প্রেমিকার বাড়ির সামনে প্রেমিকের অবস্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : প্রেমের জন্য মানুষ কীই না করতে পারে। আর ধরনায় বসা তো মামুলি ব্যাপার। ইতিমধ্যেই প্রেমকে পেতে ধরনায় বসানোর রাস্তা বাতলে দিয়েছেন একাধিক প্রেমিক ও প্রেমিকা। এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভাবার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর শহরের কাটানধারেও ঘটলো একই ঘটনা। দীর্ঘ ন’বছরের সম্পর্কের পরেও প্রেমিকা বিয়ে করতে অস্বীকার করায় প্রেমিকার বাড়ির সামনে ধরনায় বসলেন যুবক। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসাহী জনতা ঘটনাস্থলে যান। প্রেমিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় বিষ্ণুপুর থানার পুলিশও।

পুলিশ জানিয়েছে, বিষ্ণুপুরের কুরবান তলার বাসিন্দা রকি রজক এদিন দুপুর থেকে ‘প্রেমিকা’ তনুশ্রী ঘোষের বাড়ির সামনে ধরনায় বসেন। তাঁর হাতে ছিল ‘আমার ন’বছর ফিরিয়ে দাও’ লেখা প্ল্যাকার্ড। তাঁদের দু’জনের বেশ কিছু ছবি ছিল রকির কাছে। প্রেমিক রকি রজকের দাবি, স্কুলে পড়াশুনার সময় থেকে তাঁর ও তনুশ্রীর সম্পর্ক। কিন্তু হঠাৎ বাবা মার যাওয়ায় তিনি মাঝপথে পড়াশুনা ছাড়তে বাধ্য হন। বর্তমানে ব্যাবসা করে সংসার চালান তিনি। দীর্ঘ ন’বছরের সম্পর্কের পর প্রেমিকা তনুশ্রী ঘোষ তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করছেন। গত ২ অক্টোবর তাঁদের মধ্যে শেষ  কথা হয়। এরপর দুরত্ব বাড়াতে শুরু করে। সম্প্রতি বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ায় তনুশ্রী বিয়ে করতেও অস্বীকার করছেন বলে অভিযোগ।

প্রেমিক রকি রজকের বন্ধু সুমন্ত দাস রজকের দাবি, এই দু’জনের প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দু’জন দু’জনের বাড়ি নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এমনকী গত কয়েক বছর ধরে তনুশ্রীর পড়ার খরচ, মোবাইল, জামাকাপড়-সহ একাধিক জিনিস রকি দিয়েছেন তনুশ্রীকে। এরপর তনুশ্রী বিয়ে করতে অস্বীকার করতেই রকি এদিন দুপুর থেকে তনুশ্রীর বাড়ির সামনে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ধরনায় বসেন। তবে তনুশ্রীর মা মালতী ঘোষ বলছেন, ওই যুবক সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছে। তাঁর মেয়েকে ওই রকি রজক প্রায়শই বিরক্ত করতেন। কিন্তু রকির সঙ্গে তনুশ্রীর ওই ঘনিষ্ট মুহূর্তের ছবি কোথা থেকে এল, সে প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তাঁর দাবি, মেয়ের বদনাম ছড়াতেই ওই যুবক এহেন কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

এদিন দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রেমিকার বাড়ির সামনে ধরনায় বসে ছিলেন রকি। তিনি জানিয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত তনুশ্রী তাঁকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি ধরনা চালিয়ে যাবেন। রকির এহেন কাণ্ডে শোরগোল পড়ে গিয়েছে মন্দিরনগরী বিষ্ণুপুরে। তবে রকির এই কাণ্ডের পর বিষ্ণুপুরের বাসিন্দারা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছেন। একাংশ মানুষের বক্তব্য মালতী দেবীর দাবি অনুযায়ী, রকি দীর্ঘদিন ধরে তনুশ্রীকে বিরক্ত করতেন। তবে সেই অভিযোগ কেন থানায় তাঁরা এতদিন জানাননি? আর একাংশ বলছেন, ভালোবাসার সেই মানুষটির প্রতি সম্মান, পারস্পরিক বোঝাপড়াই সম্পর্কের উন্নতি ঘটায়। এক্ষেত্রে জোর করে ভালোবাসা আদায় করার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে ওই যুবক।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply