মহেশখালী জাগ্রত ছাত্রসমাজের ৮টি প্রাণের প্রাপ্য দাবিসমূহ

মহেশখালীতে বর্তমান সরকারের গৃহীত বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ব্যাপক অনিয়ম, দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং ভূমির ন্যায্যমূল্য ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবিতে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ চলমান বিভিন্ন প্রকল্পে মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের প্রাণের দাবিসমূহঃ 

 ১. প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য একর প্রতি কমপক্ষে তিন কোটি টাকা ধার্য্য করতে হবে।
২. অধিগ্রহণকৃত জমির বৈধ কাগজপত্র (ফাইল) জমাদানের সর্বোচ্চ ০১(এক) মাসের মধ্যে জমির মালিককে সম্পূর্ণ টাকার চেক হস্তান্তর করতে হবে। অবশ্যই প্রকল্পের দালিলিক কাজ শুরু করার আগেই জমির মালিককে যথাযথ ন্যায্য মূল্য বুঝিয়ে দিতে হবে।
৩. ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রকল্প এলাকায় ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন করতে হবে। এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশনের মাধ্যমে প্রকল্পের সার্বিক তত্বাবধান, প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
৪. ইতোপূর্বে অধিগ্রহণকৃত জমির দূর্নীতির সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। ভবিষ্যতে দুর্নীতি ও দালালদের দৌরাত্ম্য শতভাগ বন্ধ/প্রতিরোধে অবশ্যই দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. প্রকল্পে কর্মসংস্থান নিশ্চিতকল্পে স্থানীয় জনগণকে শতভাগ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সেই লক্ষ্যে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে যোগ্য করে তুলতে হবে। প্রকল্পে স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষিত যুবকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে ৭০% চাকুরীর কোটা সংরক্ষণ করতে হবে।
৬. বসতবাড়ি ও দোকানপাট উচ্ছেদ করে নতুন করে আর কোন জমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। আমরা উন্নয়ন চাই, তবে গৃহহীন হতে চাইনা ।
৭.আমাদের মাটিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও গ্যাস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে আমাদের মহেশখালীতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
৮. প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিরসন, ঝুঁকি মোকাবেলা ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

উন্নয়ন ও পুনর্বাসন দুইটাই একে অন্যের পরিপূরক। অথচ মহেশখালীর খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জমি অধিগ্রহণ করা হলেও তারা এখনো ন্যায্যমূল্য ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায়নি। ভূমি অফিসে দালাল ছাড়া কাজ করা যায় না। বৈধভাবে টাকা উত্তোলন করতে চাইলে মাসের পর অপেক্ষা করতে হয়। দালালরা টাকা ছাড় করে দেওয়ার নাম করে ২০-৩০% কমিশন কেটে নিচ্ছে। ভূমি অফিসের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্থানীয় দালাল নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠিত হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের কাছে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। 

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply