স্মার্টফোন নয়, বইয়ের মাধ্যমেই শিশুর বিকাশ চান অভিভাবকরা

[ad_1]

গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ থেকে: লাল টুকটুকে জামা পরে মায়ের হাত ধরে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বইমেলা এসেছে মানহা আর আয়রা। তাদের একজনের বয়স তিন বছর, আরেকজনের পাঁচ। তবে দুজনের হাতেই যখন বই উঠেছে, তখন তারা বেশ বিজ্ঞজন! অক্ষর না চিনলেও বইয়ের পাতা উল্টে উল্টে তবেই পড়া! আর ছবি তুলতে চাইলেতো লজ্জারাঙা খুনসুঁটিতে তাকানো একজন আরেকজনের দিকে।

শুক্রবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সচেতন অভিভাবকদের সঙ্গেই ছোট ছোট শিশুদের হাসি, উল্লাস, দৌড়াদৌড়ি, খুনসুঁটি, মান-অভিমান, বড়দের সঙ্গে আড়ি, ঝগড়া, কান্না, লাফালাফি আর আবদারের মধ্য দিয়ে জমে উঠে অমর একুশে গ্রন্থমেলার ষষ্ঠ দিন ও প্রথম শিশু প্রহর।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই গ্রন্থমেলার মাঠে নতুন বই আর প্রিয় চরিত্র ‘হালুম-ইকরি-শিকু-টুকটুকি’কে দেখার জন্য শিশুরা অপেক্ষা করছিলো বাবা-মায়ের হাত ধরে। এক একটি স্টলে ঢুকে রংবেরংয়ের বই নেড়েচেড়ে দেখছে তারা। কিনে নিচ্ছে পছন্দের বইটি।

অক্ষর চেনে না, বই কি বোঝে না- এমন শিশুদেরও বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে তাদের বইমেলায় নিয়ে আসতে ভুল করেননি অনেক অভিভাবক। বলা যায়, হাজারো বইয়ের সঙ্গে নিজের সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দিতে শিশু প্রহরের সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন সচেতন অভিভাবকরা।

এ প্রসঙ্গে মানহা ও আয়রার মা ডা. শারমিন জোয়ার্দ্দার বাংলানিউজকে বলেন, অল্প বয়স থেকেইতো ওরা চিনতে শিখবে। এখনতো বাচ্চারা শুধু টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমি চাই না আমার বাচ্চারাও তেমন হোক। আর বইতো সবকিছুর জন্যই ভালো, চিন্তা চেতনার বিকাশ, মেধার বিকাশ, সবকিছু বইয়ের মাধ্যমে সম্ভব। বইয়ের মাধ্যে ওর পুরো চরিত্রেরও বিকাশ সম্ভব। আর এজন্যই চাই ছোটবেলা থেকেই ওরা বই চিনুক।

মেলায় আগত আরেক অভিভাবক মো. তারেক খানের অভিমতও ঠিক এমনই। ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সহকারী এই পরিচালক বাংলানিউজকে বলেন, একটা সময় ছিল যখন আমরা গ্রামে উঠোনে বসে সবাই একসঙ্গে বই পড়তাম। এখন কিন্তু সেটি নেই। বরং এখন সবাই একসঙ্গে বসে মোবাইলে ব্যস্ত থাকে। এতে করে আমাদের সন্তানের বিকাশটা বাধাগ্রস্থ হয়, একটা নির্দিষ্ট জায়গাতেই আটকে থাকে। বই ঠিক তার উল্টো। বই চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে শিশুসহ আমাদেরও আরো বেশি মননশীল করে তোলে, একজন ভালো মানুষ হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিশু চত্বরে কথা হয় বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক ও শিশু সাহিত্যিক আনজীর লিটনের সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, শিশুদের আনাগোনা বইমেলায় অন্যরকম একটা আবহ তৈরি করেছে। শিশুরা যেভাবে এই মেলায় অংশ নিচ্ছে, সেটি আমাদের জন্য একটি প্রেরণার অংশ। তবে শুধু অংশগ্রহণ নয়, শিশুদের অবশ্যয় বই পড়তে হবে। শিশুরা নিজে হয়তো তার জন্য সঠিক বইটি চিনে নিতে পারবে না, এক্ষেত্রে অভিভাবকদের অনেক সচেতন হতে হবে যেকোনো বই শিশুর হাতে দেওয়া হবে না। আমাদের যে কালজয়ী সাহিত্যগুলো আছে, পুরনো দিনের যে লেখাগুলো আছে, সেগুলোতো অবশ্যই পড়বে, পাশাপাশি শিশুদেরকে সমকালীন লেখাগুলোও পড়তে হবে। কারণ লেখার মধ্যে সমকালীন চিত্র ফুটে ওঠে।

এছাড়া অভিভাবকেরা একটু সচেতন হলে, শিশুদের জন্য তাদের ইচ্ছে এবং প্রেরণা থাকলে শিশুরা অবশ্যই সমৃদ্ধ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি আগের তুলনায় শিশুদের বইগুলো এখন অনেক ভালো মানের হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন এই শিশু সাহিত্যিক।

শিশু প্রহরে শিশুদের বইয়ের বিকিকিনিও ভালো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেক প্রকাশক। তবে তাদের প্রত্যাশা এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং অভিভাবকরাও আরো সচেতন হবে শিশুদের নিয়ে। স্মার্টফোন বা কম্পিউটার গেমসের পরিবর্তে শিশুদের হাতে উঠবে বই, এমনটাই আশা তাদের।

বাংলাদেশ সময়: ১৮২২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২০

এইচএমএস/জেডএস



[ad_2]

Source link

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply