ভারতে পালাতে পারলেন না কাউন্সিলর মিজান, ধরা পড়লেন র‌্যাবের জালে

ডেস্ক নিউজ:

ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য মিজান ব্যাংক থেকে গত দুদিনে ৬৮ লাখ টাকা তুলেছিলেন। তবে সেই টাকা কোথায় রেখেছেন এখনও আমরা তা জানতে পারিনি। তদন্তে সেটা বেরিয়ে আসবে।’ শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোডে মিজানের বাসায় তল্লাশি শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

হাবিবুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে সিলেটের শ্রীমঙ্গল থানায় অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার সকালে অবৈধ অস্ত্রসহ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানকে শ্রীমঙ্গল থেকে আটক করা হয়। এরপর ঢাকায় তার কার্যালয় ও বাসায় অভিযান চালানো হয়।

মিজানের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে মো. সারোয়ার আলম বলেন,  ‘আটকের পর তাকে শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। লালমাটিয়ায় তার কার্যালয়ে অভিযানে অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি। পরে মোহাম্মদপুরে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে ছয় কোটি ৭৭ লাখ টাকা চেক এবং এক কোটি টাকার এফডিআর উদ্ধার করা হয়। হাবিবুর রহমান মিজানের আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় দুটো বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ থেকেই তিনি এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৫ বছর আগে তার একটি ইটভাটার ব্যবসা ছিল। এখন সেটি নেই।’

র‌্যাবের এই ম্যাজিস্ট্রেট জানান, কাউন্সিলর মিজানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা থাকাও তথ্য রয়েছে। এছাড়াও চাঁদাবাজি ও জমি দখলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘১৯৮৯ সালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার যে ঘটনা ঘটেছিলে সেই মামলায় এই ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজান ও তার ভাইয়ের সংশ্লিষ্ট ছিল। তারা দুই ভাই একসময় ফ্রিডম পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

অভিযান শেষে আটক মিজানকে সিলেটের শ্রীমঙ্গল থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply