বাজার থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও, খোলা সয়াবিনের দাম চড়া!

অন্তর দে বিশাল :-

কক্সবাজারে খুচরা ও পাইকারি বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল মিলছে না। কিছু কিছু দোকানে খোলা তেল মিললেও দামে চড়া। বিক্রেতারা একেক দোকানে একেক দরে তেল বিক্রি করছে।

ক্রেতারা বলেন, ঈদের আগের দিন থেকে কক্সবাজার শহরে খুচরা ও পাইকারি বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দেয়। ঈদের এক দিন পর থেকে দোকানগুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এ সংকট এখনো রয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মে) শহরের বড়বাজার,বাহারছড়া বাজার,কানাইবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা ও পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট প্রকট। শহরের বড়বাজার পাইকারি বাজারে কোথাও বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। ব্যবসায়ীরা হাত গুটিয়ে বসে আছেন। কোনো কোনো ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ।

বাজারঘাটা পাইকারি ব্যবসায়ী মেসার্স কুমুদ্দিনী স্টোরের মালিক কল্যান চৌধুরী বলেন, ঈদের আগের দিন তেল বিক্রি করলেও ঈদের পরে এসে তেলের মজুত শেষ হয়ে যায়। এখানে আমাদেরই বা কী করার আছে।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট প্রকট রয়েছে আমাদের দোকানে খোলা সয়াবিন তেল রয়েছে কিন্তু বোতলজাত সয়াবিন যা রয়েছে তার দাম বেশি।

আর ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে কক্সবাজার ও এর আশপাশের এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীরা তেল কিনে নিয়ে যায়। গ্রাম, শহরের পাড়ামহল্লায় বিক্রি করেন। বোতলজাত তেলের গ্রাহক অনেক বেশি। এখন খুচরা ব্যবসায়ীরা তেল নিতে আসছেন, কিন্তু তেল না থাকায় তাঁদের ফিরে যেতে হচ্ছে। এ ছাড়া অনেক ব্যবসায়ী বারবার ফোনে খবর নিচ্ছেন তেল পাওয়া যাবে কি না।

দুপুরে বড়বাজার দেখা যায়, সেখানেও কোনো বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। তবে কিছু কিছু দোকানে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি করাও হচ্ছে। ৫০০ গ্রামের বোতলজাত তেল ১১০-১৩০ টাকা, এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২১০-২৩০ টাকা, দুই লিটার ৪১০-৪৩০ টাকা এবং পাঁচ লিটার তেলের দাম ১০১০-১০৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
সেই সাথে খোলা সয়াবিন তেলের দামও চড়া রয়েছে। ১ কেজি খোলা সয়াবিন তেল ১৯০-২০০ টাকা, ২ কেজি খোলা সয়াবিন তেল ৩৮০-৪০০ টাকা এবং ৫ কেজি খোলা সয়াবিন ৯৮০-১০০০ টাকা পযর্ন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে।

অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা জানান, খোলা তেল বিক্রি করলেও এখন ফুরিয়ে গেছে। বোতলজাত তেলও ঈদের আগেছে থেকে বিক্রি হয়ে গেছে। নতুন ভাবে কখন বোতলজাত সয়াবিন তেল পাবো তাও জানা নাই।

তারা আরো জানান, খোলা সয়াবিন তেল মোটামুটি রয়েছে । কিন্তু যেভাবে ক্রেতা আসছে, তাতে করে খুব কম সময়ের মধ্যেই খোলা সয়াবিন তেল শেষ হয়ে যাবে।
কবে যে তেল পাব, তা–ও ঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।’

শহরের গোলদীঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা লালন পাল বলেন, ৪২০ টাকায় দুই লিটার তেল কিনেছেন বড়বাজার থেকে। অথচ বোতলের গায়ে দাম আরও কম লেখা। রান্নার কাজে তেল তো লাগবেই। তাই বাধ্য হয়ে কিনতে হয়েছে। দোকানদার বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তেলের দাম বেশি নিচ্ছে।

এনিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানান, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে তেলের দাম বেশি নেওয়া সুযোগ নাই। যদি কোন ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করতে চাই বা করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply