সন্তানকে বসতভিটা ছাড়া করলেন মা!

লক্ষীপুর সদর : সম্পত্তির লোভে মা, দুই বোন ও ভগ্নিপতিরা বসতঘর ভাঙচুর করে তা থেকে উচ্ছেদ করেছে জুলফিকার আলী মামুনকে। ভিটেমাটি হারিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। এ নিয়ে মামুনের স্ত্রী শাহীনুর বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন।

মামুন লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের ফতেহধর্মপুর গ্রামের মরহুম আবদুস সাত্তারের একমাত্র ছেলে। তিনি পেশায় শ্রমিক। তিনি ভিটেমাটি হারিয়ে গত ৫ মাস পাশের বিরাহিম গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

মামুনের বাবা আবদুস সাত্তার সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। তিনি যখন মারা যান, তখন মামুনের বয়স ছিল ১৫ বছর। এ সময় কৌশলে নাবালক মামুনের সব সম্পত্তি দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নেন মামুনের মা ফাতেমা বেগম।

চলতি বছরের ২৫ জুন মামুনের বসতঘর ভাঙচুর করে তাকে উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় মামুন ও তার স্ত্রী শাহীনুর বেগমকে মারধর করা হয়। সম্পত্তির লোভে মামুনের মা, দুই বোন ও ভগ্নিপতিরা পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটায়।

এ নিয়ে মানুনের স্ত্রী শাহীনুর বাদী হয়ে গত ২৬ জুন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দ্রগঞ্জ আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বোন জান্নাতুল ফেরদাউস সুমি ও রিংকু বেগম, ভগ্নিপতি ইসমাইল হোসেন ও প্রতিবেশী মো. খোকন এবং মো. হোবনকে আসামি করলেও করেনি মাকে।

জুলফিকার আলী মামুন বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর মা ফাতেমা বেগম কাজের সন্ধানে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয় তাকে। ভুল বুঝিয়ে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন মা ফাতেমা বেগম।

তিনি বলেন,  ‘‘এই বিষয়ে আমি দীর্ঘ দিন কিছুই জানতাম না। বাবার থেকে প্রাপ্ত জমিতে ঘর বানিয়ে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলাম। হঠাৎ করে মা জানিয়ে দিলেন তার কোনো সম্পত্তি নেই। এরপর পরিকল্পিতভাবে বসতঘর ভাঙচুর ও আমাদের মারধর করে উচ্ছেদ করা হয়েছে।’’ 

মামুনের মা ফাতেমা বেগম বলেন, সন্তানকে ভুল বুঝিয়ে নয়, টাকা দিয়ে সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। জোর করে ক্রয়কৃত সম্পত্তির উপর বসতঘর নির্মাণ করায় ভাঙচুর করে উচ্ছেদ করেছেন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply