সীতাকুণ্ডে ডা: শাহ আলম হত্যাকান্ডের মূল হোতা কালু ডাকাত নিহত

সিবিএল ২৪:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার উত্তর বাঁশবাড়িয়া এলাকায় র‍্যাব ৭-এর সাথে ডাকাতদলের গুলি বিনিময়ে চাঞ্চল্যকর ডা: শাহ আলম হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা নজির আহমেদ সুমন প্রকাশ কালু ডাকাত (২৬) নিহত হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে ২টি অস্ত্র ও ২৭ রাউন্ড গুলি।

আজ বুধবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে সাড়ে ৪টার দিকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে এ বন্দুকযুদ্ধে ঘটনা ঘটে।

র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন মিডিয়াকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গতকাল ২২ অক্টবর র‍্যাব-নিহত ডা. শাহ আলম হত্যাকান্ডে জড়িত লেগুনা (জীপ) চালক ওমর ফারুক (১৯)কে আটক করে। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে হত্যার সাথে জড়িত সকলের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করে লেগুনা চালক ওমর ফারুক।

.

র‍্যাব-৭ এর একজন কর্মকর্তা মিডিয়াকে জানান, গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা নজির আহমেদ সুমন প্রকাশ কালু ডাকাতকে আটকের জন্য র‍্যাবের একটি দল সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে র‍্যাবের উপস্থিতি ঠের পেয়ে কালু ডাকাত ও তার সহযোগীরা র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও চালায় পাল্টা গুলি। গোলাগুলির একপর্যায়ে ডাকাত দল পিছু হঠে পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল তল্লাসি করে কালু ডাকাতের গুলিবিদ্ধ লাশ এবং ২টি অস্ত্র ও ২৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র‍্যাব।

রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধারকৃত ডা: শাহ আলমের মরদেহ

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাতে ডা: শাহ আলম নিজ কর্মস্থল সীতাকুণ্ড থেকে নগরীর  চান্দগাঁও এলাকার বাসায় ফিরতে একটি লেগুনায় (জীপ) উঠেন। লেগুনাটি রয়েল গেট এলাকায় পৌঁছলে আগে থেকে প্যাসেঞ্জার সেজে বসে থাকা ছিনতাইকারির একটি চক্র ডাক্তার শাহ আলমের কাছ থেকে টাকা-পয়সা এবং মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় ডা: শাহ আলম বাধা দিলে ছিনতাইকারীদের সাথে তার ধস্তাধস্তি হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা ডা: শাহ আলমকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার পর ডা: শাহ আলমের মুখ বিকৃত করে দেয় ছিনতাইকারীরা যাতে পরিচয় শনাক্ত করা না যায়। পরে কুমিরাস্থ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মরদেহটি ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

ঘটনার পরপরই ছায়াতদন্ত তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এক পর্যায়ে লেগুনা চালক ওমর ফারুককে আটকের মাধ্যমে হত্যাকান্ডের ক্লু উদঘাটন করতে সক্ষম হন র‌্যাবের চৌকস অফিসারেরা।

নিহত ডা. শাহ আলম সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ছোট কুমিরার মরহুম মাস্টার আজিজুল হকের পুত্র। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর সৌদি আরবের একটি স্বনামধন্য হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিজ গ্রামের গরীব-অসহায় মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মনোবাসনায় চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি তিনি সীতাকুণ্ডে নিজ গ্রামের শিশুদের জন্য ‘চাইল্ড কেয়ার’ নামে একটি ক্লিনিক চালু করেন। কিন্তু তার মনোবাসনা বেশিদিন স্থায়ী হতে দিলো না ঘাতকের দল।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply