রাজনীতিতে নয়া মেরুকরণের আভাস

বাংলা ইনসাইডার:

আওয়ামী লীগের অনেক হেভিওয়েট নেতাই এখন কর্মহীন। দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের কোন মতামত নেওয়া হচ্ছে না। এজন্য তারা অসন্তুষ্ট। এনিয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা নিজেদের মধ্যে আলাদা করে বৈঠক করছেন এমন খবর পাওয়া গেছে।

শুধু নিজেদের মধ্যে বৈঠক করছেন না, এই বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনীতিতে করণীয় কি এনিয়ে আওয়ামী লীগের অন্তত ৪জন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ঐক্যফ্রন্টে ড. কামাল হোসেনসহ একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন লন্ডনে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। তখনই রাজনৈতিক মেরুকরণের এই নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে। বর্তমান সময় এই মেরুকরণ আরো স্পষ্ট হচ্ছে বলেও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই রাজনৈতিক নতুন মেরুকরণে একটি বিদেশি দূতাবাসেরও স্পষ্ট সমর্থন এবং মত রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, বিএনপি যেহেতু তারেকের নেতৃত্ব ছাড়বে না। তারেকের নেতৃত্বে থাকলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে বিবেচিত হবে না সেজন্য বিএনপিকে বাদ দিয়ে রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার সূচনা করার লক্ষ্যে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর থেকে নানা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে এই প্রক্রিয়ার কাজ চলছে। ড. কামাল হোসেনকে এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে গণফোরামে আসা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এবং রেজা কিবরিয়া। এছাড়াও মাহমুদুর রহমান মান্না এবং আ.স.ম আব্দুর রবও এই প্রক্রিয়ায় জড়িত আছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন, ড. জাফরুল্লাহ, মাহমুদুর রহমান মান্না এবং আ.স.ম আব্দুর রবের মতো নেতারা প্রত্যেকেই এখন বিএনপির ওপর অসন্তুষ্ট। এনিয়ে তারা তাদের অসন্তুষ্টতার কথা বিএনপিকে জানিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নেতা নেতা বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, বিএনপি সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। কোন কর্মসূচী নেওয়ার আগে তাদের লন্ডনে যোগাযোগ করতে হয়। এরফলে ঐক্যপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। যেকোন সিদ্ধান্তের জন্য লন্ডনের দিকে তাকিয়ে থাকাটা গর্হিত এবং অরাজনৈতিক। এ কারণেই ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্যরা বিএনপিকে বাদ দিয়ে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ করছে। ইতিমধ্যেই তারা বামমোর্চার সঙ্গে কথা বলেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। যদিও বাম মোর্চার বক্তব্য, তারা সুনির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে এক হতে পারে। ঐক্যফ্রন্ট আর বামের রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য আছে। মোজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সঙ্গে ঐক্যপ্রক্রিয়ার একাধিক নেতার সঙ্গে কয়েকদফা বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে। তবে বৈঠকগুলো ইতিবাচক নয়, তবে পুরোটা নেতিবাচকও নয়। কারণ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মনে করেন দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করা যায় তবে ঐক্যফ্রন্টের মূল টার্গেট হলো ১৪দলে ফাটল ধরানো। ১৪ দলের একাধিক নেতার সঙ্গে তাদের নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে বলে জানা গেছে।

১৪দলের অন্যতম নেতা  রাশেদ খান মেনন এবং হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে একটি অভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে সুশাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ব্যাপারে কথাবার্তা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা যারা এখন দলের মধ্যে প্রায় পরিত্যাক্ত তাদের কীভাবে ঐক্যফ্রন্টে অন্তর্ভুক্ত করা সেটা নিয়েও আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগের নেতারা গোপনে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সমালোচনা করলেও প্রকাশ্যে তারা দলত্যাগ বা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার পক্ষপাতী না। বরং যদি এরকম একটি রাজনৈতিক নতুন প্লাটফর্ম হয় সেই প্লাটফর্মে তাদের নীরব সমর্থনের কথা বলেছেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেনরা চাইছেন তাদের প্রকাশ্য সমর্থন। সেই প্রক্রিয়ায় এখনও তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযানে এখন দলের অনেক নেতাই দলে অস্বস্তিতে রয়েছেন এবং দলে তাদের ভূমিকা না থাকার জন্য তারা হতাশ। এই হতাশাকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিতে একটা নতুন প্লাটফর্ম করার প্রক্রিয়া ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া কতদূর এগুবে সে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। 

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply