রেজিস্ট্রেশন করেও ইতালিগামী যাত্রীরা বিমানের সিট পাচ্ছেন না

মনির হোসেন:

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইতালিগামী যাত্রীদের কেউ কেউ রেজিস্ট্রেশন করেও ফ্লাইটের সিট পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে বিমানের মতিঝিল বলাকা অফিসে টিকিট কনফার্ম করতে এসে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফেরার সময় এ কথা জানান ইতালি প্রবাসী এক যুবক। পরে তিনি বাধ্য হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটে যাত্রার তারিখ রিকনফার্ম করেন।


বিকেল সাড়ে ৩টায় বলাকা অফিসের সামনে মুখে মাস্কপরা এক যুবক সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। প্রতিবেদক তাকে বিমানের টিকিট কাটতে এসেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিমান কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে আমি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছি। দেয়ালে সাঁটানো রেজিস্ট্রেশনের তালিকায় আমার নামও আছে। এখন টিকিট রিকনফার্ম করতে গেলে ভেতরে কর্তব্যরত কর্মকর্তা বলছেন, রোমগামী উড়োজাহাজে আপাতত কোনো আসন খালি নেই। বন্ধুকে নিয়ে সিএনজিতে ওঠার আগে যুবকটি প্রতিবেদককে আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের দেশে সবখানেই দেখছি সমস্যা। ওই আর কী! মনে হয় কিছু দিলে সিট পেতাম। যুবকটি তার বিস্তারিত পরিচয় না দিয়ে শুধু বলেন, আমি আট বছর ধরে ইতালির ভেনিস শহরে বসবাস করছি। প্রতি বছর দেশে আসি আবার চলে যাই। এবার গত বছরের অক্টোবরে এসেছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে যেতে পারিনি। এবার আমার স্ত্রীর ভিসা হয়েছে। তার জন্যই টিকিট কাটতে এসেছিলাম। রেজিস্ট্রেশনও করেছি। এখন সিট না থাকায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের টিকিট নিলাম। আর আমার রিটার্ন টিকিট ইতালি থেকেই করে নিয়ে এসেছি।


যুবকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে বলাকা অফিসে প্রবেশ করতে চাইলে সিকিউরিটি সদস্য জানান, ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না। পরে টিকিট সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার কথা জানালে যাওয়ার অনুমতি দেন। ভেতরে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টারে মাত্র তিনজন দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সুপারভাইজ করছেন একজন কর্মকর্তা। তিনি পূর্ব পাশের একটি রুমে বসে আছেন। এ সময় একজন যাত্রীকে পাসপোর্ট টিকিট হাতে নিয়ে চেয়ারে বসে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পুরো অফিস ফাঁকা। কাউন্টারে কর্তব্যরত একজনের সাথে রোমগামী একজন যাত্রী রেজিস্ট্রেশন করেও সিট পাচ্ছেন না এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পাল্টা জানতে চান, কত তারিখের টিকিট। আর যিনি টিকিট কাটতে এসেছেন তাকে ভেতরে আসতে বলেন। পরে বাইরে গিয়ে দেখা যায়, ওই যুবক সিএনজিতে উঠে চলে গেছেন। তবে যাওয়ার আগে তিনি এ প্রতিবেদককে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইতালির পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে যারা যাচ্ছেন তাদের মাধ্যমে শুনছি, ‘ঢাকা থেকে রোমগামী বিমানের চার্টার্ড ফ্লাইটে যারা ইতালি যাচ্ছেন তাদের মধ্যে থেকে নাকি কোনো কোনো যাত্রীর শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে।’ এমন হলে যেকোনো সময় ঢাকা-রোম-ঢাকা রুটে ফ্লাইট চলাচল ইতালি সরকার বন্ধও করে দিতে পারে। এ জন্যই আমি তাড়াহুড়ো করে চলে যেতে চাচ্ছি।

গতকাল বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোকাব্বির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করে এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে চাইলেও তিনি টেলিফোন ধরেননি। পরে জনসংযোগ কর্মকর্তা তাহেরা খন্দকারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনিও টেলিফোন ধরেননি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন থেকে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেয় বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। সে অনুযায়ী শনিবার পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজ ও এমিরেটস এয়ারলাইন্স শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। এর মধ্যে বিমান শুধুমাত্র ঢাকা-হিথ্রো-ঢাকা রুটে সপ্তাহে রোববার ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আরো কয়েকটি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট চালানোর অনুমতি চেয়ে সিভিল এভিয়েশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ক্লিয়ারেন্স পেলে ৩ জুলাই থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্স শিডিউল ফ্লাইট শুরু করতে পারে। এ দিকে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা-ম্যানচেস্টার-ঢাকা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বিমানের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের ১৫ জুলাই পর্যন্ত সব ফ্লাইট অপারেশন বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে ফ্লাইটের নতুন শিডিউল ঘোষণা করা হবে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply