ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক সপ্তাহে মারা পড়েছে ১২টি গোখরা সাপ

নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বর্ষার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সাপের উপদ্রব বাড়ছে। গত ১ সপ্তাহে স্থানীয়দের হাতে মারা পড়েছে ১২টি গোখরা।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিনের ভারীবর্ষণ ও বর্ষার পানি বৃদ্ধির কারণে ছোট-ছোট ঝোপ ও জঙ্গল তলিয়ে সাপের নিরাপদ আবাস নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে নানা প্রজাতির বিষধর ও নির্বিষ সাপ খাদ্য বাসস্থানের জন্য লোকালয়ে চলে আসছে। ফলে দাঁতমন্ডল গ্রামে গোখরা সাপের আনাগোনাও বেড়ে গেছে। স্থানীয়রা গত একসপ্তাহে ১২টি বিষধর গোখরা সাপ মেরেছেন। এখন গ্রামের সর্বত্র বিরাজ করছে সাপ আতঙ্ক।

নাসিরনগর সরকারী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জিয়া উদ্দিন জানান, বিষাক্ত সাপ শুকনো স্থানে থাকে। বর্ষার এই সময়ে সাপের নিরাপদ আবাসস্থল আদ্রতাপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় লোকালয়ে চলে আসে। তাই এসময়ে যারা মাটির ঘরে বসবাস করেন তাদের পরিবারের শিশু থেকে শুরু করে সকল বয়সী মানুষের সর্তক থাকতে হবে।

মাসুক মিয়া নামে একজন জানান, ‘নাসিরনগর সরাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের দাঁতমন্ডল মোড় বাজারের কাছে রাস্তার দুই পাশে পানক সাপের (গোখরা) আনাগোনা বাইরা গেছে। নতুন পানি আইছে এক সপ্তাহ হবে। রাস্তার পাশে খালে মাছ ধরতে গেলে কিংবা জমিতে ঘাস কাটতে গেলে সাপ তেড়ে আসে। আমরা ভয়ে পালাইয়া আসি। যার কাছে লাঠি থাকে সে সাপ মাইরা ফেলে। আবার অনেকে সাপের ভয়ে দৌড়াইয়া চলে যায়।’

আবুল বাশার নামে এক পুকুর পাহাড়াদার জানান, ‘রাস্তার পাশে একটি পুকুরে পাহাড়াদারের কাজ করি। আমি সাপের ভয়ে পুকুরে যাই না। চার-পাঁচটা সাপ আছে এই পুকুরের পাড়ে। পুকুরের কোন জায়গায় সাপ ডিম ফোটাচ্ছে কিনা, সেটাও বুঝতে পারছি না। সাপে কামড় দিলে কি করুম, সেটাও তো জানি না আমরা। তাই প্রশাসনের কাছে দাবি করছি যেন দ্রুত সাপ ধরার ব্যবস্থা করা হয়।’

স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় সাপের উপদ্রব বাড়লেও নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই কোন প্রতিষেধক। ওঝার ঝাড়ফুঁকই স্থানীয়দের ভরসা। করোনার মহামারির এসময় সাপের উপদ্রব চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অভিজিৎ রায় সমকালকে জানান, বাংলাদেশে প্রায় ৯১ প্রজাতির সাপ আছে। আমাদের দেশে সাপের এন্টিভেনাম ভ্যাকসিন উৎপাদন হয় না। বাইরের দেশ থেকে আনতে হয়। বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানি ইনসেপটা এন্টিভেনাম বাজারজাত করলেও চড়া দামের কারণে ওষুধ ব্যবসায়ীরা ফার্মেসিতে তা রাখের না। তাই সাপের কামড়ে কেউ আক্রান্ত হলে প্রতিষেধক দেওয়ার মতো সক্ষমতা আমাদের নেই।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুমন ভৌমিক জানান, সাপের নিরাপদ আবাস নষ্ট হওয়ায় লোকালয়ে চলে আসছে। আমাদের উচিত হবে বিষধর সাপের কাছে না যাওয়া। জনসাধারণকে সর্তক থাকতে হবে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply