সরকারি চাকরিকে পুঁজি করে অনৈতিক পন্থায় আপন বোনদের জমি আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মানিকের বিরুদ্ধে তার নিজের পরিবারের সদস্যদের উপর প্রতারণা করে জমি আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের খিলছাদক এলাকার মৃত মাস্টার নজির আহমদের ২য় পুত্র পেকুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মানিক।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের খিলছাদক এলাকায় মৃত মাস্টার নজির আহমদের ৯ কন্যাকে তাঁহার ৪ পুত্র- রফিক উদ্দিন শাহ নেওয়াজ, মহিউদ্দিন মানিক, সরওয়ার কামাল দুল্লু ও আবছার কামাল ছোট্টু পরস্পর যোগসাজশে জোরজবরদস্তি ও সন্ত্রাসী কায়দায় নিজের গর্ভধারিনী মাকে হজ্বের প্রলোভন দেখিয়ে বিগত (০৪/০৭/২০১৭ইং) তারিখে আমাদের মা মমতাজ বেগমের (০.৫৯৫২ একর) বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি হেবা করিয়ে নেয় এবং বর্তমানে ৯ বোনকে পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার বিশেষ ষড়যন্ত্রের নীলনকশা করছে।

মহিউদ্দিন মানিক বর্তমানে পেকুয়া উপজেলার কৃষি অফিসার হিসেবে কর্মরত, সে তাহার বাকি ৩ ভাইকে লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন পন্থায় ফাঁদে ফেলে বৃদ্ধ মাকে কোলে করে নিয়ে চকরিয়ার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অসুস্থতা ও বয়স্ক অবস্থার সুযোগ নিয়ে জোর করে মায়ের সম্পত্তি হেবা করে নেন। আমাদের মা বর্তমানে মৃত। বিগত ৪ জুন ২০২১ইং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮৩ বছর।

তাহারা আরো বলেন, বর্তমানে ৯ বোনের মধ্যে ১ বোন (পারভীন আক্তার) তার স্বামীর নাম হাফেজ মনির আহমদ। তিনি কৃষি অফিসার ভাই মহিউদ্দিন মানিকের কাছে সম্পত্তির অনৈতিক প্রলোভন ও লালসায় বিক্রি হয়ে গেছেন। বাকী ৮ বোন তাহার ভাইদের কাছ থেকে পিতা-মাতার ন্যায্য অধিকার তাদের সম্পত্তি চাইতে গেলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে ধমক, হুমকি, ইজ্জত ও সম্মানহানি করার ভয় দেখায়। যা মূলত একটি গুরুতর অপরাধ। বিগত সময়ে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আগেও একবার কক্সবাজারের একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। সংবাদ প্রকাশকে তোয়াক্কা না করে এরপরেও সম্পত্তি আত্মসাতে বেপরোয়া কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মানিক।
মায়ের মৃত্যুর পর বর্তমানে তাঁর রেখে যাওয়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও গহনা নিয়ে মহিউদ্দিন মানিক ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে আত্মসাৎ করে নেন। সরকারি চাকরিকে পুঁজি করে এযেন এক অবৈধ প্রভাব নিজের পরিবারের উপর।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, মায়ের গহনার কিছু অংশের টাকা মসজিদে দান করার কথা থাকলেও, তা করেননি কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মানিক। তাহাদের মায়ের মৃত্যুর আগেরদিন মহিউদ্দিন মানিক আইসিইউতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অনৈতিক স্বার্থে প্রত্যেক ভাই-বোনদের কাছ থেকে টাকা উঠাইবার কথা বলেন। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর জানতে পারলেন তাহাদের মাকে মহিউদ্দিন মানিক আইসিওতে নিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, ডাক্তার পর্যন্ত দেখান নাই। এ যেন এক হৃদয়বিদারক নরপিচাশময় দুঃখজনক ঘটনা। সম্পত্তির লোভে প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে ঠকবাজ ও মিথ্যাচার। পরবর্তীতে মায়ের মৃত্যুর পর আরো একবার তাদের সম্পত্তির কথা ভাইদের কাছে বলতে গেলে বাকি তিন ভাই সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে রাজি হলেও মহিউদ্দিন মানিক বর্তমানে তার বড় মেয়ের প্রভাবশালী টাকাপয়সা ওয়ালা ব্যবসায়ী জামাইয়ের ভয় দেখিয়ে বিভিন্নভাবে তা হতে এড়িয়ে চলেন। তার অবৈধ ক্ষমতার দাপটে বর্তমানে অসহায় নিজেদের এই সুন্দর পরিবার।

এবিষয়ে এলাকার স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানলেও এক অদৃশ্য শক্তির কারণে তা সমাধান থেকে সবাই দূরে সরে রয়েছেন। এমতাবস্থায়, মৃত মাস্টার নজির আহমদের অসহায় মেয়েরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগকারীগণ:
মৃত মাস্টার নজির আহমদের কন্যাগণ যথাক্রমে কামরুন নাহার, রওশন আরা মনি, হামিদা বেগম, জনোয়ার বেগম, দিল মুস্তাফা, ইয়াসমিন আরা, কোহিনুর আক্তার ও জান্নাতুল ফেরদাউস।

অভিযুক্ত পেকুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মানিক বলেন, আমার সম্পর্কে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা । তাছাড়া আমার মায়ের কাছ থেকে পাওনা টাকার বদৌলতে উনি আমাকে সম্পত্তিটা দান করেছেন। তিনি আরো বলেন, বসতভিটার পরিবর্তে বোনদের অংশের সমপরিমাণ টাকা দিতেও রাজি আছি।

চকরিয়া কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাবুদ্দিন মেম্বার বলেন, উনারা আমাদের নিকট আত্মীয়, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। তবে বিচার কার্য সম্পাদনের জন্য ২৫ হাজার টাকা জমা রাখার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন, এবং টাকার বিষয়ে তিনি অবগত নন। সকলে বসে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে জানান।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply