মহেশখালীতে সিরাজের পরিবারের উপর হামলার ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের

মহেশখালীর পৌর কাউন্সিলর মকসুদ আলমের নেতৃত্বে জনৈক সিরাজ মাঝির পরিবারের উপর হামলা থানায় এজাহার দায়ের।

উক্ত ঘটনার বিষয়টি থানায় দায়ের করা এজাহারটি নিচে হুভহু তুলে ধরা হলো।

বরাবর অফিসার ইনচার্জ,
মহেশখালী থানা, কক্সবাজার ।

বিষয়ঃ – এজাহার ।

অভিযােগকারীঃ- মোঃ সিরাজ ( ৫৮ ) পিতা – মৃত নুর আহমদ , সাং – ঘােনাপাড়া , ওয়ার্ড নং -০৫ , মহেশখালী পৌরসভা , থানা – মহেশখালী , জেলা – কক্সবাজার । ( ০১৮৫৪-৩৭৯৮৪১ )
বনাম
আসামীগনের নামঃ -১। নুরুল আলম ( ৩৮ ) পিতা – মৃত নুর আহমদ । ২। মকছুদ আলম ( ৩৭ ) পিতা – মৃত ফোরকান আহমদ ৩। মমতাজ মিয়া ( ৫০ ) পিতা – মৃত নুর আহমদ ৪। মোঃ পারভেজ ( ২০ ) পিতা – নুরুল ইসলাম , সাং – ঘােনাপাড়া , ওয়ার্ড নং -০৫ , মহেশখালী পৌরসভা , থানা – মহেশখালী , জেলা – কক্সবাজার । আরো ২/৩ জন আছে ।। সাক্ষীদের নামঃ ১। আবু হামিদ ( ৩৪ ) পিতা – মােহাম্মদ উল্লাহ, ২। হেলাল উদ্দিন ( ২০ ) পিতা – মােঃ সিরাজ , উভয় সাং – ঘােনাপাড়া , ওয়ার্ড নং -০৫ , মহেশখালী পৌরসভা , থানা – মহেশখালী , জেলা – কক্সবাজার । ঘটনার তারিখ ও সময়ঃ -০৪ / ০৪ / ২০২১ ইং , রতি অনুমান ১০,০০ ঘটিকা । ঘটনাস্থলঃ- মহেশখালী পৌরসভাধীন ঘােনাপাড়াস্থ মৌঃ হাসেম এর বাড়ীর পিছনে রাস্তার উপর ।

জনাব ,
যথাবিহীত সম্মান পূর্বক নিবেদন এই , আমি অভিযােগকারী অদ্য আপনার সমীপে এই মর্মে এজাহার দায়ের করিতেছি যে , উপরোক্ত ১ ও ৩ নং আসামী আমার আপন ভাই হয় , ৪ নং আসামী আমার ভাতিজা এবং ২ নং আসামী অপরাপর আসামীদের ইন্ধনদাতা হয় । উপরােক্ত ১,৩,৪ নং আসামীদের সহিত আমার জমি জমা সংক্রান্ত বিষয়ে বিরােধ থাকায় ২ নং আসামীর ইন্ধনে ১,৩,৪ নং আসামীরা আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনে মারপিট করার সুযােগ খুঁজিয়া আসিতেছিল । ঘটনার দিন গত ০৪ / ০৪ / ২০২১ ইং তারিখ রাত্রি বেলায় আমার ছেলে আলা উদ্দিন বাড়ী হইতে এলাকার দােকানে যাইতে ছিল । ইত্যবসরে ঐ দিন রাত অনুমান ১০.০০ টায় আমার ছেলে আলা উদ্দিন ঘটনাস্থলে বর্ণিত মৌঃ হাসেম এর বাড়ীর পিছনে রাস্তার উপর পৌছিলে উপরােক্ত আসামীরা তাহাদের দলীয় আরো ২/৩ জন সহ দা , লােহার রড , লাঠিসােটা ইত্যাদি মারাত্মক অস্ত্রসস্ত্র সহকারে বে – আইনী জনতা গঠন পূর্বক আমার ছেলের পথরােধ করিয়া এলােপাতাড়ী মারপিট করিতে থাকে । এক পর্যায়ে উপরােক্ত ১ নং আসামীর হাতে থাকা ধারালো দা দিয়া আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে স্বজোরে মাথার উপর কোপ মারে । উক্ত কোপ আমার ছেলের মাথার মাঝখানে লাগিয়া গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম হয় । পর পর ২,৩,৪ নং আসামীদের হাতে থাকা লােহার রড দিয়া আমার ছেলেকে স্বজোরে বারি মারে । ২ নং আসামী স্থানীয় কাউন্সিলর মকসুদ আলমের বারি আমার ছেলের বুকে , ৩ নং আসামীর বারি আমার ছেলের কোমরে এবং ৪ নং আসামীর বারি আমার ছেলের পিঠে লাগিয়া গুরুতর জখম প্রাপ্ত হইয়া মাটিতে পড়িয়া গেলে উল্লেখিত আসামীরা আমার ছেলেকে মাটিতে পড়া অবস্থায় এলােপাতাড়ী মারপিট করিতে থাকে । আমার ছেলের শাের চিৎকার শুনিয়া আমি আগাইয়া গেলে উপরােক্ত আসামীরা আমাকেও এলােপাতাড়ী মারপিট করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করে । আমি এবং আমার । ছেলের শাের চিঙ্কার শুনিয়া আশ পাশের লােকজন আগাইয়া আসিতে দেখিয়া উপরােক্ত ২ নং আসামী কাউন্সিলর মকসুদ আলম আমার ছেলের কোমরে লুঙ্গির প্যাঁচে মানি ব্যাগ থাকা নগদ ৮,০০০ / – টাকা , এবং ৩ নং আসামী আমার পাঞ্জাবীর পকেটে থাকা নগদ ৫,৫০০ / – টাকা কাড়িয়া নিয়া এই বিষয়ে মামলা মােকদ্দমা করিলে মারপিট সহ প্রানে হত্যা করিবে , মিথ্যা বানােয়াট ভিত্তিহীন মামলায় জড়িত করিবে মর্মে হুমকি দিয়া চলিয়া যাওয়ার সময় আমার ছেলে আলা উদ্দিনের বসত বাড়াতে যাইয়া ভাংচুর করে এবং জিনিস পত্র নিয়া যায় । পরে লোকজনেরা আমাকে স্থানীয় ভাবে এবং আমার ছেলেকে মহেশখালী হাসপাতালে নিয়া আসে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে । আমার ছেলের চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় এবং ঘটনার বিষয় এলাকার গন্যমান্য লােকজনকে জানাইয়া থানায়া আসিয়া এজাহার দায়ের করিতে বিলম্বের কারণ ।

অতএব প্রার্থনা যে , মহােদয় কৃপা বিতরনে বর্ণিত বিষয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে নিবেদক।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply