সাংবাদিকের ওপর হামলা! অসিতে মসি বধের চেষ্টা

সাইফুল ইসলাম আফ্রিদি

সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ নিলো পাহাড়ের সন্ত্রাস। ওঁৎ পেতে ছিলো ওরা। মেহেদীর পক্ষে কেন কলম তুলেছিল কলম সৈনিকেরা। তার কৈফিয়ৎ দিয়ে যেতে হবে। হামলাকারীদের এমন মনোভাব। হিংস্রভাবে বন্দুক, গুলিতে সজ্জিত থাকা ১০-১২ জন লোক। সুযোগ সন্ধানী হায়েনা, বনজ কুত্তার শিকারে তরুণ সংবাদকর্মীরা। দৈনিক ইনানীর সংবাদকর্মী আ ন ম হাসান, দৈনিক জনকণ্ঠ প্রতিনিধি ফারুক ইকবাল, কক্সবাজার বার্তার প্রতিনিধি এস এম রুবেল, দৈনিক মেহেদীর প্রতিনিধি এ কে রিফাত মহেশখালীর শাপলাপুর বন্ধুর বিয়ে থেকে বৃহস্পতিবার রাত খুশিমনে ফিরছিল বাড়ি। পাহাড়ী রাস্তা,ঢালু জায়গাকে ফাঁদ হিশেবে বেছে নিয়ে গতিরোধ করে মটরবাইকের। বন্দুকের নল ঠেকিয়ে প্রাণ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, সাংবাদযন্ত্র ক্যামেরা গুড়িয়ে দিয়ে মারধর। তখন রাত ১১ টা। নির্জন, নিস্তব্ধ জায়গা। ডা.উসমান এই এলাকার বাঘ। তার বিরুদ্ধে নিউজ করস্? উসমানের গুন্ডাসান্ডাদের অকথ্য গালিগালাজ,হুমকি প্রমাণ করে পাহাড়ী বনের গডফাদার এই উসমান। জানা যায়,উসমান শাপলাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি।

আনম হাসান খুব শঙ্কিত ছিল। হাসান জানাল, সহকর্মীর বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে ফ্রিজ করে রাখা দেখে। প্রতিবাদ করবে ঐ মুহুর্তেই তাকে শারিরীক আঘাত করা হলো, ভেঙ্গে দেওয়া হলো,দুর্নীতি, নির্যাতন, অন্যায় দেখামাত্র লুফে নিতে ভুল না করা ক্যামেরাটি।

এসএম রুবেলকে টার্গেট ঐ হায়েনার দলের। কেন সে মেহেদীর পক্ষে কলম ধরেছিল! মেহেদী উসমানের সন্ত্রাসদের হাতে ২০ সালে হত্যা হয়। বিজিসি ট্রাস্ট পড়ুয়া এই তরুণ ছাত্রের পক্ষে কলম ধরেছিল লাখ টাকার মোহ ছেড়ে সংবাদকর্মীরা। কনভিন্স করার চেষ্টা ছিল তোড়জোড়। বিবেক বন্ধক দেয়নি রুবেল। আপন ছোট ভাইয়ের মতো মেহেদীর পক্ষে কলম চালিয়েছিল। আজ সেই ঘটনার বদলার শিকার সে।

তাদের অদূরে বাইক নিয়ে আসছিল ফারুক ইকবাল আর রিফাত। সামনের বাইক আটকানো আর টর্চ লাইটের আলোয় বুঝতে পারলো ডাকাত পড়েছে। সামনে আসতেই দেখলো রুবেল, হাসানকে মারধর করছে। পরক্ষণেই বুঝতে পারল,ডাকাত নয়! গাড়ি থেকে নামিয়ে তাদেরকে গালিগালাজ ও শাসিয়ে চলে গেল এলকদল বন্ধুকধারী হায়েনার দল।

এই ঘটনা অসিতে মসীকে বধ করার ঘৃন্য চেষ্টা ছিল। লোমহর্ষক এই ঘটনা জানান দিয়েছে, মহেশখালীর পাহাড় এখনো সন্ত্রাসমুক্ত হয়নি। পাহাড়ের গহীন জঙ্গল ও আধারকে বুকে আঁকড়ে ধরে আঁধারের রাজত্ব বাস্তবায়ন করার যে প্রচেষ্টা তা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ার আওয়াজ এসেছে সাংবাদিক মহল থেকে। অবিলম্বে প্রশাসনকে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।

Leave a Reply