বিএসএফ সদস্য নিহতের ঘটনায় ভারতীয় গণমাধ্যমের মিথ্যাচার

সিবিএল২৪:

আন্তর্জাতিক জলসীমা পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে ইলিশ শিকারে ব্যস্ত ভারতীয় জেলেকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জেলে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে এক ভারতীয় বিএসএফ জওয়ান নিহত ও অপর একজন গুরুতর আহত হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা জানা যায়, প্রজনন মৌসুমের জন্য এখন নদীতে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ অবস্থায় জেলেরা যাতে নদীতে মাছ ধরতে না যায় সেটা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা সকালে নদীতে অভিযানে যায়। তারা গিয়ে দেখেন পদ্মা-বড়াল নদীর মোহনায় একটি নৌকায় তিনজন ভারতীয় জেলে ইলিশ শিকার করছেন। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করার চেষ্টা করেন। দুইজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও একজনকে আটক করে বিজিবি। পালিয়ে যাওয়া জেলেরা বিএসএফকে বিষয়টি অবহিত করলে বিএসএফ সদস্যরা এসেই বিজিবি সদস্যদের গালাগালি শুরু করে। বিজিবি এর প্রতিবাদ করলে বিএসএফ একতরফাভাবে গুলি ছোড়ে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে। তখন বিজিবির পক্ষ থেকেও ছোড়া হয় পাল্টা গুলি। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয় বিএসএফের হেড কনস্টেবল বিজয়ভান সিংহ, আহত হয়েছে অপর এক বিএসএফ সদস্য। বিজিবির প্রতিরোধের মুখে এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

বিজিবির গুলিতে আহত বিএসএফ সদস্য

তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সেখানে এক তরফাভাবে সব দায় বিজিবির ওপর চাপানো হয়েছে। কলকাতার প্রভাবশালী গণমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এদিন সকালে তিন ভারতীয় মৎসজীবী পদ্মায় মাছ ধরার সময় ভুল করে আন্তর্জাতিক জলসীমা পেরিয়ে বাংলাদেশের দিকে চলে যান। তখনই তিনজনকেই আটক করে বিজিবি। বিষয়টি বিএসএফকে জানানো হয়। দু’পক্ষের মধ্যে ফ্লাগ মিটিংয়ের পর তিনজন মৎসজীবীর মধ্যে দু’জনকে ছেড়ে দেয় বিজিবি। কিন্তু একজনকে ছাড়তে নারাজ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে দু’জনকে নিয়ে কাটমারি চর বর্ডার পোস্টের দিকে ফিরছিল বিএসএফের পাঁচ জনের একটি দল। আচমকা পেছন থেকে গুলি ছুড়তে শুরু করে বিজিবি। একটি গুলি ছুটে এসে লাগে হেড কনস্টেবল বিজয়ভানের মাথায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। আরেক কনস্টেবলের হাতে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে বিজিবি’র রাজশাহী-১ ব্যাটেলিয়নর অতিরিক্ত পরিচালক মেজর আসিফ বুলবুল গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হতাহতের বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি।

ঘটনার পর বিকালে দুই বাহিনীর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে ভারতীয় বাহিনীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply