যুবলীগ কর্মী বেলালের অপকর্ম বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযান চেয়ে খোলা চিঠি।

খোলা চিঠি

বরাবরে,

মাননীয় এমপি মহোদয়। মহেশখালী- কুতুবদিয়া (কক্সবাজার – ৩ )

বিষয়: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে “শুদ্ধি অভিযানের”অংশ হিসেবে তথাকথিত যুবলীগ নামধারী অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য বিনীত আবেদন।

ক্যাডার বেলাল

প্রিয় অভিভাবক,

পত্রের শুরুতে সালাম ও হাজারো ফুলের শুভেচ্ছা রইল। আশা করি ভালো আছেন! আমরা আপনার নির্বাচিত এলাকার সচেতন নাগরিক ও বঙ্গবন্ধু আদর্শের তৃণমূল কর্মী হই। নিশ্চয় আপনি অবগত আছেন কালারমার ছড়া ইউনিয়নের ইউনুছ খালী- মাইজ পাড়া গ্রামটি একটি সম্প্রীতিময় ও শান্তিপূর্ণ এলাকা,এই এলাকায় রাজনৈতিকভাবে কেউ কাউকে হয়রানির অভিযোগ অতীত রেকর্ডে নেই।

এখানে সব দল বা ভিন্ন মতের লোকজন তাদের সৌহার্দপূর্ণ অবস্হানে থেকে পরস্পরকে সম্মান-স্নেহ এবং পূর্ণ সম্প্রীতির চর্চা করে আসছেন।কিন্তু বিগত এক বছর কাল যাবৎ মাননীয় এমপি মহোদয় আপনার নাম ব্যবহার করে অত্র এলাকায় যুবলীগ নামধারী বেলাল উদ্দীন নামের (পিতা: মৃত মো:শরীফ) এক ব্যাক্তি সন্ত্রাস,চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন জবরদখলের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে! প্রতিনিয়ত যুবলীগ নেতা পরিচয়ে সাধারণ মানুষদের সাথে কথায় কথায় গাদ্দারী, দূর্বব্যবহার ও প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি এবং এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ এমনকি এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুরীব্বারা পর্যন্ত তার বেয়াদবীর হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা! সাধারণ মানুষের দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের সত্ত্ব দখলীয় জমিতে চাষাবাদ করতে বাধাদানসহ নিয়মিত ফৌজদারী অপরাধ সংঘটিত করে আসছেন।

উল্লেখ্য আওয়ামীলীগের জেলা সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ উপজেলা যুবলীগের আহবায়কের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষদের প্রা:য়শ হুমকি ও হয়রানি করতে দেখা যায়। মাননীয় অভিভাবক আপনি নীতি-আদর্শের প্রশ্নে অবিচল এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতীতে ও কার্যকর ভূমিকা রেখে কোন দলীয় সন্ত্রাসকে পাত্তা দেননি। তাই এ যাত্রায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তথাকথিত যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসী, চাদাবাজদের শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানোগ এবং সাংগঠনিকভাবে শাস্তির আওতায় এনে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ করছি। অন্যথায় ডিজিটাল দ্বীপখ্যাত মহেশখালীর ব্যাপক উন্নয়ন,শান্তি শৃঙ্খলার উন্নতি এবং সম্প্রীতির মহেশখালী হিসেবে ইতোমধ্যে যেই সুনাম অর্জনে সক্ষম হয়েছে তা যেন মুখ তুবড়ে না পড়ে, আশা করি তার বিহিত পদক্ষেপ নিবেন প্রিয় এমপি মহোদয়।

সবচেয়ে বড় দুঃখজনক বিষয় যে, বেলাল নামে কথিত যুবলীগ নেতা আপনার রেফারেন্স দিয়ে প্রতিনিয়ত সে ভূমি দখল, ইয়াবা ব্যবসা ও চাদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ করার প্রয়াস তার প্রতিদিনের রুটিনের আওতাভুক্ত কর্মকান্ড হিসেবে এলাকায় বেশ পরিচিত। এছাড়া বেলাল নামে ব্যাক্তিটি দীর্ঘসময়ের বেকার , ভন্ড নেতা হিসেবে এলাকার‍ প্রায় জনসাধারণের বোঝা হিসেবে আখ্যায়িত।

এলাকায় প্রায় মাদক ব্যবসা ও ইয়াবা ব্যবসাতে তার ইন্ধনে হচ্ছে এছাড়া সে নিজেকে তথাকথিত যুবলীগ নেতা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে এলাকায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্থাফা ও আপনার নাম দিয়ে বিভিন্ন অপরাধকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এক সময়ের বিএনপি-জামাত অধ্যুষিত এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের সাথে আপনার ভালো ব্যবহার,আন্তরিকতা যথাসম্ভব সাহায্য -সহযোগিতা এবং অপদ-বিপদে সাধারনের পাশে দাঁড়ানো জনগনের সাথে ডুর টু ডুর সম্পর্কের যে ট্র্যান্ট তৈরী করে বিরামহীনভাবে শ্রম দিয়েছেন এছাড়া এদেশ স্বাধীন করতে বঙ্গবন্ধুর যে ত্যাগ এবং জনসাধারণকে ভালো রাখতে প্রধানমন্ত্রী যে শ্রম দিচ্ছেন তা গ্রামে গঞ্জে গিয়ে বুঝিয়ে বঙ্গবন্ধু আদর্শের কর্মী বাহিনী তৈরীর যেই উৎপাদন ক্ষেত্র তৈরী করেছেন যুবলীগ নামধারী দুষ্কৃতিকরীদের কারণে তা ফসল তুলার পূর্বেই যেন বিনষ্ট না হয়।

বিশেষ নিবেদন: কুতুবদিয়া -মহেশখালী হতে পরপর দুবার নির্বাচিত সাংসদ অত্র এলাকার শ্রদ্ধেয় অভিভাবক তুল্য জনাব আশেক উল্লাহ রফিক এমপি মহোদয়ের নিকট একটি খোলা চিঠি প্ররণ করলাম।

নিবেদক

অত্র এলাকার ভূক্তভোগী জনসাধারণ ।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply