সিন্ডিকেট বন্ধী কক্সবাজারস্থ মহেশখালী ৬নং ঘাটের যাত্রীরা।

মহেশখালী প্রতিনিধিঃ যেখানে কোন নিয়মকে তোয়াক্কা করা হয়না এই জায়গার নাম কক্সবাজার ৬নং ঘাট। এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী মালামাল সহ মহেশখালী পারাপার করে থাকেন। তাদের মধ্যে স্থানীয় জনগণ, দেশী-বিদেশী পর্যটক সহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী চাকুরীজীবি রয়েছে। প্রতিদিনের ন্যায় আজ ১০ জানুয়ারী সকাল ১১টার দিকেও ঘাটে যাত্রীদের ভীড় জমে যায়। কিন্তু ঘাটে পরিবহনের জন্য কোন বোট নেই। তবে বেশ কয়েকটি বোট বাঁধা থাকলেও ড্রাইভারের দেখা মিলেনি। 
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক শহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০ টা থেকে পরিবার নিয়ে মহেশখালী ভ্রমনের জন্য এ ঘাটে এসেছি। কিন্তু এখানে কোন নিয়ম-শৃঙ্খলা দেখিনি। মাঝেমধ্যে একটা স্পীড বোট যাত্রী নিয়ে আসে আবার ড্রাইভার পছন্দসই যাত্রী নিয়ে চলে যায়। অনেকে ঠেলাঠেলি করে বোটে উঠে যায়।  আমার ছোট বাচ্চা থাকায় আমি ঠেলাঠেলি করে বোটে উঠতে পারিনি। এরূপ একটি জনবহুল ঘাটে নিয়ম-শৃঙ্খলা থাকা দরকার।
বেসরকারী এনজিওতে কর্মরত হাবিবুর রহমান বলেন, আমি দুই বছর ধরে মহেশখালী চাকরি করছি। প্রায় সময়ই ঘাটের অনিয়মের কারণে ঠিকমতো বোট না পেয়ে অফিসে দেরী হয়ে যায়। এখানে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ঠিক করা দরকার।  ড্রাইভাররা তাদের ইচ্ছেমত যাত্রী নিয়ে যায়। প্রতিবাদ করলে খারাপ আচরণের সম্মুখীন হতে হয়। 
স্থানীয় যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘাটের এ অনিয়ম আজকের নয়। এটি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। অজ্ঞাত কারণে এর প্রতিবাদ কেউ করছে না। যারা প্রতিবাদ করছে তাদের পড়তে হয় ঘাট কর্তৃপক্ষের রোষানলে। সাধারণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হলেও বড় বড় নেতা কিংবা রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধিদের অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া হয়। তাদের জন্যে কোন নিয়ম নেই। তারা যখন আসে তখন বোট দেয়া হয়। আর আমরা দাঁড়িয়ে থাকি দীর্ঘ সময় লাইনের পর লাইন। 
ঘাটে এই রিপোর্ট তৈরি করার সময় বিভিন্ন যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল এর উপর অতিরিক্ত টাকা আদায়ের দৃশ্য চোখে পড়ে। দু’একজন প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছে।  কিন্তু ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের নাজেহাল করেছে। 
বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে ঘাটে দায়িত্বরত লোকদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কথা বলতে রাজি হননি। এসময় ঠিক সময়ে বোট না পাওয়ায় যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘাট কর্তৃপক্ষ ও ড্রাইভার যোগসাজশে সিন্ডিকেট করে অবৈধ টাকা উপার্জনের জন্য ঘাটে কৃত্রিমভাবে হয়রানির  সৃষ্টি করেছে।  দ্রুত এর পরিত্রান চাই। 

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply