মহানবী (স:)কে নিয়ে কটূক্তি: বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের গুলি, নিহত ৪

সিবিএল২৪ :

ফেসবুকে মহানবী (সা.)-কে কটূক্তি করা নিয়ে ভোলায় জনতার বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত ও ১০ পুলিশসহ প্রায় দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৯ জন।
এদের মধ্যে আহত প্রায় শতাধিক মুসল্লিকে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে এবং ৪০ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ১০-১৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানে হয়েছে।
নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদ্রাসাছাত্র মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেলওয়ার হোসেনের কলেজ পড়ুয়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌর সভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫), মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।

জানা বিবরণে যায়, গত শুক্রবার ফেসবুকে রসুল (সা.) নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ পোস্ট করা হয়। এনিয়ে রবিবার বেলা ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে সর্বস্তরের তৌহীদ জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এ বিক্ষোভ মিছিলটি না করার জন্য বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা জালাল উদ্দিন, বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানকে পুলিশ অনুরোধ জানায়। সাধারণ মানুষ আসার আগে বিক্ষোভটি বন্ধ ঘোষণা করতে বলা হয়। তাদের অনুরোধে এ দুই ইমাম সকাল ১০টার দিকেই যে সকল লোক আসছে তাদেরকে নিয়ে দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি সমাপ্ত করেন।
কিন্তু এতক্ষণে বোরহানউদ্দিনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার লোক এসে ঈদগাহে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা ওই দুই ইমামের উপর ক্ষিপ্ত হয়। এবং সেখানে থাকা পুলিশের উপর চড়াও হয়। পুলিশ আত্মরক্ষার্তে ওই মসজিদের ইমামের রুমে আশ্রয় নেয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশ নিজেদের বাঁচানোর জন্য মুসল্লিদের উপর ফাকা গুলি ছুড়ে। এতে সেখানে থাকা মুসল্লিরা আরো উত্তেজিত হয়ে পুলিশের উপর আক্রমণ চালায়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে চার মুসল্লি নিহত হন। ১০ পুলিশ সদস্যসহ প্রায় দেড় শতাধিক মুসল্লি আহত হন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বোরহানউদ্দিনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সেই যুবকের দাবি তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার রাতেই আটক করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছিল হ্যাকিংয়ে সংশ্লিষ্টদেরও। ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানিয়েছেন, শুভ নামের এক যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল গত ১৮ তারিখ। আমরা এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে আসি। গতকাল স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইমাম-আলেম ও গণ্যমান্যদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করি। ওনারা আমাদের বলেন যে এ নিয়ে ওনাদের সমাবেশটি স্থগিত করবেন।

তারপর আজ সকাল থেকেই দেখি ওনারা মাইক নিয়ে এসেছেন, স্টেজ বানাচ্ছেন। তখন সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।শুরুতে এই সমাবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, আমি গিয়ে তাদের সাথে কথা বলি। তারা আমার কথায় আশ্বস্ত হয়েছিল। ধারণা করেছিলাম সবাই চলে যাবে। আমি স্টেজ থেকে নামার পর হঠাৎ একদল জনতা আমাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। আমরা আত্মরক্ষার্থে পাশের মাদ্রাসা ভবনে আশ্রয় নেই। কিন্তু ওরা সেখানেও আক্রমণ করে। পরবর্তীতে তারা দরজা-জানালা ভেঙে ফেলে। আমাদের একজন পুলিশ সদস্য তাদের গুলিতে আহত হন। তার ডান বুকে গুলি লেগেছে। যার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আত্মরক্ষার্থেই পুলিশ গুলি করে। আমরা আমাদের ব্যবস্থাপনায় ৪ জন আহতকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তাদের মধ্যে ৩ জন মারা গেছেন।

জানা গেছে, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। তার ফেসবুক আইডি থেকে তার ফ্রেন্ডলিস্টের বেশ কয়েকজনের কাছে আল্লাহ এবং রাসুল (সঃ) কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ম্যাসেজ যায়। এরপর কয়েকটি আইডি থেকে ম্যাসেজগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুকে দেয়া হলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এ অবস্থায় সন্ধ্যার পর বিপ্লব চন্দ্র বোরহানউদ্দিন থানায় আইডি হ্যাক হয়েছে মর্মে জিডি করতে গেলে থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিপ্লব চন্দ্রকে তাদের হেফাজতে রাখে।

সেই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকালে বোরহানউদ্দিনের ঈদগাঁ মসজিদ প্রাঙ্গণে তাওহীদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে। ২০ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছে শতাধিক।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply