মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মেলা আগামীকাল থেকে উদ্ভোধন

এ.কে.রিফাত;মহেশখালীঃ

উপমহাদেশের সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তম তীর্থ স্থান মহেশখালীর মৈনাক পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত আদিনাথ মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী মহেশখালীর আদিনাথ মেলা ও শিব চর্তুদর্শী পূজা শুরু আগামিকাল ১১ই মার্চ ২০২১ইং;(বৃহস্পতিবার)বিকাল থেকে।

এটি মুলত সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের মহাব্রতানুষ্ঠান “শিব চর্তুদশী” ও সপ্তাহ ব্যাপী মেলা। এ উৎসবটি আগামী ১০দিন পর্যন্ত চলবে বলে জানান আদিনাথ মন্দির সংস্কার কমিটির সাধারন সম্পাদক বাবু প্রণব কুমার দে।

বৃহস্পতিবার বিকাল হতে শিব দর্শন ও পূজা অর্চণা শুরু হয়ে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত চলেবে শিব দর্শন।
এর পর থেকে পুজারীরা পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে গয়াধামে পিন্ডদানের মাধ্যমে তর্পন,শ্রাদ্ধ সম্পন্ন
করবেন বলে পূণ্যর্থীরা জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়ঃ-হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে,
শিব লিঙ্গ (অঙ্গ) রুপে অবস্থান করে এবং সেখানে তিনি সদাজাগ্রত।
হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে এ ধারণা প্রবল রয়েছে যে,পুণ্য তিথি শিব-চর্তুদশীতে এই ধামে স্নান,শিব পূজা এবং ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও শ্রবণকরলে জাগতিক পাপ মুছে গিয়ে পূণ্যের সঞ্চার হয়।

অন্যদিকে মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে শিব চর্তুদশী পূজা পালন করতে দেশীয় সনাতন ধর্মালম্বী ছাড়া ও পার্শ্ববতী দেশ ভারত, নেপাল, ভূটান, মায়ানমার, শ্রীলংকা,মালদ্বীপ থেকে অসংখ্য ভক্ত ও পুজারিদের সমাগম ঘটবে বলে জানান আদিনাথ মন্দিরের কর্মরত পুরহিত।

শিব চতূদর্শী পূজা পালন শেষে পূণ্যর্থীরা মন্দিরের পাদদেশে স্থাপিত মেলা থেকে বাড়ীর জন্য বিভিন্ন নিত্যপন্য সামগ্রী কিনে নিয়ে যায়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শীর্ষ এ মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দোকানীরা আসে তাদের পন্যসামগ্রী বিক্রিরজন্য। এই মেলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল যাত্রাগান,ভ্যারাইটি শো,র‌্যাফেল ড্র’র নামে জুঁয়া খেলা, পুতুল নাচ, সার্কাস,মোটরসাইকেল (মৃত্যুকুপ) সহ বিভিন্ন প্রকার বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান এর মাধ্যামে বিশাল বানিজ্য মেলার আয়োজন করে থাকেন।

যার ফলে এ নিয়ে ঘটতে থাকে বিভিন্ন প্রকারের অপ্রীতিকর ঘটনা।মেলা আয়োজক কমিটি জানায়-এবারের মেলায় অশ্লীল নাচ গান বর্জন করে শুধুমাত্র পুজারী ও স্থানীয় দর্শনাথীদের প্রয়োজনীয় পন্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে,সেদিকে লক্ষ্য রেখে আদিনাথ মেলা করতে তারা আগ্রহী।

এদিকে আদিনাথ মন্দিরে যুগ যুগ ধরে শিব চর্তুদশী পুজা হলেও পিন্ড দান করতে হতো সুদুর ভারতের গয়াকাশি গিয়ে।যা অনেক গরীব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা সম্ভব হতো না। এ ভাবনা থেকে শিব চর্তুদশী পুজায় র্পূর্ণ্যথীদের জন্য আদিনাথ মন্দিরের পাদদেশে মহেশখালীর (ভূমি) অফিসের এম,এল,এস,এস, কুতুবদিয়া অধিবাসী ধর্মপ্রাণ প্রয়াত রাম হরি দাশ সম্পূর্ণ নিজের অর্থ ও পরিশ্রমে ১টি গয়াকাশির আদলে গয়া ধাম, ১টি গঙ্গাবিষ্ণু মন্দির,১টি গঙ্গা পুকুর ও ১টি মহা শ্মশান নির্মাণ করে দেন পুজারীদের সুবিধার্থে।

অপর দিকে দেশ বিদেশ থেকে আগত পূণ্যর্থী ও মেলার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন জোর তৎপর রয়েছে বলে জানান-মহেশখালী কুতুবদিয়ার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার জাহেদুল ইসলাম।

তিনি আরও জানান,মেলায় আগত পূজার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে ইতোমধ্যে।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজায় আগত তীর্থ যাত্রীদের সুবিধার্থে মন্দিরের ১কিলোমিটারের মধ্যে মহেশখালী কলেজ মাঠ,পশুহাসপাতাল, উপজেলা পরিষদ চত্বর, ডাক বাংলোস্থ পুরাতন হাসপাতালের মাঠ,বড় রাখাইন পাড়া মন্দিরের সামনে গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মহেশখালী কুতুবদিয়ার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার জাহেদুল ইসলাম আরও বলেন,আদিনাথ মেলায় কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন সব সময় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।পুজারিদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ র্ফোস রয়েছে।
শান্তি শৃংখলা রক্ষার্থে স্থানীয় জন সাধারণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

আদিনাথ মন্দিরের প্রধান পূরোহিত জানান, শিব চতূর্থদর্শী পূজার মূল দর্শণ ১১ই মার্চ বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুরু হয়ে ১২ই মার্চ শুক্রবার বিকালে শেষ হবে।

উক্ত আদিনাথ মেলার বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন-দেশী বিদেশী হাজার হাজার পুজারীর আগমনে মহেশখালীর আদিনাথ মেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মিলন মেলায় পরিনত হয়।

আদিনাথ মন্দিরের পুজা ও মেলা সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে পালনের জন্য মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকজনের সমন্বয়ে বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন সম্পুর্ণ প্রস্তুুুত রয়েছে এবং তীর্থ যাত্রীদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে জেটিঘাটে পর্যাপ্ত পরিমাণ নৌ-জান ও স্পীড বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন আদিনাথ মন্দিরের উক্ত তীর্থ মেলা ও পুজায় যদি কোন দেশী-বিদেশী দর্শনার্থী কোনরকম হয়রানির স্বীকার হন তবে সাথে সাথে আদিনাথ মন্দিরের প্রবেশপথে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করার জন্য বিনীতভাবে অনুরুধ জানান।

পরিশেষে তিনি উক্ত আদিনাথ মেলা ও শিব-চতুর্দর্শী মেলার সফলতা কামনায় সকল শ্রেনীপেশা মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply