মোবাইল ফোনের এক কলেই দু’টি জীবন তচনচ

24livenewspapers.com

বিয়ের সাত মাস পর গৃহবধূর মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল আসে। সেই কলের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক। একসময় বিয়ের প্রস্তাব দেয় ছেলেটি। বিয়ের আশ্বাসে স্বামীকে তালাক দেয় বধূটি। এরপর বিয়ের ব্যাপারে বেঁকে বসেছে সেই ছেলেটিও। এমন ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের শিবপুর ইউনিয়নে।

phone calls

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভৈরব থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তাতে বলা হয়, রং নাম্বারে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠা ছেলেটির নাম আপন মিয়া (২৫)। বাড়ি শিবপুরের পানাউল্লাহরচর গ্রামে। আর মেয়েটির বাড়ি পাশবর্তী জেলার মিঠামইন উপজেলায়। তবে বাবার কর্মের সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে ভৈরবে বসবাস করছেন তারা।

ছেলেটির সঙ্গে এক পর্যায়ে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। এরপর মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে স্বামীকে তালাক দেয়ার পরামর্শ দেয় ছেলেটি। আপনের কথা মতো পরিবারের কাউকে না জানিয়েই গত পাঁচ দিন আগে স্বামীকে তালাক দেয় মেয়েটি। তালাকনামার সেই কপি দেখানোর পর এখন ছেলেটি আর তাকে বিয়ে করতে চাইছে না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়েটি বলছেন, ‘যে আপনের জন্য স্বামী-সংসার সব হারালাম সেই মানুষটিই এখন আমার সবচেয়ে পর। তাকে হারিয়ে সাবেক স্বামীও ভেঙে পড়েছেন বলে শুনেছি। এ কারণে দুই পরিবার এবং সমাজের চোখে খারাপ হলাম। আর কী বাকি আছে!’

ক্ষমার অযোগ্য অনুশোচনা নিয়ে তিনি বলেন, একটি ফোনকলই আমার সুখের সংসার ভেঙে দিয়েছে, দুটি জীবন তছনছ করে দিয়েছে।

এমতাবস্থায় গত শুক্রবার প্রতিকার চেয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হয় মেয়েটি। তার অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এরইমধ্যে ছেলেটিকে ধরতে পুলিশ অভিযানে নামলেও তাকে ধরতে পারেনি।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার এসআই হুমায়ুন কবির জানান, অভিযোগ পেয়ে ছেলেটির বাড়ি গিয়েছিলাম আমরা। তাকে না পেয়ে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে আপন দাবি করেন, আরেকজনকে কল করতে গিয়ে ভুলবশত মেয়েটির ফোনে কল যায়। এরপর মেয়েটি উৎসাহী হলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু বিয়ের আশ্বাস বা শারীরিক সম্পর্ক- এর কোনটিই হয়নি তাদের মধ্যে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply