পেকুয়ায় পিতার স্বীকৃতির দাবীতে কন্যার সংবাদ সম্মেলন

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত আলীকে পিতা হিসাবে স্বীকৃতি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কন্যা ছাবেকুন নাহার। গত ১৭ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে সাবেকুন নাহার তার বাড়িতে উক্ত সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে ছাবেকুন নাহার বলেন,’ আমার মা আজেরা খাতুন রাজাখালীর সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত আলীর বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতো, তখন শাহাদাত আলী বিয়ের প্রলোভনে ফেলে কাবিননামা ছাড়া আমার মাকে বিয়ে করেন। পরে আমার জন্ম হয়। তখন আমার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। কিন্তু আমাকে মেয়ে স্বীকৃতি না দিয়ে আমাকে অন্য জায়গায় দত্তক দিয়ে দেয়। এর পর কিছু দিন আমার মাকে বাড়িতে রাখলেও পরে তাকে শাহাদাত সাহেব এলাকা ছাড়া করেছিল। শিশুকাল থেকে শুরু করে অদ্যাবধি পযন্ত পিতার ডাকার স্বাদ পাইনি। পিতা সাহাদাত আলীর পাপের বুঝা আমাকে বহন করতে হবে কেন? আমার কোন অপরাধ নাই।

সংবাদ সম্মেলনে ছাবেকুন নাহার আরো বলেন,
আমার পিতার ভুলের কারণে সব জায়গায় মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারছি না। বিভিন্ন সময় সমাজের কাছে হেনেস্তা র শিকার হয়েছি। আমি পৃথিবীতে আমার পিতার পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই। যে পিতা আমাকে জন্ম দিয়ে পৃথিবী দেখিয়েছে, একবারের জন্য হলেও বাবা বলে তাঁকে ডাকতে চাই। আমার পিতার স্বীকৃতির জন্য আমি বিজ্ঞ আদালতে মামলা করি গত২০১৯ ইংরেজী। মামলা করার কারণে শাহাদাত আলী আমার মাকে হুমকি অব্যাহত রেখেছে।

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন করছি। আমি যাতে আমার পিতার স্বীকৃতি ফিরে পাই। আমার পিতার সম্পদের ভাগ চাই না। চাই শুধু পিতার ডাকার স্বীকৃতি । আমার ছেলে যখন আমাকে বলে মা আমার নানা কে? তখন আমার দুই চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে যায়। তখন কিছু বলার কিছু থাকেনা।

স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ মুরব্বি বলেন,’আজেরা খাতুন সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত আলীর বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। তখন শাহাদাত আলী আজারাকে বিয়ে করেন। আজেরার গর্ভ থেকে যখন ছাবেকুন নাহার জন্ম গ্রহণ করে তখনই আজারাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় শাহাদাত আলী!

কিন্তু ছাবেকুন নাহারকে মেয়ে স্বীকৃতি না দিয়ে অন্য জায়গায় দত্তক দিয়ে দেয়।এর পর কিছু দিন আজেরাকে বাড়িতে রাখলেও পরে তাঁকে এলাকা ছাড়া করে। এই ঘটনায় পিতার স্বীকৃতি সহ সাহাদাত আলীর বিচারের দাবী করেন তাঁরা।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply