শহরতলীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে বকাটেদের উৎপাত: অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা।

প্রতিকী ছবি।

তারিকুর রহমান, কক্সবাজার:
কক্সবাজার শহরতলী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারের প্রবেশপথকে ঘিরে বখাটে ছেলেদের উৎপাত বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে অভিভাবকরা তাদের মেয়ে সন্তানদের নিয়ে দিনদিন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবংংট এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণও উদ্বিগ্ন রয়েছেন বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে।

বিভিন্না এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সদর উপজেলার প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথ ঘিরে গড়ে ওঠা রকমারি দোকানে প্রকাশ্যে ধূমপানসহ আড্ডাবাজির নামে কিংবা কেরাম বোর্ড খেলার ছলে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে বখাটে তরুণরা সময়ক্ষেপণ করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়ার পথে ওসব বখাটে মেয়েদের নানা ভাবে উত্যক্তও করছে।
এমন কি যাতায়াতের পথে নানা রকম কটুক্তিসহ অশোভন আচরণ করে তারা। এসব বখাটের অধিকাংশই এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান, মাদকসেবী কিংবা কথিত মিডিয়াকর্মী বা সরকার দলীয় পরিচয়দানকারী কিছু সুুুুযোগ সন্ধানী তরুণ/যুবক। এ কারণেই প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় এই অবস্থা দিনদিন বাড়ছে। বখাটে উৎপাতে লেখাপড়া বন্ধ করে অনেক অভিভাবক তাদের নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে দিতে উদ্যোগী হচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

কক্সবাজার সরকারি কলেজ, কক্সবাজার সিটি কলেজ, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কালুর দোকান ও বার্মিজ মার্কেট এলাকার কয়েকটি কোচিং সেন্টার, মহিলা কলেজ, হার্ভার্ড কলেজ, কমার্স কলেজ, কক্সবাজার কেজি স্কুল, বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি, আমেনা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বখাটেদের উৎপাতের শিকার হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, মেয়েদের স্কুল, কলেজ বা কোচিংয়ে যাতায়াতের পথে বখাটে ছেলেরা যেভাবে বসে থাকে এবং নানা ধরনের কটুক্তি করে কথা বলে ও অশোভন আচরণ করে তা এক কথায় অবর্ণনীয়। তাদের কথায় কর্ণপাত না করলে বিভিন্নভাবে হুমকিও দেয়া হয় বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
এ বিষয়ে তারা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, ‘বখাটে ও ইভটিজারদের বিষয়ে আমরা সবসময় অবগত আছি। কিছুদিন আগেও আমরা অভিযান চালিয়ে কয়েকজন বখাটেদের আটক করেছি। এছাড়াও কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ৭/৮ জনকে অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। আটককৃত বখাটেদের অনেকে আবার স্কুল-কলেজের ছাত্র। এ অভিযান চলমান থাকবে এবং বখাটেদের উৎপাত থেকে ছাত্রীদের নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন স্কুল কলেজে আমাদের মোবাইল টিম কাজ করছে। মোবাইল টিমকে নির্দেশ দেয়া আছে, বখাটে পেলেই যেন সাথে সাথে আটক করা হয়’।
এসব বখাটেদের ইভটিজিং এর দায়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply