মহেশখালীতে হেফাজতের ভাঙচুর মামলায় আসামি সহস্রাধিক; গ্রেফতার আতংকে এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার সিবিএল২৪ ঃ

হেফাজত নেতা মাও মামুনুল হকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৩ এপ্রিল গভীর রাতে কক্সবাজার মহেশখালীতে ইউএনও কার্যালয়,মহেশখালী থানাতে ভাংচুর সহ ও বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে।বিভিন্ন প্রান্তে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা ও ভাংচুর হয়৷এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাদী হয়ে দুইটি এবং বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করে ৷উক্ত মামলায় পুলিশ দুজনকে আটক করে ৷
আটককৃতরা হলেন-মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক তারেকুর রহমান জুয়েল,পিতা -মোঃসোলতান অপরজন বড় মহেশখালী নুরুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মোকাররম,পিতা- হাজি মুহাম্মদ কবির বলে জানা যায় ৷

মহেশখালী পুলিশের করা দুইটি মামলায় নামে ৩৫জন এবং অজ্ঞাতনামা ৫০০জনকে আসামী করা হয়েছে।অপরদিকে বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি নুরুল আমিন বাদী হয়ে করা মামলায় নামে ৬৭জন এবং অজ্ঞাতনামা প্রায় ৩০০জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করে।

মহেশখালী থানার এজাহার সূত্রে জানা যায়-
১৫(৩) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন তৎসহ ১৪৭/১৪৮/ ১৪৩/৩৩২/৩৩৩/ ৩৫৩/৩০৭/৪২৭/ ১৮৬ পেনাল কোড- ১৮৬০; অনুযায়ী বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে পরস্পর যােগসাজসে রাস্তায় দাঙ্গা সৃষ্টি করে,রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সহ সরকারী সম্পত্তি ভাংচুরের চেষ্টা ক্ষতিসাধন সহ অন্তর্ঘাত কার্য করে সরকারী কর্মচারিকে কর্তব্য কাজে বাধা দান ও হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমন করে৷ সাধারণ এবং গুরুতর জখম করার অপরাধে এসআই মোঃ মফিজুল ইসলাম বাদি হয়ে জ্ঞাত ১৫জন সহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ২৫০/৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে,যার মামলা নং
৭/২১ ৷

পুলিশের করা অপর আরেকটির মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৫(৩) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন তৎসহ ১৪৩/৩৩২/ ৩৩৩/৩৫৩/১৮৬ পেনাল কোড-১৮৬০ মোতাবেক বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে সরকার বিরােধী নানা রকম উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে,সর্ব সাধারণের চলাচলের রাস্তায় অরাজকতা সৃষ্টি করে, জনসাধরনের জানমাল,সরকারী সম্পত্তি,ও যানবাহন ভাংচুরের চেষ্টা, সরকারী কর্মচারিকে কর্তব্য কাজে বাধা দান,আক্রমন সহ আহত করার অপরাধে এসআই মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বাদি হয়ে জ্ঞাত ২০জন ও অজ্ঞাতনামা ২৫০/৩০০জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে,যার মামলা নং ৮/২১ ৷

অপরদিকে বড় মহেশখালীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাদি হয়ে করা মামলায় জ্ঞাত ৬৭জন ও অজ্ঞাতনামা ২৫০/৩০০জনকে আসামী করা হয় ৷

মামলার অগ্রগতি প্রসংগে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল হাই জানান,প্রতিটি মামলার বিশ্লেষণ ও তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে আমাদের হাতে কিছু ডকুমেন্টস এসেছে, ডকুমেন্টস পর্যালোচনা করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে ৷
পাশাপাশি কোন নিরিহ ব্যাক্তি যাতে হয়রানি না হয় সেদিকেও পুলিশের বিশেষ নজর রয়েছে বলে তিনি জানান ৷

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply