মহেশখালীতে হেফাজতের তান্ডবের ঘটনায় মামলার ভয় দেখিয়ে অপহরণ,অতঃপর মুক্তিপণ আদায় !

এ.কে.রিফাতঃমহেশখালী।

মহেশখালীর বড় মহেশখালীতে হেফাজতের তান্ডব ইস্যুকে পুঁজি করে এক আফ্রিকা প্রবাসীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায় যে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের৷ সাধারণ সম্পাদক মৌলানা মামুনুল হক গত ২ এপ্রিল ঢাকার সোনারগাঁও এ একটি আবাসিক হোটেলে ‘কথিত স্ত্রী সহ অবরুদ্ধ’ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে হেফাজতপন্হীরা হঠাৎ লাঠিসুটা নিয়ে মিছিল শুরু করে উপজেলার কালারমার ছড়ায় বৌদ্ধ মন্দিরে আক্রমণের চেষ্টা করা হয়।

এছাড়াও বড় মহেশখালীতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ অফিসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং উপজেলা প্রশাসন ও থানা এলাকায় হামলা করা হয়। উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় হামলাকারীরা বাইর থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে উপজেলা শিক্ষা ভবন ও নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের কাঁচ ভাঙচুর করে।

এ সব ঘটনায় মহেশখালী থানা পুলিশ ও পাবলিক বাদি হয়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। তিনটি মামলায় নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা সহ প্রায় ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

উক্ত তিন মামলায় নিরীহ ও ঘটনার সাথে জড়িত না এমন অনেকের নাম এজহারে উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা থাকায় গ্রেফতার আতংকে ইতিমধ্যে এলাকা ছাড়া বড় মহেশখালী সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ের অনেকেই। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত নেই এমন অনেকের নাম মামলায় জড়ানো এবং জড়িতদের টাকার বিনিময়ে মামলা হতে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীলীগ সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

তবে হেফাজতের ব্যানারে জামায়াত-বিএনপির লোকজন এ হামলা চালিয়েছে বলে আওয়ামী লীগের সিনিয়র পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দাবি করে আসছেন।

এদিকে একাধিক সূত্রের অভিযোগ, মিছিল, হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার পরেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত পরিবারের লোক হওয়াতে এজাহারে নাম উল্লেখ করা হয়নি অনেকের। তাদের অভিযোগ নিরীহ অনেককেই আসামি করে মামলা বাণিজ্যে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

প্রাপ্ত তথ্য হইতে জানা যায় যে,গত ১৮ এপ্রিল ২০২১ইং; (রবিবার) রাত আনুমানিক ১১ টা ৪০ মিনিটের সময় উপজেলার ছোট মহেশখালী নলবিলা গ্রামের বাসিন্দা আফ্রিকা প্রবাসী মাওলানা শাহ্ আলম কে তাঁর শশুর বাড়ি বড় মহেশখালীস্থ মাঝের ডেইল গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা এনামের বাড়ি থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী কর্তৃক অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উক্ত ঘটনার সূত্রমতে জানা যায় যে,উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ফোরকানের পুত্র বড় মহেশখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন জাহাঙ্গীর শিমুলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা বড় মহেশখালী মুন্সির ডেইল এলাকার সাগর, নতুন বাজার সাতঘরিয়া পাড়া এলাকার সানাউল্লাহ সেলিম, জাগিরা ঘোনা এলাকার জমির সহ একদল ছাত্রলীগের নেতাকর্মী আফ্রিকা প্রবাসী মাওলানা শাহ্ আলমকে অপহরণের পর দেড় লক্ষ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী মাওলানা শাহ্ আলমের পরিবার।

ভুক্তভোগী শাহ্ আলমের শ্যালক মাওলানা হোজাইফ উল্লাহ জানান, ‘১৮ এপ্রিল (রবিবার) রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে বাড়ির দরজায় কড়া নেড়ে দরজা খুলতে বলা হয়। দরজা খোলার সাথে সাথে ১৪/১৫ জনের একটি দল বাড়িতে প্রবেশ করে। আমার মা বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে মাকে মারধরের চেষ্টা করেন তারা। ঐ সময় তারা বাড়ির বিভিন্ন রুমে প্রবেশ করে। একটি রুম থেকে আমার বোনের জামাই মাওলানা শাহ্ আলমকে টেনেহিঁচড়ে বের করে টমটম গাড়িতে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সোহাগ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে একই রাতে অপহরনকারী চক্রটিকে দেড় লক্ষ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে প্রদান করার পর তারা মাওলানা শাহ আলমকে ছেড়ে দেন।

উক্ত বিষয়ে অপহরণের শিকার মাওলানা শাহ্ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ১৮ এপ্রিল (রবিবার) রাতে শশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলাম, হঠাৎ রাত আনুমানিক ১১ টা ৪০ মিনিটের সময় ছাত্রলীগ নেতা শিমুলের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগের নেতাকর্মী আমাকে অপহরণ করে একটি টমটম গাড়ি নিয়ে নির্জন স্হানে নিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়ার পর তাঁরা আমার কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। আমি তাদের কে ৫০ হাজার বিনিময়ে আমাকে ছেড়ে দিতে বলি, কিন্তু তাঁরা রাজি না হওয়ার শেষ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক দেড় লক্ষ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে আমাকে ছেড়ে দেন।

অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও মামলা বাণিজ্য নিয়ে বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় অফিসে ভাংচুর মামলার বাদী নুরুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলার ভয় দেখিয়ে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়ের বিষয় টি আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি- উক্ত বিষয়ে আমরা তদন্তপূর্বক সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্হা নিবো।

উক্ত বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হালিমুর রশিদের কাছে তিনি বলেন,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মহেশখালী উপজেলা শাখা অথবা মহেশখালী উপজেলার আওতাধীন যে কোন ইউনিয়নের নাম দিয়ে কেউ যদি সংগঠন পরিপন্থী কোন কাজ করে থাকে, তার দ্বায়ভার কখনোই সংগঠন নিবেনা।

এদিকে ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং জানাজানি হলেও পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত বিষয়ে অফিসিয়ালি কোন তথ্য নেই বলে জানান মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল হাই ৷

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply