পাশবিক নিষ্ঠুরতাঃ গাইবান্ধায় ৬ গরু পুড়িয়ে হত্যা

সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধাঃ

সুন্দরগঞ্জে প্রতিপক্ষের আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে বাদীর গোয়ালঘরে আগুন দিয়ে ছয়টি গরু পুড়িয়ে মেরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আগুনে আরও তিনটি গরু দগ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় ছয় জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। এরমধ্যে প্রধান আসামি আবদুল খালেককে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী আতোয়ার বাদী হয়ে ছয় জনের নামোল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও দুই-তিন জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। মামলায় আবদুল খালেক তার ছেলে সফিকুলসহ ছয় জনকে আসামি করা হয়।

এরআগে, গভীর রাতে সুন্দরগঞ্জের দহবন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম ঝিনিয়া গ্রামের মেহের আলীর বাড়ির গোয়ালঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মেহের আলী ও তার ছেলে আতোয়ার জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ করে গোয়ালঘরে গরু হাঁকডাক ও লাফালাফি করতে থাকে। এসময় ঘর থেকে বের হয়েই গোয়ালঘরে আগুন দেখতে পান। পরে পরিবার ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করে। এলাকাবাসী দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও পুড়ে মারা যায় ছয়টি গরু। আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয় আরও তিনটি গরু।

তারা আরও জানান, ঈদ উপলক্ষে বিক্রির জন্য গরুগুলো পালন করা হচ্ছিলো। গোয়ালঘরসহ ছয়টি গরু পুড়ে ছাই হওয়ায় অন্তত চার লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে তাদের। বর্তমানে আসামিদের ভয়ে পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

মামলার বাদী আতোয়ারের অভিযোগ, প্রতিবেশী আবদুল খালেক ও তার ছেলে সফিকুল কিছুদিন আগে কথা কাটাকাটির জেরে বাবা মেহের আলী, ভাই ধলুসহ তাদের পরিবারের লোকজনকে বেদম মারধর করে আহত করে। এ ঘটনায় আবদুল খালেক ও ছেলে সফিকুলসহ পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। সম্প্রতি আসামিরা আদালত থেকে জামিনে এসে ক্ষুদ্ধ হয়ে বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকে। তারাই এ কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান জানান, পূর্ব বিরোধ ও মারধরের মামলার জেরে আসামিরা জামিনে এসে গোয়াল৬ ঘরে আগুন দেয় বলে অভিযোগ পেয়েছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরির্দশন ও প্রাথমিক তদন্তে তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার প্রধান আসামি আবদুল খালেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply