স্ত্রীর দুর্ব্যবহার বুঝি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা ??!!!

ডাঃ দীপু মনি

বিবাহিত পুরুষের মনোকষ্টের প্রধান কারণ নাকি স্ত্রীর বেসামাল চেঁচামেচি, কন্ঠের তিক্ততা, মেজাজের তীব্রতা, মতের বিমুখতা ইত্যাদি।
“বিয়ে করেন নি ভাই অনেক ভালো আছেন।খাল কেঁটে কুমির এনে আর ঘরে অশান্তির সানাই বাজাতে যাবেন না। স্বাধীনতাকে নিজ হাতে খাঁচায় বন্দী করবেন না।”
বিবাহিত যুবকরা সস্তায় এমন অভিজ্ঞতাপূর্ণ(!) বচন ব্যাচেলর যুবকের কাছে বিলি করেন।
এ নিয়ে স্ট্যাটাস লিখার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
কিন্তু ইসলামপন্থী কিছু যুবকদের ফেবুতে এমন স্টাটাস দেখে আর নিরব থাকতে পারলাম না।
যুবকদের অভিযোগ
তাদের – ‘স্ত্রীগণ ঝগড়াটে, তারা স্বামীর সাথে সুন্দর আচরণ করেনা, প্রতিটা মুহুর্ত স্বামীদের সন্দেহের চোঁখে দেখে, স্বামীর প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা, অনুরাগের যথেষ্ট অভাব। স্ত্রীদের অনেক কাজ প্রশ্নবিদ্ধ এবং যথেষ্ট ইসলাম পরিপন্থি।’

বিচারের মানদন্ড আমার হাতে তুলে দিলে আমি কিন্তু অভিযোগকারী যুবকদের বিরুদ্ধে রায় লিখব।
চমকে উঠলেন???
দাম্পত্য জীবনের ব্যর্থতার জন্য প্রথম দায়ী পুরুষ।
ইসলামী শরীয়ামতে স্বামী হচ্ছেন একজন স্ত্রীর এবং একটা পরিবারের দায়িত্বশীল।
দাম্পত্য জীবনের আনন্দ জান্নাতের বাগিচায় একাকার করার সুপ্রিম দায়িত্ব আপনার( অর্থাৎ স্বামীর)।

এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে এর দায়ভার আপনার। খামোখা কেন স্ত্রীর উপর দায় চাপাবেন ? ?
আপনি ইসলামিক দাম্পত্য জীবনের পাঠ ভালোভাবে স্ট্যাডি করতে পারেননি অথবা পাঠের নির্যাস চেখে দেখেননি।
এটা আপনার অপরাধ।
মনে রাখবেন,,,, আপনি আপনার স্ত্রীর দায়িত্বশীল!
আমাদের বিভ্রান্তি এই জায়গায় যে,,, আমরা স্ত্রীদের উপর দায়িত্বশীলের স্নেহের চাবুক না চালিয়ে প্রভুত্বের উদ্বত খড়গ দিয়ে দায়িত্বশীল হওয়ার চেষ্টা করি।
আপনি স্ত্রীর কাছে জল্লাদের উগ্রতা নিয়ে আবির্ভূত হয়ে কিভাবে আশা করেন স্ত্রীর থেকে কামিনি ফুলের উষ্ণ অভিবাদন?

মুহাম্মদ (সাঃ) বিশ্ববাসীর জন্য আদর্শ।
রাসূলের (সাঃ) এর দাম্পত্য জীবনে ১টি মিনিটের জন্যও অশান্তি ছিল এমন কথা ইতিহাসের কোথাও লিখা নেই।
আপনি কেমন ইসলামী পুরুষ তা আমার বুঝে আসেনা।
রাসূল (সাঃ) গৃহস্থালী কাজে স্ত্রীদের সাহায্য করতেন।
আপনি ঘরে রান্নার কাজে স্ত্রীকে কতটুকু সাপোর্ট করেন?
রাসূল(সা) স্ত্রীদের নিয়ে পারিবারিক বিনোদনের আয়োজন করতেন।
আপনি সেটা করেন?
রাসূল (সাঃ) সফরে স্ত্রীদের সঙ্গে রাখতেন।
কিন্তু আপনি ব্যবসায়িক কাজে আজ মস্কো, কাল দুবাই, পরশু তাসখন্দে ঘুরে বেড়ান।
কয়টা সফরে স্ত্রীকে সাথে রেখেছেন?
আম্মাজান আয়েশা (রা) গ্লাসের যে পাশে ঠোঁট লাগিয়ে পানি পান করতেন, মুহাম্মদ (সাঃ) সেই গ্লাসের ঠিক সেই জায়গায় ঠোঁট লাগাতেন।
আয়েশা(রা)র লালামিশ্রিত হাড্ডির চর্বিত অংশ বিশ্বনবী(সা) চিবিয়ে খেতেন।
আপনি প্রেমিকার চুষা আইসক্রিম চুষে খেয়েছেন অনেক, কিন্তু ভালোবেসে স্ত্রীর মুখে এক টুকরো গোশত তুলে দিয়েছেন কখনো?
আপনি চুরি করে সুন্দরী কলিগের চোঁখের সৌন্দর্য্য অবলোকন করেন, কিন্তু স্ত্রীর দাঁতের ঔজ্জ্বল্যতার প্রশংসা করেছেন কোনো দিন?
আপনি অফিসের চেয়ারে বসে পরনারীর সাথে কথা বলতে কোমলতার সয়লাব বইয়ে দিতে পারেন, কিন্তু স্ত্রীর অতীব প্রয়োজনীয় কথা রিসিভ করতে গিয়ে মেজাজের তিরিক্ষি আঢ়াল করতে পারেন না।
কিন্তু কেন?

পোষা কবুতর খাঁচায় পুষে রাখতে হয় না। সে স্বাধীনভাবে উড়তে পারে। তবে উড়ে গিয়ে কখনো বনে হারিয়ে যায় না। বাড়ির আঙ্গিনা পর্যন্ত তার উড়ার পরিধি। এই আঙ্গিনা তার বিচরণক্ষেত্র। এখানেই তার স্বাধীনতার আনন্দ। এই আঙ্গিনা ঘিরে তার স্বপ্ন, তার প্রশান্তি, তার ভালোবাসা।
আপনার স্ত্রীকে পোষা কবুতরের মত বিশ্বাস করুন। অন্তত পোষা কবুতরের স্বাধীনতাটুকু তাকে দিন। কবুতরের মত স্ত্রীকে আদর করুন।
নিশ্চিত থাকুন আপনার ভালোবাসার আঙ্গিনা ডিঙ্গিয়ে সে হারিয়ে যাবে না।
কবুতরের ‘বাকবাকুম’ আওয়াজে যেমন ধৈর্য্যচ্যুতির কারণ ঘটেনা, ঠিক তেমনি স্ত্রীর কথা তখন বেশি মিষ্টি, বেশি রসালো মনে হবে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply