ব্যস্ততম শামলাপুর বাজার ও তৎসংলগ্ন রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, সংস্কারের দাবি

মো: শামসুল আলম, বাহারছড়া, টেকনাফ:


পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার সিঙ্গাপুরখ্যাত টেকনাফ উপজেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত শামলাপুর বাজারটি সবসময় বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের ভিড়ে সরগরম থাকে। এ বাজার থেকে সরকারকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব দেওয়া হয়। আজ সেই বাজারের বেহাল দশা এক কথায় অবর্ণনীয়। বাজারের ভেতর দিয়ে টেকনাফ ও হোয়াইক্যং যাওয়ার রাস্তা দু’টির আস্তর উঠে গিয়েছে অনেক আগেই, এই রাস্তা দু’টির সর্বত্র ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে ভরা। অল্প বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ভরে গিয়ে মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়। গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিলেও একপ্রকার অসাধু জনপ্রতিনিধি ও অসাধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে এ এলাকা উন্নয়নের হাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বারবার। শামলাপুর বাজারের এ করুণ অবস্থার দায় কি সরকারের উপজেলা প্রশাসন ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এড়িয়ে যেতে পারে? প্রশ্ন অত্র এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের।

শামলাপুর বাজারের করুণ চিত্র

এলাকাবাসীর অভিযোগ, টেকনাফ ০৫নং বাহারছড়া ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা এবং অবহেলার কারণে শামলাপুর বাজার ও তৎসংলগ্ন রাস্তাঘাটের অবস্থা দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার গভীর ও অগভীর গর্তগুলো পরিণত হয় মৃত্যু ফাঁদে। পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় রাস্তায় কাদা জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে সামান্য বৃষ্টির পানিতেই বাজারস্থ রাস্তার যত্রতত্র নোংরা পানি ও নোংরা কাদা জমে পরিবেশটাকে করে দেয় অস্বাস্থ্যকর, যার দরুণ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বাজারে আগত কয়েক হাজার মানুষ।

মৃত্যু ফাঁদে টমটম গাড়ি

শামলাপুর বাজার টেকনাফের একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। পান, সুপারি, ও মাছের জন্য এই বাজার বিখ্যাত হওয়ার কারণে গোটা বাহারছড়া ইউনিয়ন ছাড়াও উখিয়ার জালিয়াপালং ও পালংখালী ইউনিয়ন, টেকনাফের হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা পণ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিনিয়ত এখানে আগমন করেন। প্রতিবছর সরকার এখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব পেলেও এর সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ স্বনামধন্য এই বাজারের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন তেমন কোন প্রসংশনীয় উদ্যোগ নিচ্ছেনা, তার জলন্ত প্রমান সামান্য বৃষ্টিতে অতি জলাবদ্ধতা ও রাস্তাঘাটে কাদার গভীর প্রলেপ।

স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে আরো জানা যায়, শামলাপুর বাজারস্থ রাস্তার দু’পাশে মানুষ চলাচলের ফুটপাত স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে সেখানে ব্যাঙের ছাতার মত ছোট ছোট দোকানপাট তৈরি করেছে, যার দরুণ স্থানীয় ও প্রতিদিন বাজারে আসা শত শত মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করতে হয়। ফলে অনেক সময় অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত জায়গা থাকা থাকা সত্ত্বেও বাজারস্থ দোকানগুলো তাদের নিত্যদিনের বর্জ্য রাস্তার উপরেই ফেলে, যার কারণে বিনষ্ট হচ্ছে বাজারের সৌন্দর্য, সৃষ্টি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

একটি এন,জিও সংস্থার উদ্যোগে কয়েক বছর আগে শামলাপুর বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে বড় বড় ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হয় বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য। কিন্তু মাসের পর মাস সেই ডাস্টবিন পরিষ্কার করা হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, বাজার পরিষ্কার করার জন্য যে পরিছন্ন কর্মী আছেন তিনি মাস শেষে প্রত্যেক দোকান থেকে টাকা তুলতে একটুও দেরি করেনা, কিন্তু বাজার পরিষ্কার করার সময় শুরু করে যতসব টালবাহানা। এর জন্য দায়ী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন একটু যত্নবান হলেই শামলাপুর বাজার বিভিন্ন সমস্যা থেকে রেহায় পাবে বলে মনে করেন অভিযোগকারী ব্যবসায়ীগণ।

বাহারছড়ার স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন জায়গা থেকে শামলাপুর বাজারে আগত মানুষের দাবি, দ্রুততার সাথে শামলাপুর বাজারের বিভিন্ন সমস্যা বিশেষ করে রাস্তাঘাটের সংস্কার, পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা এবং অবৈধভাবে দখলে রাখা ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করলে ঐতিহ্যবাহী এ বাজারটি ফিরে পাবে তার হারানো যৌবন, হারানো ঐতিহ্য।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply