মহেশখালীতে ভলগেটের বিরুদ্ধে কার্গোবোট মালিক শ্রমিক সমিতির মানববন্ধন

এ.কে.রিফাত;মহেশখালীঃ

মহেশখালীর উৎপাদিত লবণ পরিবহন করা হচ্ছে ষ্টীলবডির ভলগেট দিয়ে। বৃহত্তর এ নৌ-যানটি হঠাৎ করে মহেশখালীর বিভিন্ন লবণ বোঝায় করার ঘাট থেকে লবণ বোঝায় করে পরিবহণের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে প্রাচীনতম কার্গো বোট মালিক, শ্রমিক ও মাঝি মাল্লারা।

যদিও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ অধিদপ্তর ষ্টীলবডির ভলগেট কর্তৃক নিবন্ধন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অবৈধ বে-আইনিভাবে দক্ষিণ চট্টগ্রাম কক্সবাজার জেলার মাঠে উৎপাদিত কালো লবণ পরিবহণ বন্ধের নির্দেশনা জারি করা ছিল।

উক্ত বিষয়ে উপ-পরিচালক নয়ন শীল স্বাক্ষরিত বন্দর ও পরিবহণ বিভাগ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ ফিরিঙ্গি বাজার চট্টগ্রাম জেনাল কমান্ডার বাংলাদেশ কোর্স গার্ড পূর্ব জোন চট্টগ্রামকে ২০ জানুয়ারী ২১ একটি পত্র প্রেরণ করে। এই পত্রের আলোকে চলতি বছরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় কোন ধরনের ষ্টীলবডি দ্বারা নির্মিত ভলগেট লবণ বোঝাইয়ের জন্য প্রবেশ করতে পারে না।

আজ বুধবার বেলা আনুমানিক ২টায় মহেশখালী উপজেলা দীঘির পাড়ে মহেশখালী কার্গোবোট মালিক শ্রমিক সমিতির আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে।এতে শ্রমিক পাশে বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ একাত্বতাপোষন করেন।সমাবেশে বক্তব্য রাখেন
সংগঠনটির উপজেলা সভাপতি জাফর মাঝি,শহিদুল্লাহ মাঝি, ছৈয়দ করিম মাঝি, দেলায়ার মাঝি সহ কার্গো বোট মালিক সমিতির সকল সদস্যবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন,
বাংলাদেশের সর্ব বৃহত্তম লবণ উৎপাদনকারী স্থান কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় ভলগেট প্রবেশ করে অবৈধভাবে পরিবহণ করছে লবণ।
ক্ষতিগ্রস্ত লবণ পরিবহণে নিয়োজিত কার্গো শ্রমিক ও মাঝি মাল্লারা জানায় মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৫০টির অধিক ছোট-বড় লবণ বোঝাইয়ের গুদি বা ঘাট রয়েছে।

অনেক বছর আগে থেকেই মহেশখালীর লবণ মাঠে উৎপাদিত লবণ সাগর পথে কার্গোবোট নিয়ে পরিবহণ করে জীবিকা নির্বাহ করছে প্রায়ই ৫ হাজার শ্রমিক।বিগত বর্ষা মৌসুমে লবণ ব্যবসায়ীরা কার্গোবোট মালিক, শ্রমিক ও মাঝি মাল্লাদের অগ্রিম দাদন দিয়ে কার্গো ট্রলার গুলি লবণ মৌসুমের ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। ভবিষ্যতে এই কর্ম থেকে করা আয় দিয়ে যাদের পরিবার পরিজন জীবীকা নির্বাহ করত তারা এখন ভলগেট এর কারণে বেকার হয়ে পড়েছে। ছেলে সন্তানদের ভবিষ্যতও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে কক্সবাজার অঞ্চলে ইতিপূর্বে কোন ধরনের ভলগেট এর মতো নৌ-যান পরিবহণে ছিল না। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বালি ইট সিমেন্টসহ বিভিন্ন পন্য সরবরাহ কাজে প্রবেশ করার সুযোগ নিয়ে তারা সস্তা দরে বিপুল পরিমাণ লবণ নৌ-পথে নিয়ে যাচ্ছে।

দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত লবণ যেখানে কৃষকরা মজুদ রাখার সুযোগ ছিল যখন একটু ন্যায্য মূল্য পেলে তা বর্ষা মৌসুমে বিক্রি করার সুযোগ পেত। ভলগেট এর পেটের চাহিদা পূরণে হাজার হাজার মেক্ট্রিকটন লবণ দিনের মধ্যে মাঠ থেকে চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গাতে।

বৃহত্তর নৌ যান ভলগেট যদি এভাবে বিপুল পরিমাণ লবণ সস্তা মূল্যে পরিবহণ দ্রুত সময়ে নিতে থাকলে কক্সবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন নদী মোহনায় নাপিতখালী সহ বিভিন্ন জায়গাতে লবণ মিল মালিকরাও মাঠে উৎপাদিত লবণের দেখা পাবে না বলে জানান বক্তারা।যার ফলে মাঝারি লবণ মিলগুলাও বন্ধ এবং উক্ত মিলের শ্রমিকরা বেকার হয়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

পরিশেষে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ অধিদপ্তরের নির্দেশনার আলোকে মহেশখালী থেকে ষ্টিল দ্বারা নির্মিত বৃহত্তর নৌ যান ভলগেট এর লবণ পরিবহণ নিষিদ্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহন করতে প্রসাশনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন মহেশখালী কার্গো বোট মালিক শ্রমিক ও মাঝিমাল্লারা।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply