ষড়যন্ত্র, বললেন নাছির – bdnews24.com

[ad_1]

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “কেউ যদি আমাকে এসে বলতো যে ভাই, আমার মেয়রের পদ দরকার আছে, তুমি সরে যাও। আমি তো উইলিংলি ছেড়ে দিব। এত মিথ্যাচার, অপপ্রচার-অপরাজনীতির প্রয়োজন ছিল না।

“এগুলো করতে গিয়ে দলই তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আরেকজন আ জ ম নাছির উদ্দীন যদি তৈরি করা তো অনেক বছরের সাধনার বিষয়। আমরা তো দুঃসময়ের পরীক্ষিত কর্মী। আমাদের নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার তো কোনো কিছু নাই।”

নাছির ফের মেয়রপ্রার্থী হতে চাইলেও শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় চট্টগ্রাম নগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এর আগে কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাছিরের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে তার সঙ্গে দুজনকে কেক কাটতে দেখা যায়। তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল শাহরিয়ার রশিদ খানের ছোট ভাই মামুনুর রশিদ খান হেলাল ও মামাতো ভাই একরাম খান হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়।

খান ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এই ছবির দুই ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যতার কারণে মেয়র পদে নাছির মনোনয়ন পাননি বলে ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনা হয়।

মঙ্গলবারের সভায় নিজের রাজনৈতিক অতীতের বিশদ বিবরণ দিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নাছির বলেন, “যেখানে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করেছি, আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ধারণ করেছি।

“… আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে এবাদত হিসেবে নিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য জীবনের যে ঝুঁকি নিয়ে রাজনীতি করেছি সেখানে ছোট্ট একটা মেয়র! মেয়র পদটা আমার জন্য বড় না। রাজনীতিটাই আমার কাছে বড়।”

মেয়র পদে তার দলীয় মনোনয়ন ঠেকাতেই তার বিরুদ্ধে এধরনের প্রচারণা হয়েছে দাবি করে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “সুতরাং আমার যদি কষ্টও হয়ে থাকে বলব এই জায়গায় আমি কষ্ট পেয়েছি।

“একশতে একশভাগ একটা মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার তো কোনো মানে হতে পারে না। পারলে বিষয়টা আপনারা তুলে ধরেন। পুরোপুরি একটা ষড়যন্ত্রের শিকার এটা।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নাছির বলেন, “তিনদিন আগে আমাকে এক জায়গায় দেখানো হয়েছে। দেখলাম, একটা ছবিকে গোল চিহ্ন করেছে। সেটা হলো যে একরাম খান।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি একরাম কুমিল্লার একটি কলেজের অধ্যক্ষ ও কুমিল্লায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি ওখানকার থানা আওয়ামী লীগেরও মেম্বার।

ছাত্রলীগের একই কমিটিতে থাকা টিপু নামে এক ব্যাংকারের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া একরাম কোনো এক ‘চরম দুঃসময়ে’ তাকে ও টিপুকে দেড়-দুমাস আশ্রয় দিয়েছিলেন বলে জানান মেয়র নাছির।

“সেই সুবাদে যোগাযোগ, একারণে কৃতজ্ঞ। এখানে তার একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান.. আমাকে এসে বললো যে, আপনি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটা একটু উদ্বোধন করে দিলে। আমি জাস্ট ওকে চিনি সেই হিসেবে ওখানে অক্সিজেনে, গিয়ে জাস্ট একটা কেক কেটে, আমি চলে এসেছি, তাও গিয়েছিলাম বাচ্চার স্কুল থেকে।”

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাছির বলেন, “পাশে কে দাঁড়াইছে না দাঁড়াইছে, আমি চিনি না। আরেকটা যেটা শাহরিয়ার রশিদ খানের ভাই যাকে বলা হয়েছে তাকে আমি জীবনেও দেখি নাই।

“ওই যে পাশে দাঁড়ালো… কেমনে আসছে কীভাবে আসছে ওটা একরাম খানই বলতে পারবে। আমার সাথে দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই। কোনো যোগাযোগ, সম্পর্ক কিচ্ছু নেই। কিন্তু এই যে অপরাজনীতি, কষ্ট দিয়ে থাকলে এটা কষ্ট দিয়েছে আমাকে।”

‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা আমরা বুঝি না’

নব্বইয়ের দশকে চট্টগ্রামে ফ্রিডম পার্টির সমাবেশ পণ্ড করার ঘটনা তুলে ধরে নাছির বলেন, “সেদিন শফিকুল ইসলাম ছিলেন, গোলাম মোস্তফা বাচ্চু (প্রয়াত), আরো ছিল আজকের আমিনুল ইসলাম, আইয়ুব, রাশেদ, শফিক আদনান, কলিম, আরো অনেকে। তাদের নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিকল্পনা করে ‘ব্রাশফায়ার’ করে পুরো মিটিং পণ্ড করা হয়।

“তারপর থেকে এই শহরে যেখানে যেখানে ফ্রিডম পার্টির সংবাদ পাওয়া গেছে প্রত্যেকটা জায়গায় হামলা করে করে.. তাদের কোথাও দাঁড়াতে দিইনি। এই শহরকে শিবিরমুক্ত করার পেছনে প্রত্যেকটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমি অগ্রনী। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আমি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছি। ”

নিজের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার তুলে ধরে নাছির বলেন, “গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ এরা বায়তুল মোকাররমে জামাতি ইসলামের সভা করে ফাঁসির প্ল্যাকার্ড বহন করে আমার ফাঁসির দাবি করেছে। অপারেশ ক্লিন হার্টের সময় আমাকে হত্যা করার জন্য.. সেটা তো জানেনই।

“ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে পর্যন্ত আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি নাম উল্লেখ করে বলেছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আ জ ম নাছির উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করতে হবে।”

মেয়র পদে মনোনয়ন না পাওয়ায় তার কর্মকাণ্ড চুলচেরা বিশ্লেষণের আহ্বান জানিয়ে নাছির বলেন, “আমাদের দেশে একটা বিষয় আছে- দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা আমরা বুঝি না। যখন থাকে না তখন মর্মটা বুঝা যায়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরীসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নেতারা।

চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরোধে ২০১৪ সালের নভেম্বরে ঘোষিত কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়ে যান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাছির। এর আগে নগর কমিটির কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন না তিনি।

 এর এক বছর পর সিটি মেয়র পদে তিন বারের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রার্থী হতে আগ্রহী হওয়ার পরও দলের মনোনয়ন পান নাছির।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে প্রকাশ্যে বিরোধ, জলাবদ্ধতার প্রতিশ্রুতি পূরণে অনীহা, সিডিএ’র সাথে বিরোধ, বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা ঘিরে নগরীর সাংসদের সঙ্গে বিরোধ, রাজনৈতিক ইস্যুতে বর্ষীয়ান নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বিরোধী পক্ষকে ইন্ধন দেওয়াসহ দলে নানা কারণে সমালোচিত হন নাছির।

সবশেষে দলীয় মনোনয়নের প্রশ্নে এদের বিরোধিতাসহ নগর কমিটির মহিউদ্দিন শিবিরের নেতাদের বিরোধিতার মুখে পড়েন নাছির।

যে বিরোধিতার অংকে উত্থান হয়েছিল নাছিরের সেই বিরোধিতার অংকেই মেয়র পদে মনোনয়ন থেকে নাছির ছিটকে যান বলে আলোচনা চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে।



[ad_2]

Source link

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply