ফুলমিয়ার দিনলিপি ( পর্ব-২)

ফোনের পেছনের মানুষকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে ফুলমিয়া ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে অফিসে যায় আর এসে সংসার নিয়ে ব্যস্ততা। এভাবেই চলছিল দিন। ঐ ব্যক্তির ফোন আসে নি বেশ কিছুদিন হচ্ছে। ফুলমিয়া বিষয়টা ভুলেও গিয়েছিল। এরমধ্যে মিতু বিভিন্ন চাকরীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শুরু করে। কয়েকটি পরীক্ষা দেয়ার পর একটি ব্যাংকে অফিসার পদে চাকরী ও হয়ে যায়।
আজ মঙ্গলবার,মিতুর চাকরীজীবনের প্রথম দিন। কেমন জানি অন্যরকম লাগছে তার। বারবার ফুলমিয়াকে বলছে সাথে যেতে। শত হলেও জীবনসঙ্গী,আর তার কারণেই এতদূর আসা। কিন্তু ফুলমিয়া এটা-ওটা বলে গেল না। মিতু চাকরীতে যোগদান করলো। দুজনেই সকালে বের হয় আর সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে। তারপর খুনসুটি, বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক – অপ্রাসঙ্গিক আলাপে জীবন যেন আরো গতি পেল!
এভাবে দিন যায় মাস ও যায়। হঠাৎ একদিন সেই নাম্বার থেকে আবার ফোন আসল। মাঝখানে অনেকদিন ঐ নাম্বার থেকে ফোন না আসায় ফুলমিয়া প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। তাই সে ফোন কলটি রিসিভ করলো। আবার,সেই একই প্রশ্নগুলো করা শুরু করলো ফোনকারী ব্যক্তি!এবার ফুলমিয়া প্রথমে একটু নার্ভাস হলেও পরে নিজেকে গুছিয়ে নিল এবং বললো আপনার পরিচয় কী? আর কী চান আপনি?এই কথা শোনার পর ফোনকারী ব্যক্তি হঠাৎ অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। ফুলমিয়ার মনে হল, এই রকম কুৎসিত হাসি সে জীবনেও শোনে নি! আর যে ব্যক্তির হাসি এত বাজে, সে নিশ্চয় মানুষ হিসেবেও বাজে।
অফিসে বসে আছে ফুলমিয়া। কাজে মন নেই। কানে শুধু সেই হাসি বাজছে। ঐ ব্যক্তির পরিচয় আজকেও জানতে পারে নি সে। হাসতে হাসতে ফোন কেটে দেয় সেই ব্যক্তি।পরে ফুলমিয়া ফোন করতেই দেখে ঐ নাম্বার বন্ধ।এবার কি করা উচিৎ তাই ভাবছিল ফুলমিয়া! মিতুর সাথে বিষয়গুলো শেয়ার করবে বলে সিদ্ধান্ত নিল সে।
কিন্তু অফিস থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলো ফুলমিয়া।ফোন কোম্পানীতে এক বন্ধু আছে তার।তাকে বললে ঐ নাম্বারটির বিস্তারিত জানা যাবে।তাই সে বাসায় আর এসব নিয়ে মিতুর সাথে আলোচনা করে নি। রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ফুলমিয়া। মিতুকেও ডাকল কিন্তু বউ জানালো একটু অফিসের কাজ আছে এবং তা শেষ করেই সে ঘুমাবে।
পরেরদিন ঐ বন্ধুকে ফোন করে সব জানালো। বন্ধুটি প্রথমে না করলেও পরে ফুলমিয়ার চাপাচাপিতে নাম্বারটির বিস্তারিত নাকে মেইলে পাঠালো। কিন্তু তা দেখে ফুলমিয়ার মনে হল যেন সে ভুত দেখছে! কারণ একটি কলেজ পড়ুয়া মেয়ের নামে এই নাম্বারের সীমটি নিবন্ধিত।অর্থাৎ ভুয়া আইডি দিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে। ফলে ফুলমিয়া আসল ফোনকারীর পরিচয় জানতে ব্যর্থ হল।
এর কয়েকদিন পর,ফুলমিয়া তখন ঘুমাচ্ছিল,কিসের একটা আওয়াজে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। ফুলমিয়ার একটা অভ্যাস হলো ঘুম ভাঙলেই মোবাইল হাতে নিয়ে সময় দেখে। আজ ও তাই করলো। ঠিক রাত ২টা ৩২ মিনিট। মোবাইল রাখতে গিয়ে তার খেয়াল হল মিতু পাশে নেই। তার মনে হলো হয়ত ওয়াশরুমে গিয়েছে। প্রায় দশমিনিট পর ও মিতু না আসায় ফুলমিয়ার মনে একটা খারাপ চিন্তা উঁকি দিয়ে গেল! সে উঠলো আর ওয়াশরুম দেখলো,না মিতু নেই। বেডরুম পার হয়ে রান্নাঘরের দিকে যেতেই চাপা হাসির আওয়াজ শুনতে পেল। সে খেয়াল করলো ব্যালকনি থেকে এই আওয়াজ আসছে। ফুলমিয়া ঐদিকে গেল এবং যা দেখলো তা দেখার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না!

( চলবে )

শেখর বড়ুয়া
লেকচারার, দর্শন
কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply