প্রাথমিক শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশের সব প্রাথমিক পুরোপুরি খোলা রাখতে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ২১ আগস্ট সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। শিক্ষকরা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিদর্শন করবেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। ক্লাস্টারভিত্তিক প্রতিটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন সহকারী শিক্ষা অফিসাররা। পরিদর্শনবিহীন কোনও বিদ্যালয় থাকবে না।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার নির্দেশনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশনাঃ

১/ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা জেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ইন্সট্রাক্টরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসাররা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ক্লাস্টারের সমস্ত বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন করবেন।

২/ আগামী সাত দিনের মধ্যে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ, শ্রেণি কক্ষ ও অন্যান্য কক্ষসহ ভবন, আসবাবপত্র, ওয়াশ ব্লক, টিউবয়েল, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বিদ্যালয় পাঠদান উপযোগী করতে হবে।

৩/ শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম যেমন— নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, শ্রেণি পাঠদান পরিচালনা, ওয়ার্কশীট বিতরণ, ওয়ার্কশীট সংগ্রহ, রেজিস্ট্রারে রেকর্ড এন্ট্রি এবং শ্রেণিভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ, এসএমসি সভা আয়োজনসহ সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন করবেন। বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও অফিস সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যালয় চালু থাকবে।

৪/ শিক্ষকরা গ্রুপভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হোম ভিজিট করবেন। শিক্ষকরা হোম ভিজিটের মাধ্যমে কয়জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তার তথ্য প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসারের নিকট জমা দেবেন। সহকারী শিক্ষা অফিসাররা ক্লাস্টারভিত্তিক ভিজিটের তথ্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট জমা দেবেন। সবশেষ উপজেলা শিক্ষা অফিসার হোম ভিজিটের তথ্য জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠাবেন।

৫/ থানা শিক্ষা অফিসার এবং সহকারী ইন্সট্রাক্টররা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শিখন ঘাটতি পূরণে শিক্ষকদের সহায়তা করবেন এবং শিখন ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় একাডেমিক পরামর্শ দেবেন।

৬/ গুগল মিটের ক্লাস চলমান রাখতে হবে। গুগল মিটে ক্লাস নেওয়ার উদ্দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পিটিআইয়ের ইন্সট্রাক্টর, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা আইসিটি পুলের সদস্য এবং ডিজিটাল স্মার্ট ক্লাসরুমে স্থাপিত বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের সহায়তা নিতে হবে।

৭/ শিক্ষকরা ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সহায়তায় রুটিন প্রণয়ন করে প্রতিদিন গুগল মিটে ক্লাস পরিচালনা করবেন। গুগল মিটে ক্লাস পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলা, গলিত ও ইংরেজি বিষয়কে প্রাধান্য দিতে হবে। সহকারী শিক্ষা অফিসাররা বিদ্যালয়ের রুটিন সংগ্রহ করে সমন্বয় করে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে জমা দেবেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার রুটিন সংগ্রহ করে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠাবেন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply