বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ ব্যক্তি জিন্নাত আলী

পরিতোষ বড়ুয়া পবন :

পৃথিবীর সবচের লম্বা ব্যক্তি হিসেবে গিনিজ বুকে রেকর্ডধারী সুলতান কোসেনের ছেয়েও ২ ইঞ্চি লম্বা কক্সবাজার রামুর জিন্নাত আলী। তিনি ১৯৯৬ সালে কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জিন্নাত আলী জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আমির হামজা। তিনি পিতা-মাতার দ্বিতীয় সন্তান। পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১১ বছর আগে হঠাৎ করে জিন্নাত আলীর শরীর অস্বাভাবিকভাবে লম্বা হতে শুরু করে, যা চলতে থাকে এবং তার উচ্চতা বৃদ্ধি হতেই থাকে।
বিএসএমএমইউ’র মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ জিন্নাতের মস্তিষ্কে টিউমার রয়েছে বলে ধারণা করছেন। এবং হরমোন সমস্যার কারণে তার উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

২৩ বছর বয়সী এই যুবকের উচ্চতা ৮ ফুট ৫ ইঞ্চি। শুধু দৈহিক ভাবেই নয়, বৈচিত্র্য রয়েছে তার পায়েও। তার ডান পা বাম পায়ের চেয়ে দুই ইঞ্চি বড়।
চিকিৎসকদের মতে, জিন্নাতের বয়সী ছেলেরা সাধারণত ৫ থেকে সাড়ে ৫ ফুট লম্বা হয়। কিন্তু তার এই বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। মাথায় টিউমার ও ডান পায়ে পচন ধরেছে। ডান পায়ের চেয়ে বাম পা দুই ইঞ্চি খাটো।

মা বাবার সাথে জিন্নাত আলী


তার বাবা আমির হামজা বলেন, ছেলে এমনিতে লম্বা তা নয়। রোগের কারণে তার অস্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলেছেন- এই রোগের নাম জাইগানটিজম। মাথায় টিউমারের কারণে শরীরের হরমোনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে শরীর দ্রুত বাড়তে থাকে। এদেশে এই রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং রোহিঙ্গাদের রোগ প্রতিষেধক টিকা কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ডা. মিসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, জাইগানটিজম বা দৈত্যকার মূলত একটি টিউমার সংক্রান্ত রোগ। শরীরে অবস্থানকারী টিউমারের প্রভাবে অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণ হয়। এতে দেহ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। স্তর ভেদে চিকিৎসার মাধ্যমে টিউমারটি সরিয়ে ফেললে এ রোগ সেরে ওঠে।
জিন্নাত আলী জানান, অস্বাভাবিক উচ্চতার কারণে সবদিক দিয়ে অসুবিধা হয় তার। ঘরে ঢুকতে বা অন্যান্য কাজে সমস্যা হয়। এলাকায় হাঁটা-চলা করতে গেলে সবাই তাকিয়ে থাকে। এছাড়াও তার বড় সমস্যা শারীরিক দুর্বলতা। দুই হাঁটুতে ব্যথা। শারীরিক গড়নের কারণে তার ক্ষুধার তীব্রতাও বেশি। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে খেতে পান না। পায়ের মাপের জুতা বাজারে না পাওয়ায় খালি পায়ে হাঁটতে হয় তাকে।

জিন্নাত আলীর মা শাহপুরা বেগম জানান, ছেলেটি বেশি খাবার চায়। কিন্তু তার চাহিদা মতো খাদ্য জোগান দিতে পারি না। এটি বেদনাদায়ক। তার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। মাথায় টিউমার ও ডান পায়ে পচন ধরেছে। ডান পায়ের চেয়ে বাম পা দুই ইঞ্চি খাটো। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করানোও সম্ভব হচ্ছে না। ভিটে মাটি ছাড়া আর কোনো সম্পদও নেই আমাদের।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে জিন্নাত আলী

২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি জিন্নাত আলী। পিজিতে ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত শারীরিক উচ্চতার জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমের নজরে আসেন জিন্নাত আলী। এবং ২৪ অক্টোবর (২০১৮) জিন্নাত আলী গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। প্রধানমন্ত্রী তার বিষয়ে সব খোঁজ খবর নেন এবং তার চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যয়ভার বহন করার দায়িত্ব নেন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply