সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তুরস্ক-সিরিয়া সংঘাত চরমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তুরস্কের সেনাবাহিনী ও সিরীয় বাহিনীর মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, রাস আল আইন ও তাল তামর শহরের কাছে দুই বাহিনীর তীব্র সংঘাতের কারণে হাজার হাজার মানুষ এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে বৃহস্পতিবার কুর্দি অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চলীয় শহর আফরিনে এক গাড়ি বিস্ফোরণে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছে

গত ৯ অক্টোবর সিরিয়ার তুর্কি সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চল থেকে কুর্দি বিদ্রোহীদের উৎখাতে অভিযান শুরু করে তুরস্ক। তার আগ মুহূর্তে ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। বেশ কয়েক দিনের অভিযানের পর ওই অঞ্চল থেকে কুর্দি বিদ্রোহীদের সরিয়ে দিতে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সঙ্গে আঙ্কারা পৃথক দুইটি চুক্তি করে । আট বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শুরু থেকেই ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি দামেস্ক।

অক্টোবরের শুরুতে সিরীয় কুর্দি বাহিনীর কাছ থেকে সীমান্তবর্তী গ্রাম  রাস আল আইনের দখল নেয় তুর্কি সেনারা। পরে তুরস্ক সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এসএনএ) অভিযান চালিয়ে কুর্দিদের সরিয়ে দিয়ে গ্রামটির দক্ষিণাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়।  এসএনএ জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে সেখানে আঙ্কারা ও দামেস্কের সেনাবাহিনীর মধ্যে থেমে থেমে লড়াই চলছে।

সিরিয়া ও তুর্কি বাহিনীর মধ্যে লড়াই প্রসঙ্গে  বৃহস্পতিবার তাল তামরের এক বাসিন্দা বলেন, এসএনএ শহরের পশ্চিম অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। প্রতিবার যখন কেউ এই এলাকার দখল নেয় তখন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে আর আগের সশস্ত্র গ্রুপটির দখলের চেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়। আমি আমার বাচ্চাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন, সেকারণে পালাচ্ছি।’ বিদ্রোহীদের হামলা ঠেকাতে সিরিয়ার সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার উত্তর পশ্চিম সিরীয় শহর আফরিনের একটি ব্যস্ত মার্কেটে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত আট ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তুরস্ক সমর্থিত বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা শহরটিতে এই বিস্ফোরণে আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে বিস্ফোরণের কারণে মার্কেট এলাকা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তুরস্কের নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত শহরগুলোতে প্রায়ই এধরণের গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বিস্ফোরণের জন্য কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ওয়াইপিজিকে দায়ী করে থাকে সেখানকার বাসিন্দা ও বিদ্রোহীরা। তবে কুর্দি বাহিনীর দাবি তারা তুরস্কের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গেরিলা হামলা চালিয়ে আসছে। কিন্তু বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করে তারা।

২০১৮ সালের মার্চে কুর্দি অধ্যুষিত আফরিন শহর দখলে নিতে সিরীয় বিদ্রোহীদের সহায়তা দেয় তুরস্ক।  ওই সময়ই উত্তর সিরিয়ার অভ্যন্তরে একটি বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।  আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান নিজ দল একে পার্টির নেতাদের বলেছেন, তুরস্কের কাছে তথ্য রয়েছে যে মঙ্গলবার রাশিয়া আশ্বাস দেওয়ার পরেও ওয়াইপিজি পুরোপুরিভাবে ওই এলাকা ছেড়ে যায়নি।  এরদোয়ান বলেন, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর আমরা আমাদের জবাব দেবো। যদি দেখতে পাই সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যরা ৩০ কিলোমিটারের ভেতর থেকে সরে যায়নি কিংবা হামলা চলছে তাহলে আমরা আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখার অধিকার রাখি।

সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স (এসডিএফ) এর অন্যতম সংগঠন ওয়াইপিজি। উত্তরপূর্ব সিরিয়া ও পাশ্বর্বর্তী ইরাকে আইএস বিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দেয় এসডিএফ। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আঙ্কারার চুক্তি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সিরীয় সীমান্তের কাছে তুর্কি বাহিনীর সঙ্গে যৌথ টহল দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। দেশটির পতাকাবাহী পাঁচটি সামরিক যানকে কাহতানিয়া শহরের উত্তরে টহল দিতে দেখা গেছে।

তুর্কি হামলার প্রেক্ষাপটে কুর্দি যোদ্ধাদের সম্প্রতি নিজ নিজ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিরিয়ার সেনা ও পুলিশ বাহিনী। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এসডিএফ ইউনিটের যেসব সদস্য যোগ দিতে আগ্রহী তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল কমান্ড। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, কুর্দি সংখ্যালঘুসহ সব সিরীয় নাগরিক এক শত্রুর মোকাবিলা করছে।  তবে বুধবার ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে কুর্দি বাহিনী ।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply