বাগদাদির জীবনের শেষ ১৫ মিনিট

অনলাইন নিউজ:

মাথা-মুখ চাদরে ঢাকা। ছুটতে গিয়ে সামান্য হোঁচট খেলেন। হাতের আগ্নেয়াস্ত্র শক্ত করে ধরে অন্ধকার গুহার ভিতরে গিয়ে ঢুকে গেলেন। সঙ্গে তিনটি শিশু। চাদরে মুখ ঢাকা এই লোকই হলেন বিশ্বের ভয়ঙ্করতম জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রতিষ্ঠাতা ও কুখ্যাত জঙ্গি নেতা ইব্রাহিম আওয়াদ ইব্রাহিম আল-বদরি ওরফে আবু বকর আল-বাগদাদি।

মার্কিন বাহিনীর বর্ণনায় বাগদাদির জীবনের শেষ সময়টা এভাবে দৌড়েই কেটেছে। বাগদাদিকে ধাওয়া করে একটি সুড়ঙ্গের মুখে নিয়ে গিয়েছিল মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডস ডেল্টা টিমের বাহিনীরা। সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্ত আগেই ধসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বেরোনোর কোনো পথই ছিল না বাগদাদির সামনে। বাগদাদি তবুও দৌড়ে সেই সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়েছিল। উপরে পাক খাচ্ছিল মার্কিন বাহিনীর বিমান। কোনো মার্কিন সেনা প্রবেশ না করে বাগদাদির পেছনে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিশেষ প্রশিক্ষিত হিংস্র এক ঝাঁক কুকুরকে। অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভিতরে মানুষের গন্ধ পেয়ে চিৎকার করছিল কুকুরগুলো। এরমধ্যে একটি কুকুর বাগদাদির পিছু পিছু সুড়ঙ্গের একেবারে ভিতরে ঢুকে পড়ে। এর খানিকক্ষণ পরেই ভেসে আসে কান ফাটানো আর্তনাদ আর শিশুদের কান্না। এরপর কয়েক সেকেন্ড না পেরোতেই বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গুহা। ছিটকে বেড়িয়ে আসে আগুনের ফুলকি। নিঃশেষ হয়ে যায় দুর্ধর্ষ এক জঙ্গির প্রাণ, যার মাথার দাম যার মাথার দাম ছিল ২ কোটি ৫০  লাখ ডলার। আর আহত হয় সেই কুকুরটি যে কিনা শেষ পর্যন্ত বাগদাদির পিছু ছুটছিল।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আত্মঘাতী জ্যাকেটের বোতাম টিপে নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছে আইএস প্রধান বাগদাদি। তার দেহাংশের ডিএনএ পরীক্ষা করে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, মৃত ব্যক্তি বাগদাদি ছাড়া আর কেউ নন।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply