সাত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হচ্ছে: সেনা প্রধান

বিডি প্রতিদিন:

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ গতকাল বগুড়া সেনানিবাসে আর্মার্ড কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে ষষ্ঠ সাঁজোয়া কোর পুনর্মিলনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ করেন -আইএসপিআর

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, ক্যাম্পগুলো থেকে রোহিঙ্গারা বের হয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে ধরাও পড়ছে। তারা দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টাও করছে। তাই অপরাধ ঠেকাতে, রোহিঙ্গাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ ও তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাতটি ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গতকাল সকালে তিনি বগুড়া সেনানিবাসে আর্মার্ড কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে ষষ্ঠ সাঁজোয়া কোরের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হচ্ছে। এরপর সব নিয়ন্ত্রণ হবে। তিনি আরও বলেন, প্রায় ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতা প্রশংসিত হয়েছে।

বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সেনাবাহিনীও এদের নিয়ে কাজ করছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, এই ঘটনায় আইএসপিআর থেকে বিফ্রিং দেওয়া হয়েছে। একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সেনা সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে শুধু চাকরিচ্যুতি নয়, তাকে সিভিল জেলেও পাঠানো হবে। তিনি বলেন, আমাদের সব কার্যক্রম অতি স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হয়, কোনো কিছু লুকানোর নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাসদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলাসহ বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, শান্তি চুক্তির আওতায় সেখানে সেনা সদস্য কমিয়ে ও অনেক ইউনিট গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। শান্তি চুক্তিতে শর্ত ছিল শান্তি বাহিনী ও অন্যরা কোনো অস্ত্র রাখবে না। কিন্তু তারা সে শর্ত ভঙ্গ করে যাচ্ছে। ইউপিডিএফের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে।

চাঁদাবাজিসহ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজেদের মধ্যে অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা শান্তি চুক্তির শর্ত পালন করছে না। তাই আমরা অতীতের চেয়ে কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছি।

আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ষষ্ঠ সাঁজোয়া কোরের পুনর্মিলনী প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক-অসামরিক কর্মকর্তারা ছাড়াও আর্মার্ড কোরের অবসরগ্রাপ্ত ও চাকরিরত কর্মকর্তারা অংশ  নেন।

প্যারেড পরিদর্শন শেষে সেনাপ্রধান তার বক্তব্যের শুরুতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার রূপকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া কোরের সদস্যরা ‘প্রাণ দেব, মান নয়’ মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত। এ কোরের সদস্যরা দেশের অভ্যন্তরে যে কোনো দুর্যোগময় মুহূর্তে ও জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার সাঁজোয়া কোরের আধুনিকায়নে অত্যাধুনিক যুদ্ধযান ট্যাংক এমবিটি-২০০০ ও রিকভারি যান সংযোজন করেছে। এ ছাড়াও ১৬ ক্যাভ্যালরি ও ২৬ হর্স নামে আরও দুটি রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশ এবং দেশের বাইরের যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতায় অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও যুগোপযোগী ও আধুনিক হয়ে গড়ে উঠবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply