বাংলাদেশের সঙ্গে ‘খয়রাতি’ শব্দ ব্যবহার করে তোপের মুখে ভারতীয় গণমাধ্যম

আরটিভি অনলাইনঃ

চীনে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুবিধাকে ‘খয়রাতি’ বলে উল্লেখ করে সমালোচনার মুখে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

সম্প্রতি চীনে আরও ৫ হাজার ১৬১টি পণ্যের শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে দেশটিতে মোট শুল্কমুক্ত পণ্যের সংখ্যা দাঁড়াল ৮ হাজার ২৫৬টি। 

চীনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ৯৭ শতাংশই শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় এলো। এ ঘটনার পর ‘লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেজিং’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আনন্দ বাজার। 

প্রতিবেদনের প্রথম লাইনে বলা হয়, ‘বাণিজ্যিক লগ্নি আর খয়রাতির টাকা ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা নতুন নয় চীনের।’

পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী এই দৈনিকের এমন শব্দ ব্যবহারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। অনেকেই দাবি তুলেছে আনন্দবাজারের এমন আচরণের জন্য বাংলাদেশের এমন আচরণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো উচিৎ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী লিখেছেন, “খয়রাতির টাকা গ্রহণে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ যোজন যোজন দূরে!”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী  আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘খয়রাতির টাকা গ্রহণে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ যোজন যোজন দূরে!’

পোস্টে বিশ্বের উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন দেশের আর্থিক সাহায্য গ্রহণের কয়েকটি সমীকরণ তুলে ধরেন। সাইফুল আলম বলেন, ‘খয়রাতি বা দানের টাকা হিসেব করলে দেখা যাবে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ যোজন যোজন দূরে। বিশ্বের উন্নয়ন সহায়তা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আর্থিক সাহায্য পায় (আনন্দবাজারের ভাষায় খয়রাতি) এমন দেশগুলোর মধ্যে টাকার অঙ্কে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি সাহায্যপ্রাপ্ত দেশটির নাম ভারত, আর বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। জার্মানির কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ সাহায্য যে দেশটি পেয়ে থাকে তার নাম ভারত (পরিমাণ প্রায় ১১৮২ মিলিয়ন ইউএসডি)। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে অর্থ সাহায্য পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান পঞ্চম (পরিমাণ ৪৬৬.৩৭ মিলিয়ন ইউএসডি)। জাপানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ সাহায্য পেয়ে থাকে ভারত (পরিমাণ ২৩৭৬.৪০ মিলিয়ন ইউএসডি)। এছাড়া ফ্রান্স ও হাঙ্গেরি থেকেও মোটা অঙ্কের সাহায্য পেয়ে থাকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এ দেশটি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক দাবি করে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচিত আনন্দবাজারের এমন আচরণের প্রতিবাদ জানানো। এমন অপমানজনক সংবাদের জন্য কৈফিয়ত তলব করা।’

এদিকে জাফর সাদেক নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা ফেসবুকে লিখেছেন,  ‘একজন বাংলাদেশি হিসেবে তীব্র প্রতিবাদ আর নিন্দা জানাই। আমরা বাংলাদেশের মানুষ ‘খয়রাতি’ পয়সায় চলি না। এদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, কৃষক, শ্রমিকসহ সকলের প্রচেষ্টায় আমরা সম্মানজনক একটি জীবন যাপনের চেষ্টা করি। কারো দয়ায় আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়নি। নিজেদের চেষ্টায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।। 

তিনি আরও বলেন, ‘এমন ভাষা ব্যবহার করে আনন্দবাজার পত্রিকা এবং জিনিউজ টোয়েন্টিফোরের মতো গণমাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে অপমান করেছে। ভাষা ব্যবহারে তাদের সংযত হওয়ার আহবান জানাই।  প্রয়োজনে তাদেরকে আমি মাগনা পয়সায় ভাষা শিখাতে রাজি আছি।’

ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) যোগাযোগ ও গণমাধ্যম শিক্ষা বিভাগের সাবেক শিক্ষক কাউসার শাহিন বলেন,  ‘বাংলাদেশের আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিনিধি কে? চীন ভারত দ্বন্দ্বে বাংলাদেশকে হেয় করার চেষ্টা করছে ঐ সাংবাদিক নামধারী ধান্দাবাজ দালাল।’

তার দাবি এমন সাংবাদিকদের আইনের আওতায় আনা উচিৎ। তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে ওই সাংবাদিক নামধারী ধান্দাবাজকে সাংবাদিক মহল থেকে বের করা প্রয়োজন। দালালরা সাংবাদিকতা ছাড়ো। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করো। উক্ত দালালকে আইনের আওতায় আনা হউক।’

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply