বঙ্গবন্ধু পুত্র শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মদিন আজ

সিবিএল২৪ ডেস্ক নিউজ:

আজ ১৮ অক্টোবর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৫তম জন্মদিন । ১৯৬৪ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন শেখ রাসেল।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বার্ট্র্যান্ড রাসেলের ভক্ত ছিলেন, রাসেলের বই পড়ে বেগম মুজিবকে বাংলায় ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। বেগম মুজিব রাসেলের ফিলোসফি শুনে শুনে এতো ভক্ত হয়ে যান যে নিজের ছোট সন্তানের নাম রাখেন রাসেল। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রাসেল ছিলেন সবার আদরের ধন। শেখ রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ১৯৭৫ সালে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল শেখ রাসেল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকদের নির্মম বুলেটের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বঙ্গবন্ধুর এই শিশুপুত্র শেখ রাসেল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নরপিচাশরা নিষ্ঠুরভাবে শিশু শেখ রাসেলকেও হত্যা করে। পিতা, মাতা, চাচা, ভাই-ভাবীকে শিশু রাসেলর চোখের সামনে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়। এরপর মায়ের কাছে নিয়ে যাবার নাম করে নরপিচাশরা তাকেও গুলি করে হত্যা করে। সেদিন শিশু রাসেল বাবা বঙ্গবন্ধু মুজিব এবং মা বেগম মুজিবের সাথে দোতালার একটি রুমে ঘুমিয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধুহত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী প্রত্যক্ষদর্শী বঙ্গবন্ধুর বাড়ির কাজের ছেলে আবদুর রহমান শেখ উরফে রমার বর্ণনায়, “আর্মিরা শেখ নাসের, রাসেল ও আমাকে নিচতলায় এনে লাইনে দাঁড় করায়। সেখানে সাদা পোশাকে এক পুলিশের লাশ দেখতে পাই। নিচে শেখ নাসেরকে লক্ষ্য করে আর্মিরা জিজ্ঞেস করে, তুমি কে? পরিচয় দিয়ে তাঁকে নিচতলায় বাথরুমে নিয়ে যায়। একটু পরে গুলির শব্দ ও ‘মাগো’ বলে চিৎকার শুনতে পাই। বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র শেখ রাসেল মার কাছে যাবে বলে তখন কান্নাকাটি করছিল এবং পিএ মহিতুল ইসলামকে ধরে বলছিল, ভাই আমাকে মারবে না তো? এ সময় এক আর্মি শেখ রাসেলকে বলে, চল তোমার মার কাছে নিয়ে যাই। তাকেও দোতালায় নিয়ে যায়। একটু পরেই আর্তচিৎকার ও গুলির শব্দ শুনতে পাই।
পরে জানা গেছে, মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ঘৃণ্য খুনীরা শেখ রাসেলের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
মেজর আলাউদ্দিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশু রাসেলের লাশ মূল বেডরুমে তার দুই ভাবির মাঝখানে পড়ে ছিল। সম্ভবত আগুনে তার পা ঝলসে যায়। মাথা উড়ে গিয়েছিল। পরনে ছিল হাফপ্যান্ট। একটি লুঙ্গিতে মোড়ানো ছিল শেখ রাসেলের লাশ।
১৯৭৫-এর পনের আগস্ট বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার নিচিহ্ন করতেই বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরা শেখ রাসেলকে হত্যা করে।

শহীদ শেখ রাসেল

শহীদ শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভবুদ্ধিবোধ সম্পন্ন মানুষদের কাছে ভালবাসার নাম। অবহেলিত, পশ্চাৎপদ, অধিকার বঞ্চিত শিশুদের আলোকিত জীবন গড়ার প্রতীক হয়ে গ্রাম-গঞ্জ-শহর তথা বাংলাদেশের বিস্তৃর্ণ জনপদ-লোকালয়ে শেখ রাসেল আজ এক মানবিক সত্ত্বায় পরিণত। মানবিক চেতনা সম্পন্ন মানুষেরা শেখ রাসেলের বিয়োগে দুঃখ-বেদনাকে হৃদয়ে ধারণ করে বাংলার প্রতিটি শিশু-কিশোর তরুণের মুখে হাসি ফুটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজ ১৮ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদ শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply