রূপালি ইলিশে টইটুম্বুর কক্সবাজার মৎস অবতরণ কেন্দ্র

পরিতোষ বড়ুয়া পবন:

ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ বেচাকেনায় সরগরম কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। সাগরে প্রচুর মাছ ধরা পড়ায় কমেছে দামও। মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সুফল পেতে শুরু করেছেন তারা। আর মাছের সরবরাহ বেশি হওয়ায় রাজস্ব আদায়ও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক।

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের জেটিঘাটে ভিড়ছে ছোট ছোট ডিঙ্গি। ঝুড়ি ভর্তি করে মাছ শ্রমিকরা নিয়ে যাচ্ছেন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পল্টুনে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে সরগরম ফিশারীঘাট।শুধু ইলিশ নয়, রিটা, পোয়া, টুনা, সুরমা, রুপচাঁদা ও লইট্ট্যা মাছে মিলছে প্রচুর। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সুফল মিলছে এখন। ব্যবসায়ীরা বলেন, আগে রিটা মাছ, পোয়া মাছ এগুলো কম ছিল। এখন দেখা যাচ্ছে। বন্ধের কারণে সুফল বয়ে এনেছে। ইলিশ মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। টুনা মাছ ২০০ থেকে ২৮০ টাকা।মাছ বেশি আসায় বেড়ে গেছে শ্রমিকদের ব্যস্ততা। তারা বলেন, ট্রলারে অনেক মাছ আসছে। অনেক ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত প্রতিদিন ইনকাম হচ্ছে।

ফিশিং ট্রলার থেকে মাছ উঠানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিক আবুল কালাম (৩৫)। তিনি বলেন, অনেক ধার-দেনা করে এতদিন সংসার চালাতে হয়েছে। মাঝেমধ্যে দিনমজুরির কাজ করলেও টানাপোড়েনে ছিল সংসার। কিন্তু মাছ ধরা শুরু হওয়ায় গত তিনদিন বেশ ভালো আয় হয়েছে। দৈনিক ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকাও আয় হচ্ছে তার।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. শরীফুল ইসলাম জানালেন, মাছের সরবরাহ বাড়ায় রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও বেড়েছে। তিনি বলেন, মাছ ব্যবসায়ীরা বন্ধের সুফল ভোগ করছে। আগের চেয়ে মাছের সাইজ অনেক ভাল। গত কয়েকদিনে প্রচুর পরিমাণে মাছ হয়েছে।মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের দেয়া তথ্য মতে, গত একমাসে কক্সবাজারের ফিশারীঘাট থেকে সাড়ে ৯’শ মেট্রিক টন মাছ সরবরাহ হয়েছে। যার মধ্যে ইলিশ প্রায় ৩’শ মেট্রিক টন। আর রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫ লাখ টাকারও বেশি।

কক্সবাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা মাছের অকাল কেটেছে, এখন মিলছে রুপালি ইলিশ। দামও ক্রেতাদের অনুকূলে।

কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ফিশারীঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা যায়, ট্রলার মালিক, জেলেপল্লী, ভোক্তা সাধারণের মুখে হাসি ফুটেছে। মাস কয়েক আগে সাগরে মৎস্য শিকার বন্ধ থাকার পর বর্তমানে কক্সবাজারের হাটবাজারে ইলিশে ভরে গেছে।

কিছুদিন আগে বাজারে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের আকাল চললেও এখন ইলিশ পেয়ে দারুণ খুশি স্থানীয়রা। ফিশিং ট্রলারের মালিক নজির আহাম্মদ, সেলিম বহদ্দার, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ আজাদসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, চার-পাঁচ দিন ধরে বঙ্গোপসাগর থেকে যেসব ট্রলার ঘাটে ভিড়ছে, দেখা গেছে, অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের তুলনায় প্রায় বোটে ইলিশই বেশি। কারো ট্রলারে ২০ হাজার, কারো ২৫ হাজার এমনকি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার ইলিশ।

মাছ ব্যবসায়ী জয়লান আবেদীন বলেন, যেভারে ইলিশ ধরা পড়ছে, দেশের চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে বিদেশেও ইলিশ রফতানি করা যাবে। আগের চেয়ে কম মূল্যে ইলিশ ক্রয় করে খুশি মনে ঘরে ফিরছেন ক্রেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমের প্রথম ইলিশ বাজারে উঠেছে এ সপ্তাহে। তাই শুরুর দিকে দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও ধীরে ধীরে নাগালের মধ্যে চলে আসছে বলে জানিয়েছে মাছ ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে ৫০০ গ্রাম (প্রতি পিচ) ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে এবং ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম (প্রতি পিচ) ওজনের ইলিশ ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। তবে অবতরণ কেন্দ্রের বাইরে শহরের বিভিন্ন বাজারে ইলিশের দাম এখনো কিছুটা বাড়তি।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply