মহেশখালী থেকে কক্সবাজার বোট ভাড়া বৃদ্ধি; জনমনে অস্বস্তি

মিসবাহ ইরান মহেশখালীঃ

কক্সবাজার মহেশখালী জেটিঘাট যেন এক দূর্নীতির আতুর ঘর।এখানে নেই কোন অবকাঠামোর উন্নয়ন,নেই কোন সুযোগ সুবিধা,থেমে নেই দূর্নীতি ও যাত্রীদের হয়রানি!সাম্প্রতিক সময়ে ডিসি অফিস কর্তৃক মহেশখালী থেকে কক্সবাজার জনপ্রতি ৭৫ টাকা থেকে ১২০ টাকা (৬জন যাত্রী এক বোট) স্পীড বোট ভাড়া নির্ধারণ করে ৬০℅ বৃদ্ধি করলো।কিন্তু মানুষের আয় ও জেটিঘাটের কোন সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারণে বা উন্নয়নে কোন উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মহেশখালীর সাধারণ মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস হল লবণ,পান,মাছ,চিংড়ি ও কাকঁডা ইত্যাদি।আয়ের অন্যতম উৎস গুলো এখন প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে।দাম পাচ্ছে না এ সব খাত থেকে।তাছাড়া এ সব উর্বর ভুমিতে গড়ে উঠেছে কয়লা ভিত্তিক প্রকল্প।আর এ সব ভূমি কয়লা ভিত্তিক প্রকল্পে চলে যাওয়ায় শেষ সম্বলের ক্ষতিপূরণও পেতে হিমশিম খাচ্ছে মহেশখালীর সাধারণ জনগনের।ভূমি অফিসে দালাল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিতে হয় কমিশন ৩০-৩৫%, হয়রানির শিকার হতে হয় মাসের পর মাস।এসব বিভিন্ন কারণে মহেশখালীর সাধারণ মানুষ দূর্দশা দিন কাটাচ্ছে।কিন্তু রাঘববোয়াল, জনপ্রতিনিধি ও উচ্চ বিত্তরা কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করে অবৈধ টাকার স্তুপে আরাম করে ঘুমাচ্ছে ও মজা নিচ্ছে।কেউ নেই বলার এ জেটিঘাট সম্পর্কে।তার উপর আবার অর্পিত হল ডাবল ভাড়া!চীনের বড় দুঃখ ছিল হোয়াংহো নদী আর মহেশখালীবাসির বড় দুঃখ ও দুর্ভাগ্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা নেতা সাথে এ জেটিঘাটের হয়রানি ও নানা অনিয়ম।যাদের চোখে কখনো মানুষের দুর্দশা চোখে পড়ে না!

এলাকার সাধারণ জনগন বলেন,কক্সবাজার জেলা কর্তৃক স্পীড বোটের জনপ্রতি ১২০ টাকা (৬জন যাত্রী) স্পীড বোট ভাড়া নির্ধারণ করা হলে এতে কারো কোন প্রতিক্রিয়া নেই।লবনের দাম নেই, সাধারণ মানুষ না খেয়ে আছে। তার উপর ডাবল ভাড়া,নেতা কিংবা জনপ্রতিনিধিদের কাছে এসব চোখে পড়েনা!ভোটের সময় আসলে জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়ন কথা বা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে।কিন্তু ভোট শেষ হলে তাদের দেওয়া সে প্রতিশ্রুতি আর রক্ষা করে না।

জনগনের অভিমত,মহেশখালী সাধারণ জনগন দক্ষ,বিচক্ষণ,সাহস ও প্রতিবাদী একজন নেতাহীনতায় ভুগছে।সুষ্ঠু নেতৃত্বের দেওয়ার জনপ্রতিনিধি এখন বিরল।আমোদ আর ফুর্তি করায় তাদের কাজ।সবাই ক্ষমতায় থাকতে চাই জনগনের কথা বলতে চায়না।প্রকাশ্যে কোন প্রতিনিধি এ জেটিঘাটের অনিয়ম,দূর্নীতি ও ভাড়া সম্পর্কে মতামত দেয়নি।আর মতামত না দেওয়ার করাণ কি?তারা কি কারও কাছে জিম্মি? প্রশ্ন সাধারণ জনগেনর!
এ জেটিঘাট একটি বড় মাফিয়া বা চক্র নিয়ন্ত্রণ করে আর তা দেখা যায় সংশ্লিষ্ট বোট শ্রমিক ও জেটিঘাটের কর্তৃপক্ষের ব্যবহারে।

সাংবাদিক এস.এম. রুবেল বলেন
মহেশখালী জেটিঘাটের ভাড়া বৃদ্ধি,যাত্রীদের হয়রানি,দূর্নীতি সম্পর্কে এলাকায়া কয়েকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছিল কিন্তু কোন জনপ্রতিনিধির মুখ থেকে কোন আশার বাণী শুনতে পায়নি।কেউ বলেনি অনিয়ম, দূর্নীতি,যাত্রীদের হয়রানি সম্পর্কে? আর যদি শুনা না যায় বা বলা না হয় তাহলে বয়কট করি সে সব জনপ্রতিনিধিদের যারা জনগণের পাশে থেকে কথা বলতে ভয় পায়!তাই সরকারকে এ জিম্মি দশা থেকে মহেশখালী সাধারণ জনগনকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য জোর দাবী জানান।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply