বসন্তের উৎসব ঘিরে জমজমাট গদখালি ফুল বাজার – bdnews24.com

[ad_1]

সারাবছর কমবেশি ফুল বেচাকেনা হলেও মূলত ১৩ ফেব্রুয়ারি বসন্তবরণ উৎসব, পরদিন ভ্যালেন্টাইনস ডে আর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সামনে রেখেই জমজমাট হয়ে উঠে এ ফুলের বাজার।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি গদখালীর ফুলচাষি আব্দুর রহিম জানান, ঘূর্নিঝড় বুলবুলের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পর আবহাওয়া ‘অনূকুলে’ থাকায় এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে; তাই ফুল বিক্রি ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন চাষিরা।

যশোর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে ফুলের গদখালীর ছোট্ট এ বাজারে গত মৌসুমে ২৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছিল বলে জানালেন রহিম। 

গদখালি ফুলচাষি কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রনি আহম্মদ বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি বসন্তবরণ উৎসব, পরদিন ভালবাসা দিবস আর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সামনে রেখে বেচাকেনা বেড়ে যায়।

“আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে কেবল এ তিন উৎসবেই বেচাকেনা ৬০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছি।”

গত বছর এসময় ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছিল বলে রনি জানান।

তিনি বলেন, “ভালবাসা দিবসে রঙিন গ্লাডিওলাস, জারবেরা, রজনীগন্ধা ও গোলাপ বেশি বিক্রি হয়। আর গাঁদা ফুল বেশি বিক্রি হয় একুশে ফেব্রুয়ারি ও বসন্ত উৎসবে।”

প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই চাষি, পাইকার, মজুরের হাঁক ডাকে মুখর হয়ে ওঠে ফুলের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত গদখালীর এই বাজারটি।

দূরদূরান্ত থেকে ফুল কিনতে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা আসছেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন রুটের বাসের ছাদে স্তূপ করে ফুল সাজানো হচ্ছে। পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ঢাকা-চট্টগ্রামের মত বড় শহরে ট্রাক-পিকআপ ও ভ্যান ভরে ফুল যাচ্ছে।

এ বছর গোলাপে ভাইরাস সংক্রমণ দেখা গেছে জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, “শুধুমাত্র গোলাপে ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ক্ষেতের এক চতুর্থাংশ ফুলে এটি দেখা যাচ্ছে। চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে আশা করছি। তবে অন্য ফুলে কোন সমস্যা নেই।“

ঝিকরগাছার নন্দী ডুমুরিয়া গ্রামের ফুল চাষি গোলাম রসুল বলেন, তিনি এবার দশ বিঘা জমিতে গোলাপ, জবা, রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওলাস ও জারবেরা চাষ করেছেন।

এখন আবহাওয়া ভাল থাকায় বাগানে আগের চেয়ে বেশি ফুল এসেছে। ফুল বেঁচে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা ঘরে তুলতে পারবেন বলে তার আশা।

ফুলের বাজার কেমন জানতে চাইলে কাগমারী গ্রামের রকিবুল ইসলাম বলেন, “দুই দিনে আমি দেড় লাখ টাকার জারবেরা বিক্রি করেছি।”

আর পটুয়াপাড়ার সাহেব আলী একদিনে ৪০ হাজার টাকার গোলাপ বিক্রি করেছেন বলে জানালেন।

ঝিকরগাছার হাড়িয়া গ্রামের চাষি শাহাজাহান আলী জানালেন তিন দিনে দেড় লাখ টাকার জারবেরা, এক লাখ টাকার গ্ল্যাডিওলাস ও গোলাপ বিক্রির কথা।

তিনি বলেন, “ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেটের অভিজাত এলাকায় ফুলের দোকান ছাড়াও সাধারণ বাজারের দোকানেও এখন জারবেরা রাখা হয়।

এক বিঘায় গোলাপ ও দুই বিঘায় গ্ল্যাডিওলাস আবাদ করেছেন হাড়িয়া নিমতলা গ্রামের আসলাম হোসেন।

তিনি বলেন, “এক বিঘা গোলাপ আবাদে প্রথম বছর খরচ হয়েছে আশি হাজার টাকা। এরপর প্রতিবছর খরচ হবে ৪০ হাজার টাকা। আগামী সাত-আট বছর ধরে প্রতি বছর অন্তত দেড় লাখ টাকার ফুল বেচতে পারব।”

গদখালী এলাকায় এ বছর  ৬২৫ হেক্টর জমিতে সাড়ে ছয় হাজার চাষি ফুল চাষ করেছেন বলে জানিয়েছেন ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, এ বছর ২৭২হেক্টর জমিতে গ্লাডিওলাস,১৬৫ হেক্টর জমিতে রজনীগন্ধা, ১০৫ হেক্টর জমিতে গোলাপ, ৫৫ হেক্টর জমিতে গাঁদা,২২ হেক্টর জমিতে জারবেরা এবং অন্যান্য ফুল চাষ করা হয়েছে প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে।

গদখালী বাজারে জারবেরার স্টিক বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকায়, রজনীগন্ধা ২-৩ টাকায়, গোলাপ রং ভেদে ৪-১০ টাকায়, গ্ল্যাডিওলাস ৩-৮ টাকায় আর  এক হাজার গাঁদা মিলছে ১৫০-৪০০ টাকায়।



[ad_2]

Source link

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply