স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র তুলে নিচ্ছে কাশ্মীরি যুবকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রবাসী ভারতীয়দের সামনে দাবি তুলেছেন, জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদাই ছিল সেখানে সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতা ছড়ানোর মূল কারণ। অন্যদিকে বিশেষ মর্যাদা লোপের পর নিরাপত্তাবাহিনীর বাড়তি কড়াকড়ি সত্ত্বেও স্বাধীনতাকামীদের একের পর এক হামলায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। কড়া কারফিউর চাদরে ঢাকা কাশ্মিরের এ রুদ্ধশ্বাস অবস্থা থেকে ভালো কিছুর ইঙ্গিত পাচ্ছেন না কেউই।

burhan wani
২০১৬ সালে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানিকে হত্যার পর সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী দলে নাম লেখানোর হিড়িক উঠে

এমতাবস্থায় ভারতের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা আনন্দবাজার তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, কাশ্মির উপত্যকার হতাশাগ্রস্ত তরুণরা সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী সংগঠনে নাম লেখাতে শুরু করেছে।

পুলওয়ামা থেকে কুলগাম- প্রতিটি হামলার সাথে স্থানীয় যুবকদের যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ছাড়াও যেভাবে কাশ্মিরের স্থানীয় যুবারা সাম্প্রতিক সময়ে হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছেন তাতে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় সরকার। আর এই প্রবণতাকে আটকানোই এখন দিল্লি সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

কাশ্মিরের পরিস্থিতি আরো ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা, যেমনটি হয়েছিল ২০১৬ সালে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানিকে হত্যার পর। মাত্র ২২ বছরের ওই তরুণের মৃত্যুর পর কাশ্মিরজুড়ে সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী দলে নাম লেখানোর হিড়িক উঠেছিল। গোয়েন্দাদের ধারণা, বিশেষ মর্যাদা লোপ ও ৩ মাসের টানা কারফিউ আবার সেরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

পুলওয়ামায় কনভয়ে হামলাকারী আদিল দার থেকে শুরু করে কুলগামে ৫ বাঙালি শ্রমিক হত্যায় জড়িত হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি গোষ্ঠীর আইজাজ মালিক, বেশিরভাগ ঘটনার সাথে জড়িত সকলেই স্থানীয়। আর ৩৭০ ধারার লোপ করার পর থেকে গত তিন মাসে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে যে কজন স্বাধীনতাকামী প্রাণ হারিয়েছেন তার ৮০ শতাংশই স্থানীয় যুবক।

গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, দক্ষিণ কাশ্মিরে উধাও হয়ে যেতে থাকা স্থানীয় যুবকরা অধিকাংশই নাম লিখিয়েছে স্বাধীনতাকামী দলগুলোয়।

এর আরেকটা বড় একটা কারণ হচ্ছে বেকারত্ব। উপত্যকার মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বয়সই ৩০ এর কম, যাদের স্থায়ী কোনো রোজগার নেই। এসব দলে ভিড়লে আয়ের উৎসও তৈরি হয়।

তাছাড়া, স্বাধীনতাকামীদের কাছে বুরহান এর মতো যুবকরা যেন রোল মডেল। এ ব্যাপারে আক্ষেপ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের দুর্ভাগ্য যে কাশ্মিরের যুবাদের আদর্শের স্থানটা দখল করে রেখেছে বুরহান আর জাকির মুসাই এর মতো স্বাধীনতাকামীরা। এদের বিপরীতে আর কাউকে দাঁড় করাতে সক্ষম হননি তারা।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply