইল হোসেন ফারুকীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ফরিদা তাদের দুজনের সম্পর্কটি গভীর করার জন্য নিজের মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য ইসমাইলকে বাড়িতে নিয়ে যান। প্রায় দুই বছর ধরে ইসমাইল-ফরিদার অনৈতিক সম্পর্ক চলতে থাকে। ইসমাইল পৌর সদরের শ্রীহাস্য গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে ও নাঙ্গলকোট বাজারের এশিয়ান সুজের সত্ত্বাধিকারী।

গত কোরবানি ঈদের পর মেয়ের মাধ্যমে পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পেরে বাড়িতে চলে আসেন স্বামী সাফায়েত। স্বামী-স্ত্রী মধ্যে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। একপর্যায়ে সোমবার সকালে বিষপান করে আত্মহ ত্যার চেষ্টা করে ফরিদা। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি ঘটায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর ইসলামিয়া প্রাইভেট হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করানো হয়। দুই দিনের মাথায় বুধবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার ফরিদা ইয়াসমিনের মৃত্যুর খবর শোনার পর পরেই ইসমাইল হোসেন ফারুকী পলাতক রয়েছে। নাঙ্গলকোট থানার ওসি নজরুল ইসলাম পিপিএম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply