সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ শাহ্’র ইন্তেকাল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতাহাস বিভাগের মেধাবী শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহ্ আজ রাত (২৯/০৯/১৯) সাড়ে ১০টার সময় ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহে রাজিউন…..

উল্লেখ্য, গত ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং সকাল ১১ টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হাটহাজারী প্রধান সড়কে সিএনজি অটোরিকশা সাথে বিপরীতমুখী দ্রুতগতি’র বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি অটোরিকশা’র ড্রাইভার সহ ৩ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। ঐ সিএনজি অটোরিকশা’র আরোহী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহ্কে গুরুতর আহতাবস্থায় চট্টগ্রাম নগরীর জি.ই.সি মোড় সংলগ্ন মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয় লোকজন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনদি ঘটলে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হসপিটালে।

মরহুম প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহ্’র পরিচিতি:

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহ্

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহ্ ফেনী জেলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। তিনি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামের ক্বারী ইবরাহীম সাহেবের বাড়ীর হাকিম মৌলভী মজিবুল হকের জৈষ্ঠ পুত্র এবং ৬৫’র ভারত পাকিস্তানের নৌ যুদ্ধে ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশের পক্ষে নিয়মিত নৌ- সেনা হিসাবে অংশ গ্রহনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম লেঃ কমান্ডার মোহাম্মদ নুরুল্লাহ মিঞা (এক্স) বি.এন- এর আপন চাচাতো ভাই।

ছাত্র জীবন থেকেই মোহাম্মদ শাহ প্রচন্ড মেধাবী ছিলেন। তিনি নবাবপুর আমিরাবাদ বি সি লাহা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশনে (এসএসসি) স্টেন্ড করে পাশ করেন। বৃহত্তর নোয়াখালী’র মধ্যে একমাত্র তিনিই স্টেন্ড করেন এবং সম্মিলিত মেধা তালিকায় তিনি ৩য় হয়েছিলেন। এরপর তার বড় ভাই মরহুম মৌলভী সাইফুল্লাহ মিঞা’র দিক নির্দেশনায় চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্র জীবন শুরু করেন। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা শেষে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ পেয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও তার প্রচন্ড মেধাশক্তি’র পরিচয় পেয়ে যুক্তরাজ্যে হতে সর্বোচ্চ ডিগ্রি পি.এইচ.ডি নেওয়ার সুযোগ করে দেন। ৮০’দশকে বাংলাদেশে যে কয়জন ডক্টরেট ছিলেন তার মধ্যে প্রফেসর মোহাম্মদ অন্যতম।

এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকের ডক্টরেট করা শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন অন্যতম। শিক্ষকতা জীবনে তিনি কবি আলাউল হলের প্রভোস্ট, ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান, কলা অনুষদের ডীন, চট্টগ্রাম ভাটিয়ারীস্থ সেনাবাহিনী’র অফিসার ক্যাডেট একাডেমি বি এম এ’র গেষ্ট প্রফেসর হিসেবে বহু ক্যাডেট অফিসারের প্রাণপ্রিয় শিক্ষক হিসাবে সুনামের সহিত শিক্ষা দান করেছিলেন। চাকুরীর মেয়াদ পূর্ণতা স্বাপেক্ষে ২০১৭ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে অবসর গ্রহণ করেন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply