ভোলায় উলঙ্গ করে নির্যাতনের ঘটনায় নতুন মোড়, ১৮ বছর আগে পিতার উপর বর্বতার প্রতিশোধের দাবি হাসানের ভাইয়ের

সিবিএল২৪ : কিছুদিন আগে ভোলায় সংঘটিত সন্তানের সামনে বাবাকে উলঙ্গ করে নির্যাতনের ঘটনায় নিয়েছে নতুন মোড়।

২০০১ সাল, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন পর শব-ই-কদরের নামাজ পড়ে রাত ১১টার দিকে আবুল হোসেন ড্রাইভার কালমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তারের বাড়ির কাছে মসজিদ থেকে বের হন। সঙ্গে ছিল ছেলে সফিক। হঠাৎ করেই তাদের ওপর চলে বর্বর হামলা। আওয়ামী লীগ করার অপরাধে তাদের ওপর এই নির্যাতন। মারধর করতে করতে এক পর্যায়ে উলঙ্গ করে আবুল হোসেন ড্রাইভারকে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয়া হয়। এ সময় ছেলে তার বাবাকে বাঁচাতে গেলে তাকে মেরে একটি হাত ভেঙ্গে দেয়। কিন্তু ভয়ে তখন তারা এর প্রতিবাদ তো দূরে কথা বিচারও চায়নি। সেই ক্ষোভথেকে বাবার নির্যাতনের প্রতিশোধস্বরূপ বিএনপির ক্যাডার জসিমকে মারধর করা হয় বলে মনে করছে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় উলঙ্গ করে নির্যাতনকারী হাসানের ভাই মোঃ সোহাগ হোসেন।

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর বাবাকে উলঙ্গ করে নির্যাতনকারী সেই বিএনপির ক্যাডার জসিমকে একইভাবে প্রকাশ্য উলঙ্গ করে পিটিয়ে শোধ নিয়েছেন হাসান। তার পিতাকে উলঙ্গ করে নির্যাতনের বিভীষিকাময় সেই দৃশ্য সে সময় কেউ ভিডিও করা তো দূরের কথা, কেউ তখন এগিয়েও আসেনি। কিন্তু হাসান জসিমকে ডিজিটিাল যুগে প্রকাশ্যে মারধর করতে গিয়ে মোবাইলে ভিডিও থেকে ভাইরাল হয়ে ফেঁসে গেছে।

হাসানের ছোট ভাই সোহাগ হোসেন বলেন, তার ভাই নামে অভিযোগ করা হয়েছে মাদক কারবারি না করায় জসিমকে মারধর করে তা সত্য নয় বলেও তিনি দাবি করেন। ২০০১ সনের পর ভয়ে ওই সন্ত্রাসীদের ভয়ে তারা ভীত ছিল। সেই সময়ের আর্তনাতের কথা তাদের মনে রয়েছে। কালমা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন জানান, তখন তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ২০০১ সনের পর ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তখন আওয়ামী লীগ করার অপরাধে হাসানের পিতা আবুল হোসেনকে বিএনপির ক্যাডার জসিম মারধর করে। একপর্যায়ে তার লুঙ্গি খুলে যায়। তারপরও মারতে থাকে ওই সময়ে লালমোহন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম মুন্সির কাজের মেয়েকে বিয়ে করে ক্যাডার জসিম। বিএনপির সম্পাদকের দাপটে এলাকায় জসিম অপকর্ম করে বেড়াত।

সূত্র: জনকণ্ঠ

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply