পেকুয়ায় সরকারী খাস জমি বিক্রি করে লাখ টাকা পকেটে নিল প্রতারক চক্র

পেকুয়া নিউজ২৪:

কক্সবাজার পেকুয়ায় সরকারী জমিতে নির্মিত হচ্ছে ৩ টি অবৈধ স্থাপনা। সহকারী কমিশন ভূমির মালিকানাধীন ওই জমি বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা মূল্যে। ১ টি প্রভাবশালী চক্র ওই জমি বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের ওই অর্থ। জবর দখলকারী ৩ টি পরিবার সরকারী খাস জায়গায় দিব্যি ও রাতারাতি তৈরী করছে অবৈধ বসতিসহ স্থাপনা। এতে করে সরকারী প্রায় ৪০ শতক জমি বেহাত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ননজুড়িসিয়াল স্ট্যাম্পমূলে সরকারী খাস জমি বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রেতা হাতিয়ে নিয়েছেন সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা। জমি সরকারের খাস খতিয়ানভূক্ত হলেও নন দালিলিক জমি বিক্রিতে স্বাক্ষী হয়েছেন ২ জন ইউপি সদস্য। সুত্র জানায়, জবরদখলকারী চক্র ও দুই ইউপি সদস্যের ঐক্যমতের ভিত্তিতে এ সব জমিতে জবর দখল প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হচ্ছে। উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের মাতবরপাড়া গ্রামে সরকারী খাস জমি জবর দখলের মহোৎসব চলছে।

এ দিকে ৪০ শতক জমি বেহাত হওয়ার পরেও সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের নেই কোন কার্যকর পদক্ষেপ। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে বিস্মিত ভাব লক্ষ্য করা গেছে। সরকারী জায়গা বেহাত হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উত্তর রাজাখালীর মাতবরপাড়ায় জায়গা জবর দখল ও এর প্রতিহত করাকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান তৈরী হয়েছে।

সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ সরকারী জায়গা জবর দখল রুখতে ঐক্যমত হয়েছে। তারা মুঠোফোনে বিষয়টি পেকুয়ার প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। তবে স্থাপনা নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও নেই প্রশাসনিক তৎপরতা। এতে করে সাধারন মানুষের মাঝে প্রশাসনের ও কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভূমিকায় প্রশ্নবিদ্ধভাব তৈরী হয়েছে। ১৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দুপুরের দিকে সরেজমিন পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের উত্তর ও পশ্চিমপ্রান্তের গ্রাম মাতবরপাড়ায় সরকারী জায়গা জবর দখলের মহোৎসব চলছে।

স্থানীয়রা জানান, মাতবরপাড়া গ্রামের মৃত গোলাম কাদেরের ছেলে দিদারসহ তার পরিবারের ভাই বোনরা ৪০ শতক জায়গা বিক্রি করেছে। জায়গাটি সরকারী ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত। দিদারসহ গোলাম কাদেরের ওয়ারিশরা ৪০ শতক জায়গা বিক্রি করেছেন ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায়। ননজুড়িসিয়াল স্ট্যাম্পমূলে ওই জায়গা বিক্রি হয়েছে।

উত্তর সুন্দরীপাড়ার মৃত মোজাফ্ফর আহমদের দু’পুত্র মোহাম্মদ সেলিম, এরশাদ উল্লাহ ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ ফারুক মিলে ৪০ শতক জায়গা খরিদ করে। দাতা মোহাম্মদ দিদার গং খাস জায়গার অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তারা ওই জায়গা রক্ষনাবেক্ষন করতেন। তবে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর থেকে কোন ধরনের অনুমতি বা লীজ নেননি। জমি নাল শ্রেনীভূক্ত। প্রতি সনে ওই জমিতে লবণ ও চিংড়ি উৎপাদন হত। স্থানীয়রা জানান, দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে স্ট্যাম্পমূলে চুক্তিনামাও সম্পাদিত হয়। ননজুড়িসিয়াল স্ট্যাম্পমূলে বিক্রিনামার স্বাক্ষী হন রাজাখালী ইউপির ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনজুর আলম, ১ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ওসমান গণি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জমি বিক্রির স্বাক্ষী হয়েছেন মূলত টাকা নিয়ে দু’ইউপি সদস্য। জবর দখলকারী মৃত মোজাফ্ফর আহমদের ছেলে সেলিমের স্ত্রী এ প্রতিবেদককে জানান, জায়গাটি আমরা দিদারের নিকট থেকে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছি। মনজুর মেম্বার ও ওসমান মেম্বার কাগজের স্বাক্ষী। আমরা সরকারী ও অন্য কিছু বুঝিনা। টাকা দিয়ে জায়গা নিয়েছি। সেখানে ঘর করছি। ঘর নির্মাণকারী এরশাদ উল্লাহও জায়গা টাকা দিয়ে কিনে নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন। জায়গার বিক্রেতা মৃত গোলাম কাদেরের ছেলে দিদার জানান, আমরা এ জায়গা ভোগ করছি। টাকার প্রয়োজন হওয়ায় বিক্রি করে দিয়েছি। পেকুয়ার সহকারী কমিশন ভূমি মীকি মারমা জানান, সরেজমিনে পরিদর্শনে যাব।

সরকারী জায়গা জবর দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আবসার জানান, আসলে বিষয়টি মাত্র জানলাম। আপনাদেরকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply